প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাকসু নির্বাচনে কোনো অনিয়ম পায়নি ঢাবি কর্তৃপক্ষ

ডেস্ক রিপোর্ট : ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনে বস্তাভর্তি ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় একটি তদন্ত প্রতিবেদন উত্থাপিত হয় ঢাবি সিন্ডিকেটে। গতকাল বুধবার এই প্রতিবেদনে ডাকসুর নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য।

গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়।

সিন্ডিকেট সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ এ বিষয়ে জানান, ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে যেসব অভিযোগ নিয়ে আসা হয়েছে, সেই অভিযোগগুলোর উল্লেখযোগ্য কোনো সত্যতা না পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি আগামী ডাকসু নির্বাচনের জন্য কিছু সুপারিশ দিয়েছে। যেমন, অমোচনীয় কালি ব্যবহার, ব্যালটে সিরিয়াল নম্বর ব্যবহার ইত্যাদি, এই বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ ডাকসু নির্বাচনের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ আরও জানান, তদন্ত কমিটির কাছে এমন কেউ অভিযোগ করেননি যারা ভোট দিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বা যারা সময়ের অভাবে ভোট দিতে পারেননি। এছাড়া ভোটের দিন কেউ কোনো হলের প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেননি। যারা অভিযোগ দিয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিভিন্ন পেপার কাটিং দিয়েছেন। কিন্তু এগুলোর ভিত্তিতে তো অনিয়ম প্রমাণ করা যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক সাজেদা বানুকে আহ্বায়ক করে গঠিত ওই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. ইমদাদুল হক, স্যার পি জে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিক উজ জামান এবং পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শারমিন রুমি আলীম।

তবে তদন্তে নির্বাচনে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত না হলেও কুয়েত মৈত্রী হলে ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় হলটির ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ শবনম জাহানকে প্রথমে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর তাকে সাময়িকভাবে চাকরিচ্যুত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনের সকালে কুয়েত-মৈত্রী হলের একটি কক্ষ থেকে বস্তাভর্তি ভোট দেওয়া ব্যালট পেপার উদ্ধার হয়। এছাড়া বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে বাধাসহ নানা অভিযোগ উঠে আসে। অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ভোট শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ছাত্রলীগ ছাড়া সব প্যানেল ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। ওই নির্বাচনের ফল বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২১ মার্চ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রথমে তাদের সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। সেই প্রতিবেদন উপাচার্যের কাছে জমা পড়ার এদিন সিন্ডিকেট সভায় তোলা হয়।
সূত্র : দৈনিক আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত