প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রবাসীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বার্তা

ডেস্ক রিপোর্ট : বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর ব্যাপারে প্রবাসীদের উত্থাপিত অভিযোগ এখন থেকে কঠোর গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অনাবাসী বাংলাদেশি ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া নানা অভিযোগ পর্যালোচনা করে বিভিন্ন মিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের আচরণ ও সেবা প্রদানে অবহেলা এবং অনীহার বিষয়ে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মিশনগুলোকে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ এবং যথাযথ সেবা দ্রুততম সময়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে মিশন কর্মকর্তাদের বার্তা পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি মিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ থাকলেও এবারই প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কনস্যুলেট জেনারেলের অফিসসহ মালয়েশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং ইউরোপের একাধিক দেশ থেকেও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ মিশন কর্মকর্তাদের অসদাচরণ এবং হয়রানির অভিযোগ এসে থাকে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আসে মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কাছ থেকে।

এসবের মধ্যে বিশেষ করে পাসপোর্ট নবায়নকে কেন্দ্র করে হয়রানি এবং অনিয়মের অভিযোগই সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি কুয়ালালামপুরে একজন অসুস্থ বাংলাদেশি নাগরিক পাসপোর্ট নবায়ন করতে এসে বাংলাদেশ মিশনের ভেতরেই মারা যান। এর পর মিশনগুলোর দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয় আবারও আলোচনায় উঠে আসে।

যে পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর বার্তা : প্রায় তিন বছর আগে পেশাজীবী (প্রফেশনাল) ভিসায় মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন ময়মনসিংহের সিরাজুল ইসলাম (৪১)। এরই মধ্যে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায় তার। আর পাসপোর্ট নবায়ন করতে না পারায় ভিসা নবায়নও করতে পারছিলেন না তিনি। ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত সিরাজুল ভিসা নবায়ন করতে না পারায় উপযুক্ত চিকিৎসাও নিতে পারছিলেন না।

কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে দু’দিন গিয়ে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন জমা দেয়ার চেষ্টা করেন সিরাজুল। কিন্তু কর্মকর্তাদের অসহযোগিতায় আবেদনপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন তিনি। তৃতীয় দিনে আবেদনপত্র জমা দিতে এসে তিনি হাইকমিশন চত্বরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ ঘটনা প্রবাসীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেলের বিরুদ্ধেও সেবাগ্রহীতা প্রবাসীদের নানা অভিযোগ রয়েছে।

বিগত বছরগুলোয় বিদেশের বিভিন্ন মিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেগুলো তেমন আমলে নেয়নি। কিন্তু সম্প্রতি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দুটি সভায় বিদেশে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে হয়রানির বেশ কয়েকটি অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব পায়। কমিটির একাধিক সদস্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত ১৫ মে সংসদীয় কমিটির সভার প্রায় পুরোটাজুড়েই বিদেশের মিশনে প্রবাসীদের হয়রানি নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি জেনে এ ব্যাপারে কঠোর বার্তা পাঠানোর নির্দেশ দেন মিশনগুলোতে।

বার্তায় মন্ত্রী মিশনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে দূতাবাস কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ কারণে সম্প্রতি সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে প্রয়োজনে বাংলাদেশি মিশনগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ‘হট লাইন’ চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার অধীনে উন্নয়নের ধাপগুলো একটির পর একটি অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গে সরকার সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের উন্নততর সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ‘দূতাবাস’ অ্যাপস চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রায় ৩০০ ধরনের সেবা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ঢাকায় বিভিন্ন মিশন কর্মকর্তাদের নিয়ে দূত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বার্তায় প্রত্যাশা করা হয়েছে, এই সম্মেলনের আগেই মিশনগুলো অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবে এবং সম্মেলনে এ সংক্রান্ত ইতিবাচক রিপোর্ট দেবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত