প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

সাক্ষাৎকারে বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টায়, পরিস্থিতির সাথে সাথে মানুষ তার সিদ্ধান্তটি নেয়, নিশ্চয়ই দলও এর বাইরে নয়

শাহানুজ্জামান টিটু : সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির একমাত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা মুখোমুখি হয়েছিলেন আমাদের সময় ডট কমের রাজনৈতিক প্রতিবেদক শাহানুজ্জামান টিটুর। কথা বলেছেন দল, ভারত চীনসহ আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে বিএনপির সর্বশেষ অবস্থান, মুজিববর্ষ পালন, বিএনপির সঙ্গে জাপার যোগাযোগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে। তার সাক্ষাৎকারটি এখানে দেয়া হলো-

প্রশ্ন : সংসদে বিএনপি, বললেন সংসদে যাবেন না, আবার গেলেন, এখন বলছেন কৌশল। এই কৌশল বলে পক্ষান্তরে আপনারা দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঠকাচ্ছেন?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমাদের এই নির্বাচনে যাওয়া, নির্বাচনের পরবর্তীতে ফলাফল প্রত্যাখ্যান, শপথ না নেয়া এবং পরবর্তীতে শপথ নেয়া, এসব নিয়ে জনমনে এক ধরনের বিভ্রান্তি হয়েছে বলে মানুষ মনে করে। বিশেষ করে সরকারের পক্ষে যারা কথা বলেন, বিরোধীদলকে যারা ক্রিটিসাইজ করেন, তাদের মধ্যে এ ধরনের বিভ্রান্তির কথা আমরা বেশি শুনতে পাই। ম‚লত এর একটা প্রেক্ষাপট আছে, ২৯ডিসেম্বর যে নির্বাচনটি রাতে হয়ে গেছে, সেই রাতে নির্বাচন কি ধরনের হয়েছে তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, টিআইবি রিপোর্ট, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে সেই নির্বাচনের কথা উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি হয়েছে সেখানে, এমনকি ১৪ দলের যে শরিক দল আছে তারাও কিন্তু এ নির্বাচনকে সমালোচনা করেছে। নির্বাচনটি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ভাবে একটি প্রত্যাখ্যাত নির্বাচন। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ সাড়ে ১০কোটি ভোটার। এদেরকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় তারা ভোট দিতে পেরেছে কিনা মানুষ বলবে পারেনি। এটা আমরা সকলেই জানি অর্থাৎ নির্বাচন ছিল সম্প‚র্ণভাবে পুলিশ এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রিত একটি নির্বাচন। সেই নির্বাচনে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

সেই নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগ সরকার ২৯৩টি আসন পেয়েও তার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে এই কারণে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেনি। অর্থাৎ নিজেদের জয়ের কারণ ব্যাখ্যার চেয়ে বিএনপির কি কারণে নির্বাচিত হতে পারেনি তা নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে তারা। বিএনপির পরাজয়ের কারণ তাদের কাছে মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২৯৩টি না হলেও চলত এটা চেয়ে বেশি হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিকভাবে এটা কিন্তু তারাও বুঝেছে। এরকম প্রেক্ষাপটে যে বিএনপির প্রতিক্রিয়া ছিল, তখন আমরা বলেছি সংসদে যাবো না। এ নির্বাচন আমরা মানি না। আমরা এই অবৈধ সংসদে বসবো না।

প্রশ্ন : অনেকে বলেন, সংসদে যোগ দেয়ার পেছনে সরকারের সঙ্গে একটা সমঝোতার গোপন যোগ সূত্র আছে?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা: পরবর্তীতে আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়েছে। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি আছে, স্থায়ী কমিটি আছে, আমাদের পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছেন আমাদের বিএনপি চেয়ারপার্সন আছেন, আমাদের যে চেইন অফ কমান্ড, সে চেইন অফ কমান্ড এ আমরা আলাপ আলোচনা করেছি। যেহেতু বিএনপিকে একটা সভা-সমাবেশ জনসমাবেশ যেটাই বলেন না কেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বিএনপিকে অনুমতি নিতে হয় এবং বিশেষ করে বড় জনসমাবেশগুলোতে একেবারেই অনুমতি দেয়া হয় না।

অর্থাৎ দশটি চাওয়া হলো কিন্তু সেখান থেকে একটিতে অনুমতি দেওয়া হলো। ৪৪/৪৫টি শর্ত দেয়া হলো, সেই সত্য মেনে একটি বড় রাজনৈতিক দল কখনো জনসভা করতে পারে না। এরকম পরিস্থিতিতে সংসদে সামান্য স্পেসটুকু বিএনপি পাবে, এই অল্প জায়গাটুকু আমরা ব্যবহার করতে পারবো। দেশ, মানুষ, জাতি ও দলের কথা বলবার জন্য সেই জায়গাটুকু ব্যবহার করার জন্যই মুলত আমাদের সংসদে যাওয়া। হ্যাঁ বলতে পারেন, আগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এটা সাংঘর্ষিক! হতে পারে! সময়ের সঙ্গে দল তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে অতীতে বহু নজির আছে।

এবং আমরা এটাও দেখেছি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টায়। পরিস্থিতির সাথে সাথে মানুষ তার সিদ্ধান্তটি নেয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের আলাপ আলোচনার মধ্যে এটাই বেরিয়ে এসেছে, এখন সংসদের যাওয়া এবং সেই রাস্তাটিকে ব্যবহার করা। বিএনপি’র জন্য, বিএনপি দল হিসেবে নেতাকর্মী সমর্থকদের জন্য জরুরি। সে কারণেই আমাদের সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন : আন্দোলন যা হচ্ছে তাতে খালেদা জিয়ার মুক্তির আশা দেখছেন না দলের নেতাকর্মীরা। রাজপথের আন্দোলন থেকে কি বিএনপি সরে যাচ্ছে?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : দেখুন রাজনীতিতে গুজব বড় ভয়ঙ্কর। আমরা প্রথমে একটা গুজব শুনেছিলাম, বিএনপি নির্বাচনে গেলে ম্যাডাম মুক্তি পাবেন। অর্থাৎ বিএনপি নির্বাচনে যাওয়া ম্যাডামকে মুক্তি দেয়ার জন্য। আমরা দেখেছি সেটা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আবার কথা হয়েছে শপথ নিলে, যেটা আপনার আগের প্রশ্নে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়েছে কিনা? এই কারণে শপথ নিলে ম্যাডাম মুক্তি পাবেন। আমরা শপথ নিয়েছি। এক মাস হয়েছে। ম্যাডামের তো মুক্তি হয়নি। এমনকি সংরক্ষিত আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু ম্যাডামের কেন মুক্তি হয়নি। কিন্তু আপনি জানেন যে, কেরানীগঞ্জে কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে। সুতরাং পিছনের দরজা দিয়ে বিএনপি সমঝোতা করে, সরকারের সঙ্গে কোন আপোস করে, মীমাংসা করে মুক্তি পাবার মানুষ বেগম খালেদা জিয়া নন।

বিএনপির এ নেত্রী বলেন, তিনি একজন আপোষহীন নেত্রী হিসেবে মানুষের মনে প্রাণে স্থান করে নিয়েছেন। তার আশির দশকে আপোষহীন ভ‚মিকার কারণে এবং দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি আজকের গণ মানুষের নেত্রী হয়েছেন। মানুষের প্রাণের নেত্রী হয়ে উঠেছেন। তারপর তার ওয়ান ইলেভেনের সময়ে আপোষহীন নেতৃত্ব ও ভ‚মিকা দেখেছেন। যদি তিনি আপোষই করতেন তাহলে ওয়ান ইলেভেনের পরে যে নির্বাচন হয়, তখন বিএনপি ক্ষমতায় আসতো। উনি আপস করতে শেখেননি। এই শব্দটি উনার জীবনের অভিধানের নেই।

পরবর্তীতে আমরা দেখেছি স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। ১০ বছর তিনি সংগ্রাম করেছেন। সংগ্রাম করে আজকে তিনি কারাবরণ করেছেন। দেড় বছরের উপরে তিনি কারাগারে। আপনি যদি একজন আইনজীবী হিসেবে আমাকে প্রশ্ন করেন, তার মামলার মেরিট, তার দোষ, তার সামাজিক অবস্থান, জেন্ডার সবকিছু বিবেচনায় আনেন। তাহলে তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য। কিন্তু তাকে জামিন না দিয়ে, সরকার নানান ধরনের নাটক করছে। প্যারোল শব্দটি বিএনপি তো কোনদিন উচ্চারণও করেনি। এই শব্দটা সরকার মাঠে ছেড়ে দিয়েছে শুধুমাত্র জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে জনগণকে বিভ্রান্ত করে এবং জনগণকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে। সে কারণেই তারা নিজেরাই যা যা পরিকল্পনা করে ক’টকৌশল চাল করে, সেগুলো তারা অন্যান্য দলের নাম দিয়ে বাজারে ছেড়ে দেয়। সুতরাং আওয়ামী লীগের এই কৌশলের মধ্যে বিএনপি নেই।

প্রশ্ন : কোন পথে বিএনপির রাজনীতি? বিএনপি আসলেই কি আন্দোলনে করতে আপনার দল অক্ষম?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আপনি যদি কাউকে হাত পা বেঁধে সাঁতার কাটতে বলেন তার পক্ষে সাঁতার কাটা সম্ভব না। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতার আজকে ৪৮ বছর। এই ৪৮ বছরে এই সরকারের মতো এতো ফ্যাসিস্ট এতটা একনায়কতান্ত্রিক স্বৈরাচারী সরকার অতীতে বাংলাদেশে আসেনি। একটা স্বৈরাচারী সরকারের যা যা বৈশিষ্ট্য থাকে তার প্রত্যেকটা বৈশিষ্ট্য এই সরকারের রয়েছে। আপনি যদি ফ্রিডম হাউজের রিপোর্ট দেখেন, আপনি যদি জার্মান গবেষণা সংস্থা বেরটেলসমান স্টিফটুং এর রিপোর্ট দেখেন, আপনি যদি ইকোনোমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এর রিপোর্ট দেখেন, প্রত্যেকটা রির্পোট বলছে, বাংলাদেশে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার। এই স্বৈরতান্ত্রিক সরকারকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হটানো যা কোনো উদার গণতান্ত্রিক সহিষ্ণু কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে সহজ বিষয় নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আপনি জানেন ১ লাখের উপরে মামলা। ২৬ লক্ষ আসামি। বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা এলাকায় যেতে পারে না। ঘরে ঘুমোতে পারে না। গুম, বিচারবহির্ভ‚ত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। দুদিন আগে মাহফুজ আনাম এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমি লিখতে চাই কিন্তু আমি লিখতে পারি না। বাংলাদেশের মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম, বেস্ট অফ বেস্ট কোনো গণমাধ্যমের সম্পাদক যখন বলেন, আমি লিখতে চাই কিন্তু লিখতে পারি না। এই যখন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবস্থা। যখন তারেক রহমান সাহেবের রায় হলো সেই বিচারপতিকে দেশ ছাড়তে হলো। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হলো। এই হলো বিচার বিভাগের অবস্থা। সুতরাং রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে একদম কম জোর করে একচ্ছত্রভাবে দলীয় আধিপত্য কায়েম করা হয়েছে। এরকম একটা অবস্থায়, একটি রাজনৈতিক দল যে মামলা হামলা ব্যাপক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে তারা সরকার পতনের আন্দোলন করে রাস্তায় সরকার নামিয়ে ফেলবে এটা কিন্তু এখন সেই সময় নয়। সুতরাং বিএনপির সফলতা সেখানেই। ১৩ বছর বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। বিএনপি কিন্তু ভাঙে নাই। বিএনপি নেতাকর্মীরা কিন্তু বিএনপিকে ছেড়ে চলে যায় নাই। তারা অসহনীয় অবনর্ণীয় নির্যাতন সহ্য করেছে কিন্তু তারা বিএনপির সঙ্গে আছে এটাই হলো বিএনপি’র সফলতা।

প্রশ্ন : কৃষক ধানের দাম পাচ্ছে না। এছাড়া গ্যাস বিদ্যুৎ, রামপালে কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ বেশকিছু জনসম্পৃক্ত ইস্যু হাতে পেয়েও কার্যকর কোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থতার এমন অভিযোগ শোনা যায়। তাহলে কি বিএনপিতে নেতৃত্বের সংকট চলছে বা যোগ্য নেতা নেই?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আপনারা দেখেছেন ধানের দাম থেকে শুরু করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত প্রত্যেকটি আন্দোলনেই কিন্তু বিএনপি সমর্থন জানিয়েছেন সাধ্যমত। যারা ভিকটিম তাদের পাশে গিয়ে দাড়িয়েছে। সাধ্যমত দলগুলো যারা আন্দোলন করছিল তাদের সাথে বিএনপিও মাঠে ছিলো। সুতরাং বিএনপির আন্দোলনগুলোর সাথে ছিল না কথাটি সঠিক নয়। কিন্তু যে কথাটি এখানে উল্লেখযোগ্য সেটা হলো আমরা তো রাজনৈতিক আন্দোলনের কথা বললাম। আর অরাজনৈতিক আন্দোলন আমরা যদি একটু দেখি, ধানের দাম নিয়ে কতটা অসহায় হলে কৃষক নিজেই নিজে তার ধানে আগুন দিতে বাধ্য হয়েছে। সেটা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বললেন ষড়যন্ত্র।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে ছোট করার জন্য, সরকারকে হেয় করার জন্য কৃষকরা ধানে আগুন দিচ্ছে। দুদিন আগে হাছান মাহমুদ বললেন, বিএনপি জামায়াতের একটা ষড়যন্ত্র এটার মধ্যে আছে। অর্থাৎ একেবারেই জনবিচ্ছিন্ন সরকার এই ধরনের আন্দোলনগুলোকেও দমন করবার জন্য তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে। আমরা দেখেছি কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কিভাবে সরকার এই আন্দোলনকে দমন করেছে। ছোট ছোট শিশুদের উপর সরকার নির্মম নির্যাতন করেছে দ্বিধা করেনি। সুতরাং এই পরিস্থিতি থেকে আপনি বুঝতে পারেন চারিদিকে এক ভয়ের সংস্কৃতি গ্রাস করছে।

তিনি বলেন, আমাদের চিরায়ত রাজনীতির যে ধারা, সে ধারাটা কিন্তু পাল্টে গেছে। যে ধারায় মিছিল-মিটিং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আপনার মত প্রকাশ করা, প্রতিবাদ জানানোর যে প্রক্রিয়া ছিল সেই প্রক্রিয়া কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এখন উঠে গেছে। না হলে একজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ১০০ উপরে মামলা হয়। ভুল স্বীকার করার পরও যখন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পাস হয়ে যায়। তারপর একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন হতে থাকে। যখন এরকম ভিডিও বের হয়, অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়ে যায়, সেটা নিয়ে কোনো মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যম রিপোর্ট করার সাহস করে না। এবং যখন দেখা যায় একটার পর একটা মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, গুমের শিকার হচ্ছে আজকের পত্রিকায় এসেছে গত ১০ বছরে হারিয়ে গেছে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ মানবাধিকার সংস্থাগুলো রিপোর্ট ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষ এবং তাদের একটাই চাওয়া আমাদের বা আমার পরিবারের যে ব্যক্তিটি হারিয়ে গেছে তার লাশটা অন্তত আমাদের কাছে ফিরিয়ে দাও। এই যে চতুর্পাশে অনাচার অবিচার চলছে। মিজানুর রহমান খান মানবাধিকার সংস্থার সাবেক চেয়ারম্যান যখন বলেছিলেন, দেশে আইনের শাসন বলতে এখন আর কিছু নাই। দেশের ন্যায় বিচার বলতে এখন আর কিছু নাই। এই যে আইনের শাসন ন্যায়বিচার নাই তার কারণটা হচ্ছে বাংলাদেশ একটা জবাবদিহিতাহীন সরকার আছে।

বাংলাদেশে একটা সরকার যে আছে যে গত ১৪ সালের পর থেকে জনগণের ভোট চুরি করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে বসে আছে। সুতরাং তাদের নির্ভরশীলতার জায়গা থাকে পুলিশ ও প্রশাসন। সুতরাং আমরা দেখি, এই সরকারকে এতটাই জনবিচ্ছিন্ন হতে। তাই একটা জনবিচ্ছিন্ন সরকার জনগণের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ম‚ল্যবৃদ্ধি তাতে কিন্তু এই সরকারের যায় আসে না। আবার আপনি যদি এটা নিয়ে আন্দোলন করতে চান, তাহলে আপনার উপরে নির্মম নির্যাতন নেমে আসবে। এতো অত্যাচার নির্যাতন কিন্তু এরশাদের সময় হয়নি। এরশাদকে আমরা স্বৈরাচারী বলি। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ পরস্পরের ভাই। এই দুই স্বৈরাচারী ভাই যখন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দ‚ত এরশাদ তখন কিন্তু উনি বলেছিলেন, লোকে আমাকে স্বৈরাচারী বলে। কিন্তু এই সরকার তো তার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি স্বৈরাচার। এক ভাই আরেক ভাইয়ের পরিচয় দিয়ে দিয়েছে। এরকম অবস্থায় যে গণতান্ত্রিক মুভমেন্টের কথা আপনি বলছেন সেই ধারাটা পাল্টে গেছে।

প্রশ্ন : তাহলে জনগণকে কি বলবেন?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা: এখান থেকে বের হওয়ার জন্য একটি দলের পক্ষে আন্দোলন করে দাবি আদায় করা সম্ভব না। জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ আছে, আপনি যদি গণপরিবহনে চড়েন সেখানে আপনি শুনবেন, আপনি কোন টি স্টলে যান, কোন চায়ের দোকানে আড্ডায় বসেন বুঝতে পারবেন যে সাধারণ মানুষের পালসটা কেমন।

প্রশ্ন : আপনি বলছেন মানুষের এই ক্ষোভ এবং পালসের যে কথা আপনি বলছেন এটাকে সংগঠিত করার দায়িত্ব তো বিরোধী দলের এখানে আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন কেন? তাহলে কি আপনারা ব্যর্থতা হচ্ছেন?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমি মনে করি জনগণ আমাদের সাথে ভীষণ ভাবে সম্পৃক্ত। এই যে দেখুন ভয়ঙ্কর সেপ্টেম্বর। নির্বাচনের আগে প্রথম আলোতে একটা সংবাদ ছাপা হয়েছিল। যেখানে দেখা গেছে, চার হাজারের উপরে মামলা হয়ে গেছে। শুধু সেপ্টেম্বর মাসে গায়েবি মামলা যেখানে ৪ থেকে ৫ লক্ষ আসামি করা হয়েছে। সেই মামলাগুলোতে দেখবেন, একেবারে পঙ্গু, মৃত, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি, হজ্বে যাওয়া ব্যক্তি, বিদেশে যাওয়া ব্যক্তি তাদের সবার নামে মামলা হয়েছে। অর্থাৎ এই সরকার কিন্তু এখন বিচার করছে না। এখন হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম সরকার। একেবারেই জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেছে এই সরকার।

তিনি বলেন, আজকের আন্দোলন জমছে না বলে, আজকে একেবারে আমরা জ্বালাও- পোড়াও করে সরকারের নামিয়ে ফেলতে পারছি না বলে, আগামীকাল যে করতে পারব না তা কিন্তু নয়। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। মানুষের মধ্যে কষ্ট আছে। বঞ্চনা ও দুঃখ আছে এবং সর্বোপরি মানুষের মধ্যে অপমাণিত হবার একটা বোধ আছে। তাদের একদিনের যে ক্ষমতা, জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবার, সেই ক্ষমতটা তাদের হাত থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সেই জনপ্রতিনিধি বাছাই করবার ক্ষমতাটা জনগণের হাত থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। এই ক্ষোভ জনগণের আছে এবং এটা বিস্ফোরণ যথাসময়ে আপনারা দেখবেন।

প্রশ্ন : গুঞ্জন রয়েছে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক হয়েছে বা কথা হয়েছে?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : এ বিষয়ে আমি আসলেই কিছু জানি না। আমার কোন ধারণা নেই। তবে আমি মনে করি, যে বা যারাই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে সেটা দল হতে পারে, ব্যক্তি হতে পারে, কোন সংগঠন হতে পারে, কোন আন্দোলন হতে পারে যাই, হোক না কেন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি নেই।
প্রশ্ন : তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার? এটা কতটুকু সম্ভব?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : দেখুন, ব্রিটিশ সরকার স্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছে যে বৃটেনের আইন অনুসারে এটা সরকারের কিছু করার নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা দুঃখ লাগে বলতে, উনি যে মামলায় খালাস পেলেন সেই বিচারকের দেশত্যাগ করতে হলো। সুতরাং উনার জীবনের নিরাপত্তা নেই বাংলাদেশ। এই বিষয়গুলো যখন আন্তর্জাতিক বিশ্ব জানে তখন এটা খুবই স্বাভাবিক তাদের আইন অনুযায়ী কখনোই গুরুত্বপ‚র্ণ ব্যক্তি কে ফিরিয়ে দেবে না। আমি এটা নিয়ে শুধু এটুকুই বলতে চাই, যথাসময়ে উনি বাংলাদেশে ফিরে আসবেন। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে আগামীর নেতৃত্ব জনাব তারেক রহমানের হাতে।

প্রশ্ন : কিন্তু তার নেতৃত্ব নিয়ে বির্তক আছে দলের মধ্যে ও বাইরে। শোনা যায়, কোনো কোনো দেশের আপত্তিও রয়েছে তার নেতৃত্ব নিয়ে। এর সত্যতা কতটুকু?

ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা : দেখুন দলের মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। কোন বিভক্তি নেই। বিভ্রান্তির নেই। কোন বিভেদ নেই। আমাদের যে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আছেন। তাদের মধ্য থেকেই দলীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এবং যে ব্যাপারটি আপনি বলছিলেন, আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা আগে নিজেদেরকে প্রশ্ন করি, যদি আমরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকি তাহলে বাংলাদেশের নেতা কে হবেন তা পার্শ্ববর্তী দেশ ঠিক করে দেবে না বাংলাদেশের মানুষ ঠিক করবে।

প্রশ্ন : লন্ডনের একটি ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, একারণেই খালেদা জিয়ার মুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা: দুঃখ লাগে আমাকে নিজে থেকেই এই প্রসঙ্গটি আনতে হয়েছে কোন সাংবাদিক, না কোন টিভি চ্যানেল আমাকে এই ধরনের প্রশ্ন করেনি, আমরা দেখেছি, এই সরকারের সময়ে মানুষ বিচার চায়। বিচার কি চাওয়ার ব্যাপার এটাতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা। একটা অন্যায় যদি হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে দেশে আইন আছে, আদালত আছে, প্রশাসন আছে বিচার করার। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইতে হবে। অর্থাৎ বিচার বিভাগ ও আইন আদালত এখন সবকিছু চলে গেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

তিনি বলেন, যে অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে এটার কথা বহু টকশোতে আমি বলেছি, আমার ইন্টারভিউতে বলেছি। বাংলাদেশে কোন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাহস হয়নি। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার আগে রিপোর্ট তৈরি করে প্রচার করার। এতো ভয়ের সংস্কৃতিতে আমরা থাকি। এই অডিওটি আপনি যদি মনোযোগ সহকারে শোনেন, নিশ্চয়ই আপনি তা শুনেছেন। সেখানে আপনি শুনবেন, সেখানেই তো খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারটি খুব স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি যিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী যদি মুক্তির ব্যাপারে অনুমতি না দেন তাহলে বাংলাদেশে কেউ মুক্তি পাবে না। মুক্তি পেতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়াও তো নয়।

এই জন্যই আমি বলছি, যে মামলার মেরিট বিবেচনা, তার বয়স বিবেচনা, তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায়, জেন্ডার বিবেচনায়, বাংলাদেশের আইনে তিনি জামিন লাভের হকদার, জামিন তার হক। তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাজনৈতিক ভাবে তাকে অপদস্ত করার জন্য তাকে একটা নির্জন কারাগারে বিনা চিকিৎসায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি যখন কারাগারে গেছেন। তিনি হেঁটে গেছেন। আজকে তিনি হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। আজকের বিছানা থেকে উঠতে তার দুজন সাহায্যকারী দরকার হয়। তার এই স্বাস্থ্যের অবনতি জন্য সরকার দায়ী। একমাত্র সরকার দায়ী এবং যদি কোন খারাপ কিছু ঘটে তার স্বাস্থ্যের যদি আরো অবনতি হয় তাহলে এই সরকারকে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।

প্রশ্ন : আপনারা বলছেন খালেদা জিয়া অসুস্থ আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরকার বলছে তিনি সুস্থ জনগণ কোনটি বিশ্বাস করবে?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আপনারা সাদা চোখে যেটা দেখবেন সেটাই বলবেন। আপনারা গণমাধ্যমে আপনাদের সুযোগ হয় তাকে দেখার। উনি যখন আদালতে যান কিংবা হাসপাতালে যান তাকে আপনারা দেখেন। কি অবস্থায় তিনি জেলে গেছেন আপনারা দেখেছেন। সেই সময়ের ছবি দেখেছেন, তুলেছেন। আজকে তার চেহারা দেখুন, তার আগের ছবিগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে সেই দুটি ছবির পার্থক্য আপনারা করেন। বাংলাদেশের মানুষ অতো বোকা না। কাউকে রামছাগল ভাববেন না।

প্রশ্ন : বিগত বছরগুলোতে ভারতের মোদী সরকারের সঙ্গে সুসর্ম্পক গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি, কেন পারলেন না? ভারতের সঙ্গে আগামীর সর্ম্পক কেমন হবে আপনাদের?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমি মনে করি, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিশ্চয়ই বন্ধুত্বপ‚র্ণ সম্পর্ক আছে। কংগ্রেসের সঙ্গে আছে। বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কিন্তু বন্ধুত্ব করবার ব্যাপারে আগ্রহ আছে। কিন্তু বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বন্ধুত্বের বিষয়ে বিএনপির আগ্রহী নয়। বিএনপি বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বের ব্যাপারে বিশ্বাসী এবং সেটা হতে হবে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমরা দেখেছি কিভাবে নিলর্জ্জভাবে সেই সময়কার ভারত সরকার আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে নাক গলিয়েছে। একটা অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেবার চেষ্টা করেছে। কিভাবে জাতীয় পার্টিকে কানে ধরে বিরোধী দল করা হয়েছে। জোর জবরদস্তি করে এরশাদ সাহেবকে নির্বাচনে আনা হয়েছে। তিনি নির্বাচন করতে চান নাই। শুধুমাত্র অবৈধ জনবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার এসেছে তাকে বৈধতা দেয়ার জন্য ভারত যা করেছে এটা সত্যি ন্যাক্কারজনক। এটা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের একটা ক্ষোভ আছে কিন্তু বিএনপি যেটা মনে করে বিজেপি বা কংগ্রেস বলে কথা নয়, দুটি দেশের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপ‚র্ণ সম্পর্ক। যদি সেটা হয় তাহলে কিন্তু অটোমেটিক্যালি একটা দেশ আর একটা দেশের অভ্যান্তরিন বিষয়ে নাক গলাবে না। এখন যেহেতু বিজেপি ক্ষমতায় আবারো পুনঃনির্বাচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আহবান থাকবে বিজেপি সরকারের কাছে, আমাদের দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো রয়েছে- যেমন তিস্তা একটা বড় ইস্যু ৫০টিরও অধিক নদীর পানি বন্টন বা ভাগাভাগি, তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বৈষম্য বা বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে দুই দেশের মধ্যে এটা অনেক বড় একটা ইস্যু। আসামে তারা নাগরিকত্ব আইন করে আসাম থেকে তারা লোক বাংলাদেশ দিয়ে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা নিচ্ছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও তাই। সুতরাং এই জায়গাগুলোতে যাতে তারা দৃষ্টি দেয় এবং আমরা বলবো যে, আমাদের সীমান্তে হত্যা কলঙ্কজনক। ভারত কিন্তু চায়নার সঙ্গে সীমান্ত শেয়ার করে। এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গেও। আর ভালো বন্ধুত্ব ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে। তাহলে কেন আমাদের লোকগুলো মৃত্যুবরণ করতে হয়, কেন তাদেরকে হত্যা করা হয়। কেন শুধু আমাদের লোকগুলো হত্যার শিকার হতে হয় বিএসএফের হাতে। এই বিষয়গুলো ভারতকে মাথায় রাখতে হবে। কারণ ভারতের দুপাশে পাকিস্তানকে নিয়ে ভারত ঘর করতে পারবে না। ভারতকে বুঝতে হবে বাংলাদেশের মানুুষ মানুষের মধ্যে তীব্র ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট রয়েছে। আমি আশা করবো বিজেপি সরকার নিরপেক্ষভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করবে।

প্রশ্ন : শোনা যায়, ভারতের বেশ কিছু জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নের জবাব বিএনপি দিতে পারেনি যেকারণে তারা বিএনপিকে বিশ্বাস করতে বা আস্থায় নিতে পারছে না। যেমন: ধরুন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, ব্যবসা বাণিজ্য, ট্রানজিট ইত্যাদি।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না কারণ আমি ওই প্রতিনিধি দলে ছিলাম না। সুতরাং তাদের ভিতরে কি আলাপ হয়েছে এটা প্রতিনিধি দলের সদস্য যারা ছিলেন তারাই বলতে পারবেন। তবে একটা লাইন আমি এখানে যুক্ত করতে চাই, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কোন বিষয়ে কাউকে আশ্বস্ত করবে না তা মেনে নেবে না।

প্রশ্ন : চীন বিএনপির বন্ধু বলে পরিচিত ছিলো কিন্তু এখন তারা বিএনপির থেকে মুখ ফিরিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়ন করেছে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমি এটাকে দ‚রত্ব মনে করি না। দেখুন, রাষ্ট্র যখন কোন সরকার গঠিত হয় তখন আর একটি রাষ্ট্রের প্রধান সরকারকে স্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিচালনা করার জন্য যেটা করার সেটা তাদের করতে হয়। অভিনন্দন জানানোর বিষয়টি যেটি আপনি বলছিলেন, সেটি সৌজন্যতার মধ্যে পড়ে। সুতরাং আমি মনে করি না বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়েছে বা বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা হচ্ছে দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয় এবং সেই বিষয়টি যে সরকারই থাকুক না কেন সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্ন : আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে বিএনপি বন্ধুত্বহীন হয়ে পড়ছে বলে কি আপনি মনে করেন?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : না সেটা আমি কখনই মনে করি না। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত বৈঠক হয়। মতবিনিময় হয়। তারা স্বীকার করেন যে বাংলাদেশ গণতন্ত্র বা নির্বাচিত কোন সরকার নেই। এটা তারা স্বীকার করেন। তবে দিনের শেষে বিএনপির আস্থার জায়গাটি হচ্ছে দেশের মানুষের প্রতি জনগণের প্রতি এবং বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় আসবে। কোন বর্হি শক্তি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালে সেটারই ধারাবাহিকতায় এখন চলছে এমন কোন বই শক্তির উপরে বিএনপির কোনদিনও নির্ভর করেনি ভবিষ্যতেও করবে না।

তিনি বলেন, তারা নিশ্চয়ই সরকারের উপরে তাদের অবস্থান থেকে চাপ দিয়েছে। এই চাপ অব্যাহত থাকবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মানবাধিকার ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক ও সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশের উপরে প্রেসার দিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমার দেশ ও বিদেশী রাষ্ট্র পরিচালনা করে না। তারা বলতে পারে চাপ দিতে পারে। আল্টিমেটলি সেটা করবার দায়িত্ব সরকারের। সরকার যদি নিজেকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রমাণ করে। এখানে বাংলাদেশ বিচার নাই, বাংলাদেশের সংবিধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা যদি বহির্বিশ্বের কাছে তারা প্রমাণ করে তাদের মুখ উজ্জ্বল হবে বলে মনে করে তাহলে তো আসলে কিছু করার নাই। কিন্তু আমরা তো এটা আশা করতে পারি না বন্ধু রাষ্ট্রের সৈন্য-সামন্ত নিয়ে দেশ দখল করে আমাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এটা নিশ্চয়ই আমরা আশা করি না।

প্রশ্ন : নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে আপনার ভ‚মিকা কী হবে?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা: আমি এটুকুই বলতে চাই আমি আমার দল এবং আমার শীর্ষ নেতারা তাদের যৌথ সিদ্ধান্তে আমাকে একমাত্র নারী আসন যেটি ছিল সেখানে আমাকে মনোনীত করেছে। এটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি আমার সর্বোচ্চ মেধা যোগ্যতা এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব এবং আমাদের ম‚ল এজেন্ডা হচ্ছে, দেশনেত্রী তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আরেকটি নাম বলা হয় এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় আশির দশক থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তার যে সংগ্রাম আপোষহীন ভ‚মিকা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, সেজন্য বাংলাদেশ আরেকটি নাম বেগম খালেদা জিয়া। তার উপরে যে নির্মম অত্যাচার নিপীড়ন চলছে, যে বিচারহীনতার মধ্যে তিনি পড়েছেন, যে ন্যায় বিচার তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং দিনের পর দিন তার উপরে যে অত্যাচার চলছে, সেই বিষয়গুলো নিশ্চয়ই আমি সংসদে তুলে ধরবো। এবং আমি আইনের ধারা দিয়ে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে স্পষ্টভাবে সংসদে বলবো জামিনের হকদার তিনি। এই জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করে রেখে সরকার ন্যায়বিচারের বরখেলাপ করছে। এবং প্রমাণ করছে দেশে আসলে বিচার বলতে কিছুই অবশিষ্ট নাই।
আমাদের সময় ডট কম এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ
রুমিন ফারহানা : আপনাকেও ধন্যবাদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত