প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নওগাঁ সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আশরাফুল নয়ন , নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁ সদর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে সদ্য যোগদান করেছেন সোহরাওয়ার্দী হোসেন। তিনি যোগদানের সপ্তাহ পার না হতেই মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের আটকের পর মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার কথা থাকলেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, গত ২৩ মে সদর মডেল থানায় যোগদান করেন ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন। এরপর সোমবার রাতে সদর উপজেলার নতুন শাহপুর গ্রামের মৃত. বিপ্লব হোসেনের ছেলে সজল (২৪), শৈলগাছী গ্রামের মৃত পরিমল দাসের ছেলে বকুল চন্দ্র দাস (৬০), শিংবাচা গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে ডাবলু (৬০) এবং জেলার রানীনগর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের ইসলাম হোসেনের ছেলে সবুজকে (২৮) মাদক সেবনের অপরাধে আটক করে পুলিশ। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে জুয়া খেলার অপরাধ দেখিয়ে প্রত্যেকের ৭শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

গত রোববার রাত ৯টার দিকে ২০ পিচ ইয়াবাসহ পার-নওগাঁর মৃত. সাদের আলীর ছেলে আরমান খানকে (৪৫) আটক করে পুলিশ। একই সময় কিলপাড়ার কোরবান (২৮), বাদাবাডায়ার সবুজ ও চকএনায়েতের সুরুজ আলীকে (২৮) ৪/৫ পিচ করে ইয়াবা সেবকদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর সারারাত দেনদরবার শেষে আরমানের কাছে থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়া হয় এবং অপর তিন জনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা নেয়। পর দিন ভ্রাম্যমান আদালতে জুয়া খেলার অপরাধে সোপর্দ করা হয়। আদালতের মাধ্যমে প্রত্যকের ৭শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবারে সদরের শিমুলিয়া গ্রামের ছাইদুল কবিরাজ, শালুকা গ্রামের সুরেন ওরাউ, নারায়ণ ওরাউ এবং ভবানীপুর গ্রামের মধ্য পাড়ার নজরুল ইসলামকে মাদক সেবনের অভিযোগ আটক করে পুলিশ।

এদের পরিবার অভিযোগ করেন, পুলিশের চাহিদা মোতাবেক ঘুষ দিতে না পারায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছাইদুল, নারায়ণ ও নজরুলের ১শ’ টাকা জরিমানা ও ১০দিন জেল দেয়া হয়েছে। এবং সুরেনের ১শ’ টাকা জরিমানা ও ১ মাসের জেল দেয়া হয়েছে।

এদিকে সদর উপজেলার আলাদাদপুর গ্রামের লৎফর রহমানের ছেলে বন্ধনের সাথে ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে কয়েক মাস আগে থেকে। ওই মেয়েটি নওগাঁয় এলে থানা পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় তাদের দুই পরিবার থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন। এক পর্যায় ছেলে পরিবারের সাথে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় দফারফা হয় ছেলেকে ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ওসি টাকা নিলেও ছেলেটিকে ছেড়ে না দিয়ে মেয়েকে দিয়ে গত ২৭ মে (সোমবার) একটি মামলা দিয়ে বিকেলে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। এরপর বন্ধনের পরিবার, এলাকাবাসী, ছাত্র লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের কাছ থেকে হয়রানি হওয়া প্রায় দেড়শ’ লোক রাতে থানা ঘেরাও করে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহ্রাওয়ার্দী হোসেন বলেন, মাদক মুক্ত ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে গত কয়েকদিনে গড়ে ২০/২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এই অভিযান চলবে। এতে অনেকে সুযোগ সুবিধা না পেয়ে তার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অপরদিকে, ওই মেয়েটিকে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করায় বন্ধনকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। কোন ঘুষ নেয়া হয়নি। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সম্পাদনা : মুসবা তিন্নি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ