প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদের প্রস্তুতি যেন ধ্বংসের কারণ না হয়

আমিন মুনশি : মাহে রমজান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অনন্য উপহার। রমজান কল্যাণ ও সৌভাগ্যের বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু অজ্ঞতার কারণে আমরা রমজানের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অনুধাবন করি না। ফলে স্বর্গীয় জ্যোতিস্নাত মহামূল্যবান সময়গুলো হয়তো অলসতা ও নির্লিপ্ততায় শেষ করে দেই। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যে রমজান মাস পেলো, তারপরও তার গুনাহ মাফ হলো না।’

আল্লাহ তাআলা নিঃসন্দেহে ‘ঈদুল ফিতর’কে মুসলমানদের জন্য আনন্দ-উৎসবের দিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বাৎসরিক আনন্দের বিশেষ দিবস হিসেবে মনোনিত করেছেন। এমনকি এ বিষয়টিও শরিয়তে স্বীকৃত যে, এই দিনে কোনো উত্তম থেকে উত্তম পোশাক কেউ যদি সহজে লাভ করতে পারে, সে যেন তা পরিধান করে।

বর্তমানে এ বিষয়টি অতি জরুরি বিষয় মনে করা হয় যে, কোনো ব্যক্তির আর্থিক সচ্ছলতা থাকুক বা না থাকুক, যে কোনো উপায়েই পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য নিত্যনতুন ডিজাইন ও ফ্যাশনেবল পরিধেয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করবে। ঘরের প্রত্যেক সদস্যের জন্য জুতা, টুপি থেকে শুরু করে প্রতিটি জিনিস নতুন নতুন ক্রয় করবে। আর এসব কাজ এমন তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা নিয়ে সম্পন্ন করা হয় যেন কেউ কারো থেকে পিছে পড়ে না যায়! এসবের অনিবার্য পরিণতি এটাই হয়—একজন মধ্যম স্তরের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির জন্য ‘ঈদের প্রস্তুতি’ একটি বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় যখন সে দেখে যে হালাল উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারের সবার চাহিদা ও আবদার পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না এবং বৈধ টাকা-পয়সা তার জন্য পর্যাপ্ত হচ্ছে না, তখন সে অবৈধ পথ খোঁজে।

ঈদ প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে—একান্ত-নির্জন পরিবেশে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও মুনাজাতের শ্রেষ্ঠতম সময় এবং প্রভুর সান্নিধ্য লাভের মোক্ষম সুযোগ ও অনন্য মুহূর্ত বিভিন্ন ব্যস্ততা আর বাজার-ঘাটে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পর্দার বিধানও লঙ্ঘন করা হয়। রোজা, ইফতার ও তারাবির তোয়াক্কা করা হয় না।

যদি আমাদের মধ্যে রাসুল (সা.)-এর প্রদর্শিত পথ, শিক্ষা-দীক্ষা ও তাঁর আদর্শের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা এবং অনুরাগ থাকে, রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত লাভের তপ্ত বাসনা অন্তরে জাগ্রত থাকে, তাহলে আমাদের অতীত গাফিলতি থেকে খাঁটি মনে তওবা করা উচিত। এই অঙ্গীকার করা উচিত, এই পবিত্র মাসে সব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবো, একনিষ্ঠ মনে আল্লাহর দিকে ফিরে আসবো। রমজানের শেষ মূহুর্তের এই অতিমূল্যবান সময়গুলো যেন অবহেলায় না কাটে, ঈমানদারদের এ ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকা জরুরি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত