প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য পরিকল্পনায় কি এরশাদ ছিলেন !

দেবদুলাল মুন্না : বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সংঘটিত একটি সংঘর্ষের মধ্যস্থতা করতে গেলে ১৯৮১ সালের ৩০শে মে রাতে সেনাবাহিনীর একদল অফিসার সার্কিট হাউজে গিয়ে জিয়াসহ আরও কয়েকজনকে গুলি করলে জিয়া নিহত হন।তার মৃত্যুর পর অনেকে সময়ই প্রশ্ন উঠেছে সেনাপ্রধান এরশাদ কী এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য পরিকল্পনায় ছিলেন?

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর বই ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক’- নামের বইতে লেখেছেন, “ভোর ৪টার দিকে অফিসাররা অতর্কিতে সার্কিট হাউসে আক্রমণ করে। জুনিয়র অফিসাররা নিজেরাই দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রথমে সার্কিট হাউসে রকেট ল্যাঞ্চার নিক্ষেপ করে। পরে এক গ্রুপ গুলি করতে করতে ঝড়ের বেগে সার্কিট হাউসে ঢুকে পড়ে।এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গুলির শব্দ শুনে জিয়া রুম থেকে বের হয়ে আসেন এবং কয়েকজন অফিসার তাঁকে ঘিরে দাঁড়ান। ওই সময় লে. কর্নেল মতিউর রহমান মাতাল অবস্থায় টলতে টলতে ‘জিয়া কোথায় জিয়া কোথায়’ বলে সিড়ি বেয়ে উপরে আসে এবং পলকেই গজ-খানেক সামনে থেকে তার চাইনিজ স্টেনগানের এক ম্যাগাজিন (২৮টি) গুলি জিয়ার উপর চালিয়ে দেন।অন্তত ২০টি বুলেট জিয়ার শরীরে বিদ্ধ হয় এবং পুরো শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। পরে মারা যান।’

সকালের আলো ফোটার আগেই জিয়াউর রহমানের মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়। সার্কিট হাউজ থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে তাকে দাফন করা হয়।

মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি রচিত “একাশির রক্তাক্ত অধ্যায়” থেকে জানা যায়, মঞ্জুর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন এই তথ্য জানার পর তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরুদ্দিন সেরাপ্রধান এরশাদকে বলেছিলেন মঞ্জুরকে কোনোভাবেই হত্যা না করতে। মঞ্জুরের হত্যার পর এরশাদ সদরুদ্দিনকে জানান, একদল উচ্ছৃঙ্খল সৈন্য মঞ্জুরকে হত্যা করেছে। সদরুদ্দিন তখন ক্ষুব্ধকন্ঠে এরশাদকে বলেছিলেন, “এই গল্প অন্য কাউকে বলুন। অ্যাট লিস্ট ডোন্ট আস্ক মি টু বিলিভ ইট।”এর কদিন পরই মুক্তিযোদ্ধা অফিসার সদরুদ্দিনকে বিমান বাহিনী প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মতিউর রহমান সেদিন আসলে কার নির্দেশে জিয়াকে গুলি করেছিলেন? এ প্রসঙ্গে লেখক সাংবাদিক আনোয়ার কবিরের “সশস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা: ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১” বইতে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে।

তিনি লিখেছেন: মেজর রেজাউল করিমের বক্তব্য থেকে একটি তথ্য জানা যায়; তা হল, মতিউর রহমান জিয়া হত্যাকাণ্ডের অল্প কদিন আগে ঢাকায় আর্মি হেড কোয়ার্টারে গিয়েছিলেন। সেখানে সেনাপ্রধান এরশাদসহ অনেকের সঙ্গেই নাকি তিনি কথা বলেছিলেন ।লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান তখন কী আলোচনা করেছিলেন তা জানা যায়নি। অথচ তিনিই পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে গুলি করে হত্যা করেন।লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান তার ‘রণ থেকে জন’ নাম আত্মজীবনীতে লিখেছেন:‘ মঞ্জুরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ, তিনি বেঁচে থাকলে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারী কে তা উদঘাটিত হয়ে যেত।জেনারেল মঞ্জুরকে গ্রেপ্তার করেছিলেন যে পুলিশ কর্মকর্তা তার নাম ছিল সম্ভবত কুদ্দুস। এরশাদের আমলে তিনি অল্প দিনের মধ্যেই প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক হন। তার প্রতি এরশাদের বহু পৃষ্ঠপোষকতা নানা কথা ও সন্দেহের জন্ম দেয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ