প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাক্ষাৎকারে বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা
দুপাশে পাকিস্তানকে নিয়ে ভারত ঘর করতে পারবে না, বিজেপিকে এটা অনুধাবন করতে হবে

শাহানুজ্জামান টিটু : বাংলাদেশের মানুুষ মানুষের মধ্যে তীব্র ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট রয়েছে। এই প্রতিবেদককে দেয়া সাক্ষাৎতকারে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পার্শ্ববর্তি দেশ ও আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের বৈদেশিক সর্ম্পকের বিষয়টি এখানে হুবুহু তুলে দেয়া হলো।

প্রশ্ন : বিগত বছরগুলোতে ভারতের মোদী সরকারের সঙ্গে সুসর্ম্পক গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি, কেন পারলেন না? ভারতের সঙ্গে আগামীর সর্ম্পক কেমন হবে আপনাদের?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমি মনে করি, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিজেপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নিশ্চয়ই বন্ধুত্বপ‚র্ণ সম্পর্ক আছে। কংগ্রেসের সঙ্গে আছে। বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কিন্তু বন্ধুত্ব করবার ব্যাপারে আগ্রহ আছে। কিন্তু বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বন্ধুত্বের বিষয়ে বিএনপির আগ্রহী নয়। বিএনপি বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বের ব্যাপারে বিশ্বাসী এবং সেটা হতে হবে রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমরা দেখেছি কিভাবে নিলর্জ্জভাবে সেই সময়কার ভারত সরকার আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে নাক গলিয়েছে। একটা অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেবার চেষ্টা করেছে। কিভাবে জাতীয় পার্টিকে কানে ধরে বিরোধী দল করা হয়েছে। জোর জবরদস্তি করে এরশাদ সাহেবকে নির্বাচনে আনা হয়েছে। তিনি নির্বাচন করতে চান নাই। শুধুমাত্র অবৈধ জনবিচ্ছিন্ন ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার এসেছে তাকে বৈধতা দেয়ার জন্য ভারত যা করেছে এটা সত্যি ন্যাক্কারজনক। এটা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের একটা ক্ষোভ আছে কিন্তু বিএনপি যেটা মনে করে বিজেপি বা কংগ্রেস বলে কথা নয়, দুটি দেশের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। যদি সেটা হয় তাহলে কিন্তু অটোমেটিক্যালি একটা দেশ আর একটা দেশের অভ্যান্তরিন বিষয়ে নাক গলাবে না। এখন যেহেতু বিজেপি ক্ষমতায় আবারো পুনঃনির্বাচিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের আহবান থাকবে বিজেপি সরকারের কাছে, আমাদের দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো রয়েছে- যেমন তিস্তা একটা বড় ইস্যু ৫০টিরও অধিক নদীর পানি বন্টন বা ভাগাভাগি, তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বৈষম্য বা বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে দুই দেশের মধ্যে এটা অনেক বড় একটা ইস্যু। আসামে তারা নাগরিকত্ব আইন করে আসাম থেকে তারা লোক বাংলাদেশ দিয়ে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা নিচ্ছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গেও তাই। সুতরাং এই জায়গাগুলোতে যাতে তারা দৃষ্টি দেয় এবং আমরা বলবো যে, আমাদের সীমান্তে হত্যা কলঙ্কজনক। ভারত কিন্তু চায়নার সঙ্গে সীমান্ত শেয়ার করে। এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গেও। আর ভালো বন্ধুত্ব ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে। তাহলে কেন আমাদের লোকগুলো মৃত্যুবরণ করতে হয়, কেন তাদেরকে হত্যা করা হয়। কেন শুধু আমাদের লোকগুলো হত্যার শিকার হতে হয় বিএসএফের হাতে। এই বিষয়গুলো ভারতকে মাথায় রাখতে হবে। কারণ ভারতের দুপাশে পাকিস্তানকে নিয়ে ভারত ঘর করতে পারবে না। ভারতকে বুঝতে হবে বাংলাদেশের মানুুষ মানুষের মধ্যে তীব্র ভারতবিরোধী সেন্টিমেন্ট রয়েছে। আমি আশা করবো বিজেপি সরকার নিরপেক্ষভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করবে

প্রশ্ন : শোনা যায়, ভারতের বেশ কিছু জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নের জবাব বিএনপি দিতে পারেনি যেকারণে তারা বিএনপিকে বিশ্বাস করতে বা আস্থায় নিতে পারছে না। যেমন: ধরুন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ, ব্যবসা বাণিজ্য, ট্রানজিট ইত্যাদি।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না কারণ আমি ওই প্রতিনিধি দলে ছিলাম না। সুতরাং তাদের ভিতরে কি আলাপ হয়েছে এটা প্রতিনিধি দলের সদস্য যারা ছিলেন তারাই বলতে পারবেন। তবে একটা লাইন আমি এখানে যুক্ত করতে চাই, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় এমন কোন বিষয়ে কাউকে আশ্বস্ত করবে না তা মেনে নেবে না।

প্রশ্ন : চীন বিএনপির বন্ধু বলে পরিচিত ছিলো কিন্তু এখন তারা বিএনপির থেকে মুখ ফিরিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সর্ম্পক উন্নয়ন করেছে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আমি এটাকে দ‚রত্ব মনে করি না। দেখুন, রাষ্ট্র যখন কোন সরকার গঠিত হয় তখন আর একটি রাষ্ট্রের প্রধান সরকারকে স্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিচালনা করার জন্য যেটা করার সেটা তাদের করতে হয়। অভিনন্দন জানানোর বিষয়টি যেটি আপনি বলছিলেন, সেটি সৌজন্যতার মধ্যে পড়ে। সুতরাং আমি মনে করি না বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কোনো অবনতি হয়েছে বা বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটা হচ্ছে দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয় এবং সেই বিষয়টি যে সরকারই থাকুক না কেন সেই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্ন : আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে বিএনপি বন্ধুত্বহীন হয়ে পড়ছে বলে কি আপনি মনে করেন?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : না সেটা আমি কখনই মনে করি না। তাদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত বৈঠক হয়। মতবিনিময় হয়। তারা স্বীকার করেন যে বাংলাদেশ গণতন্ত্র বা নির্বাচিত কোন সরকার নেই। এটা তারা স্বীকার করেন। তবে দিনের শেষে বিএনপির আস্থার জায়গাটি হচ্ছে দেশের মানুষের প্রতি জনগণের প্রতি এবং বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় আসবে। কোন বর্হি শক্তি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালে সেটারই ধারাবাহিকতায় এখন চলছে এমন কোন বই শক্তির উপরে বিএনপির কোনদিনও নির্ভর করেনি ভবিষ্যতেও করবে না।

তিনি বলেন, তারা নিশ্চয়ই সরকারের উপরে তাদের অবস্থান থেকে চাপ দিয়েছে। এই চাপ অব্যাহত থাকবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র মানবাধিকার ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক ও সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র সবসময় বাংলাদেশের উপরে প্রেসার দিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আমার দেশ ও বিদেশী রাষ্ট্র পরিচালনা করে না। তারা বলতে পারে চাপ দিতে পারে। আল্টিমেটলি সেটা করবার দায়িত্ব সরকারের। সরকার যদি নিজেকে ফ্যাসিস্ট হিসেবে বিশ্বের কাছে প্রমাণ করে। এখানে বাংলাদেশ বিচার নাই, বাংলাদেশের সংবিধান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা যদি বহির্বিশ্বের কাছে তারা প্রমাণ করে তাদের মুখ উজ্জ্বল হবে বলে মনে করে তাহলে তো আসলে কিছু করার নাই। কিন্তু আমরা তো এটা আশা করতে পারি না বন্ধু রাষ্ট্রের সৈন্য-সামন্ত নিয়ে দেশ দখল করে আমাদেরকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এটা নিশ্চয়ই আমরা আশা করি না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত