প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্ত্রীকে খুন করে পুলিশ স্টেশনে হাজির সংস্কারপন্থি নেতা নাজাফি

মৌরী সিদ্দিকা : সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন ইরানের নাজাফি। সম্প্রতি তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুন করেন। স্ত্রীকে খুনের পর পুলিশ স্টেশনে গিয়ে খুনের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। – বিবিসি

রাজনীতির পাশাপাশি নাজাফি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এমআইটিতে পড়াশোনা করেছেন। ৩৫ বছর বয়সী মিত্রা ওসতাদ ছিলেন ৬৭ বছর বয়সী নাজাফির দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু সহকর্মীদের অনেকে তার দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নেননি। এ সমালোচনার জের ধরেই তেহরানের মেয়রের পদ থেকে সাত মাস আগে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। ইরানে বহুবিবাহ বৈধ তবুও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সংস্কারপন্থী শিবিরে কিছু স্ক্যান্ডালের জন্ম দিয়েছিলেন।
পুলিশ বলছেন, পরপর পাঁচটি গুলি করেন নাজাফি, আঘাত করে দু’বার এবং এর মধ্যে একবার হার্টে। এরপর পালিয়ে আত্মহত্যার চিন্তাও করেন তিনি। এরপরই সোজা চলে যান পুলিশ স্টেশনে।

এমনকি নাজাফি শান্ত ভঙ্গিতে খুনের বিবরণ দেন যা নিয়ে টুইটারে নানা প্রতিক্রিয়া এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো পুলিশ স্টেশনে কেনো নাজাফিকে ক্যামেরাবন্দী করা হচ্ছিলো। এ অনুমতি এলো কিভাবে ?
এর উত্তর হলো রাজনৈতিক।

সংস্কারপন্থী এই রাজনীতিক পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ঘনিষ্ঠ ছিলেন । তবে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলো কট্টরপন্থীদের সমালোচনার মুখে। অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে মেয়েদের সাথে নেচেছিলেন। যা ছিলো কট্টরপন্থীদের দৃষ্টিতে ‘অনৈসলামিক কার্যকলাপ’। সংস্কারপন্থী হিসেবে মিস্টার নাজাফি বহুকাল ধরেই কট্টরপন্থীদের লক্ষ্য ছিলেন।

স্ত্রীকে খুন করলেন কেনো এমন প্রশ্নের উত্তরে বিচারিক কর্মকর্তাদের তিনি বলেন,‘আমি তাকে ভয় দেখাতে চেয়েছিলাম। আমি তার কাছে ডিভোর্স চেয়েছিলাম কিন্তু সে প্রত্যাখ্যান করে। আমি একটি ভুল করেছি।’

‘আমি ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি অস্ত্র হাতে নেই ও সে বাথরুমে যায়। আমি তাকে অনুসরণ করে বাথরুমে যাই। এটা ছিলো তাকে ভয় দেখানোর জন্য। এ সময় ধস্তাধস্তি হলে সে আমার ওপর পড়ে ও অস্ত্রটি ছিলো তখন সম্পূর্ণ রেডি অবস্থায়।’ পুলিশ স্টেশনে যেই রিপোর্টার তার সাথে কথা বলেন ও ভিডিও করেন তিনি বলেছেন ওই অস্ত্রে তেরটি বুলেট ছিলো যার মধ্যে পাঁচটি ভিকটিমের শরীরে আর তিনটি দেয়ালে লাগে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ