প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ছয় বছরে বন্ধ হয়েছে ৬০৮টি বড়-মাঝারি, বেড়েছে ৩ হাজার ৪৯৯টি ছোট শিল্পকারখানা

স্বপ্না চক্রবর্তী: গত ছয় বছরে দেশের বড় শিল্পকারখানা বাড়েনি। বরং কমেছে ৬০৮টি। এ সময়ে মাঝারি শিল্প কারখানাও অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে এ সময়ের মধ্যে দেশে ছোট কারখানার সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ৪৯৯টি।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উৎপাদন শিল্প জরিপে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিএস বলছে, অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা গুটিয়ে অন্য ব্যবসায় নামছেন। আবার প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোমেশনের কারণে শ্রমিক কমানো হয়েছে। এর ফলে শিল্পকারখানার আকার আরও ছোট হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বিবিএসের ওই জরিপে দেখা যায়, ২০১২ সালের পর থেকে নতুন করে প্রায় আট হাজার ছোট শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। জরিপ অনুসারে দেশে এখন ৪৬ হাজার ২৯১টি কারখানা আছে। ছয় বছরে কারখানার সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ৪৯৯টি। ২০১২ সালে দেশে ছিলো ৪২ হাজার ৭৯২টি কারখানা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধির হিসাবকে বিতর্কে ফেলেছে বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানা কমে যাওয়া। তবে ছোট কারখানা বাড়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, এতে করে একদিকে বেকার হলেও অপর দিকে বাড়ছে কর্মসংস্থান।

বড় ও মাঝারি শিল্পকারখানার সংখ্যা কমে যাওয়া সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, পাটশিল্প একটি বড় শিল্প ছিলো। এ খাতের কারখানা কমেছে। এছাড়া অন্য কোনো খাতের কারখানা বন্ধ হয়নি। তৈরি পোশাক, চাবাগান, সিমেন্টের মতো বড় শিল্প খাতে কারখানা কমেনি। তবে চামড়াশিল্পের কারখানা স্থানান্তরের কারণে এর সংখ্যা কিছু কমেছে।
একই কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। তিনি বলেন, ‘চামড়া শিল্পনগরীতে চামড়া কারখানাগুলো স্থানান্তরের কারণে কিছু কারখানা বন্ধ হলেও তা খুব দ্রæত পুনরায় হবে বলে আশা করছি।’

তবে এ বড় কারখানায় বিনিয়োগ করতে বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ীরা কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের জন্য আমাদের ব্যাংক খাত থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। সুদের হার শূন্য হওয়া তো দূরের কথা ব্যাংকঋণের কারণে অধিকাংশ উদ্যোক্তাকেই দেউলিয়া হতে হচ্ছে। যা একটি দেশের শিল্প কারখানার জন্য খুবই দু:খজনক। এছাড়া দেশের ইউটিলিটি সুবিধা যেমন হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা তাদের কারখানা পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।’

পাঁচ-ছয় বছর পর পর উৎপাদন শিল্প জরিপ করে থাকে বিবিএস। বিবিএসের হিসাবে, কোনো কারখানার শ্রমিকের সংখ্যা আড়াইশ পেরোলেই বড় শিল্পকারখানা হিসেবে ধরা হয়। গত ছয় বছরে এমন কারখানার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১টি। আর একশ থেকে আড়াইশ শ্রমিকের মাঝারি কারখানা ছয় বছরে কমে হয়েছে ৩ হাজার ১৪টি। ২৫ থেকে ৯৯ জন শ্রমিক কাজ করেন এমন কারখানাকে ছোট কারখানা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ছয় বছরে এমন আট হাজার নতুন কারখানা গড়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে দেশে ২৩ হাজার ৫৫৭টি ছোট কারখানা আছে। সারা দেশে অতিক্ষুদ্র কারখানায় যেখানে ১০ থেকে ২৪ জন কাজ করেন, এমন কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৮৯টি।

সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত