প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর ফাঁকির নাটের গুরু যুক্তরাজ্য, সমীক্ষায় প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট : সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বড় অংকের কর ফাঁকির ঘটনা প্রকাশের পর এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বিভিন্ন দেশ। করপোরেট কর ফাঁকি রোধে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের সরকারকে সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যায়। কিন্তু সম্প্রতি ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্কের এক গবেষণায় করপোরেট কর ফাঁকিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মদদদাতা হিসেবে নাম ওঠে এসেছে যুক্তরাজ্য ও এর ‘করপোরেট করস্বর্গের নেটওয়ার্কগুলোর’। খবর গার্ডিয়ান, ইনডিপেনডেন্ট।

বিশ্বের ৬৪টি দেশ ও অঞ্চলের বিচার ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সমীক্ষাটি তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো কী হারে কর কর্তন করে, আইনের ফাঁকফোকর, গোপনীয়তা এবং বহুজাতিক কার্যক্রম আকৃষ্ট করতে দেশগুলোয় যেসব ব্যবস্থা রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে তালিকাটি করা হয়েছে।

একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত অনুসারে, করস্বর্গ অঞ্চলগুলো প্রতি বছর বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে নিজ মুনাফার হাজার হাজার কোটি ডলার কর পরিশোধ এড়াতে সহায়তা করে চলেছে। করপোরেট করস্বর্গ সূচকে শীর্ষ ১০ মদদদাতা দেশের মধ্যে চারটিই ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল। এ তালিকায় এককভাবে যুক্তরাজ্যের স্থান ১৩তম। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক স্বাধীন সংস্থা ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক এ সূচক প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ছায়ামন্ত্রী’ (শ্যাডো চ্যান্সেলর) জন ম্যাকডোনাল বলেন, এ অনুসন্ধানের ফলাফল কর ফাঁকি রোধে সরকারের কার্যক্রমকে অত্যন্ত ‘বিব্রতকর ও লজ্জাজনক’ অবস্থানে নিয়ে গেছে। এটা বন্ধ করতে হবে।

গুগল ও অ্যামাজনের মতো যেসব বহুজাতিক কোম্পানি নিম্ন করহার অঞ্চলে বিপুল অংকের অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে নিজেদের মুনাফা স্ফীত করছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে দেখা গেছে ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ডকে। কিন্তু ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্কের প্রকাশিত সূচকে দেখা গেছে, কেবল যুক্তরাজ্যই ‘এককভাবে’ বৈশ্বিক করপোরেট কর ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি উল্লঙ্ঘন করেছে। যুক্তরাজ্যের মদদের কারণে ৫০ হাজার কোটি ডলার (৩৯ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড) কর ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

প্রতি বছর সারা বিশ্বে যে পরিমাণ কর ফাঁকি দেয়া হয়, তা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বাজেটের তিন গুণের বেশি বা বেলজিয়ামের প্রায় পুরো জিডিপির সমান। ব্রিটেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত অঞ্চলগুলো বিশ্বব্যাপী করপোরেট কর ফাঁকি ঝুঁকির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী, যা সূচকে অবস্থিত আরেক বৃহৎ মদদদাতা নেদারল্যান্ডসের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।

সূচকটির শীর্ষে রয়েছে ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডস। এর পরে রয়েছে যথাক্রমে বারমুডা ও কেম্যান আইল্যান্ডস। এর সবগুলোই ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল। সূচকের সপ্তম স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্বের অধীনস্থ অঞ্চল জার্সি।

ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স কোবহ্যাম ধনী দেশগুলোর কর ফাঁকি রোধ নিয়ে ভণ্ডামিকে ‘অসুস্থতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় ধনী দেশ একটি ভয়াবহ ক্ষতিকর বৈশ্বিক কর যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে, যা পুরো বৈশ্বিক করপোরেট কর ব্যবস্থাকেই ভেঙে মেরামতের অযোগ্য করে ফেলেছে। কোবহ্যাম যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গকে কর ফাঁকির মূল হোতা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এ দেশগুলো টেকসই মানব অগ্রগতির জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে নিজেদের পকেট ভারী করে চলেছে।

সারা বিশ্বে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ, হাসপাতাল নির্মাণ ও স্থানীয় ব্যবসাগুলোর জন্য সমান ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে সরকারগুলোর বহুজাতিক করপোরেশনের কাছ থেকে কর আদায়ের ক্ষমতা ইচ্ছাকৃতভাবে এবং নির্মমভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে।

কর ফাঁকিতে দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে এই প্রথম এত বিস্তৃত পরিধির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। এতে দেশগুলোর আইনি ব্যবস্থায় একটি কোম্পানিকে কী পরিমাণ কর ফাঁকির সুযোগ দেয়া হচ্ছে, সে বিষয়টি দেখা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের করপোরেট কার্যক্রম বৈশ্বিক করের জন্য কতটুকু ঝুঁকি তৈরি করছে, তাও লক্ষ্য করা হয়েছে।

ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্কের সূচকে যুক্তরাজ্যের করস্বর্গ নেটওয়ার্ক আর যেসব দেশ রয়েছে, সেগুলো হলো টার্কস অ্যান্ড সাইকোস আইল্যান্ডস, অ্যাঙ্গুইলা, আইল অব ম্যান ও গুয়েনর্সি। এ অঞ্চলগুলো ব্যাপক পরিমাণ কর ফাঁকি দিতে সহায়তা করে আসছে। তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে আরো রয়েছে নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, সিঙ্গাপুর ও বাহামাস।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত