প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদযাত্রার জন্য পুরনো বাস-লঞ্চ সাজছে নতুন রঙে

দেবদুলাল মুন্না:এবারও ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা ও এর আশপাশের গ্যারেজ ও ডকইয়ার্ডে পুরনো বাস ও লঞ্চ মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে।ফিটনেসবিহীন বাস ও লঞ্চ হয়ে উঠেছে ‘নতুন’। সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, বাড়িফেরা বিপুল মানুষের চাপে অসাধু মালিকরা এসব যান ঈদযাত্রায় নামাতে পারে। রোজা শুরুর পর থেকেই রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কম। এসব গাড়ি আমিনবাজার, ডেমরা, কাজলা, শনিরআখড়া, উত্তরার কামারপাড়া, টঙ্গীর বড়বাড়ীসহ বিভিন্ন গ্যারেজ মেরামত করা হচ্ছে।টঙ্গীর বোর্ডবাজার এলাকায় দেখা যায়, প্রায় ২০টির মতো পুরনো বাস পড়ে রয়েছে একটা গ্যারেজে।গ্যারেজটি মুল সড়ক থেকে একটু ভেতরে।সেখানকার হামিদ নামের এক মেরামতকারী বলেন, ‘প্রতিবছরই এসময় এমন কাজ আমরা করি।যতোটুকু সম্ভব পুরনো গাড়িকে মেরামত ও রং করে সুন্দর করে দিই।’

বাংলাদেশ পরিবহন বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন,‘ ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের লক্করঝক্কর বাস রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না। এটা পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নীতিগত সিদ্ধান্ত। বাস মালিক সবাইকে নিয়ে মিটিং করে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।তারপরও কেউ যদি এই নির্দেশনা অমান্য করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন,‘বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ফিটনেস ব্যতীত কোনো গাড়ি রাস্তায় চলতে পারবে না। টার্মিনাল থেকে গাড়ি ছাড়ার আগে বাস মালিক-শ্রমিক ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ড্রাইভারের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস চেক করে গাড়ি রাস্তায় নামতে দেবেন। কোনো অবস্থায় বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস ব্যতীত গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া হবে না।’
বাসের মতো রং করে নদীতে নামানো হচ্ছে অনেক পুরনো লঞ্চ। দেওয়া হচ্ছে জোড়াতালি। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গার তীরে গড়ে ওঠা চরকালিগঞ্জ ও চর মিরেরবাগ এলাকার ডকইয়ার্ডগুলোতে টুংটাং শব্দ চলছে অবিরাম। সকাল থেকে রাত অবধি শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন লঞ্চ মেরামতে। কেউ ওয়েল্ডিং আবার কেউ রং মাখাতে ব্যস্ত।

বুড়িগঙ্গা নদীতীরে কেরানীগঞ্জের তেলঘাট থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত ২৭টি ডকইয়ার্ড রয়েছে। রহমান মিয়ার ডকইয়ার্ড, অগ্রগতি ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপ বিল্ডার্স, ছাত্তার খান ডকইয়ার্ড, লার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ডকইয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, এসব ডকইয়ার্ডে এমভি জামাল-৭, নিউ সাব্বির-২, মর্নিংসান-৭, ফারহান-৩, এমভি প্রিন্স আওলাদ-৭, এমভি সাবের খান-২, রাসেল-৩, সহ ২৫টির মতো লঞ্চ সদরঘাট এবং তেলঘাট এলাকাজুড়ে মেরামত করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটির চেয়ারম্যান কমোডর মাহাবুব উল ইসলাম বলেন,‘ ঈদ এলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পুরনো ফিটনেসবিহীন লক্কড়-ঝক্কড় লঞ্চে মেরামত ও রং কালি করার কাজ করে বিভিন্ন রুটে চালায় এ রকম অভিযোগ আছে। তবে সার্ভে সনদ ছাড়া এবার কোনো লঞ্চকে ঘাটে ভিড়তে দেওয়া হবে না।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত