প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক দেশে রোজা শুরু করে অন্য দেশে শেষ করার বিধান

আমিন মুনশি : একস্থানে রোজা শুরু করে অন্য স্থানে যাওয়ায় রোজা কম-বেশি হলে রোজা রাখার বিধান কী? ধরুন, কোনো ব্যক্তি জাপানে রোজা শুরু করল সে দেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে এবং ১৫ রমজান সে সৌদি গিয়ে দেখল ওই দিন ১৭/১৮ রমজান। লোকটি যেদিন সৌদিবাসীর সঙ্গে ঈদ করল তার আগের দিন পর্যন্ত রোজা হয়েছে ২৭ বা ২৮টি। এখন তার করণীয় কী?

এমনিভাবে উদাহরণস্বরূপ, সাউথ আফ্রিকায় রোজা শুরু করে কেউ ইন্দোনেশিয়া চলে গেলে তার রোজা ৩০টি পুরো হওয়ার পরও ইন্দোনেশিয়াবাসীদের সে হয়তো আরো ২টি বা ১টি রোজা রাখতে দেখতে পারে। এক্ষেত্রে লোকটি কত দিন রোজা রাখবে? অর্থাৎ এক দেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা শুরু করে অন্য দেশে গিয়ে তা সমাপ্ত করলে ওই দেশের চাঁদের হিসাবে রোজার সংখ্যা কমে বা বেড়ে গেলে তখন ওই রোজাদার ব্যক্তির করণীয় কী?

এ প্রশ্নের জবাবের আগে একটি বিষয় জেনে রাখা দরকার যে, চান্দ্রমাসের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়কাল হলো যথাক্রমে ২৯ ও ৩০ দিন। একটি হাদীসে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্টভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন। এরই আলোকে সমস্যাটির সমাধান হলো, যে ব্যক্তি ২৭ বা ২৮ রোজা পূর্ণ করার পরই তার (সফর করে আসা) দেশে ঈদের চাঁদ ওঠে যায় সে ওই দেশবাসীর সঙ্গে ঈদ করবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি বা দুটি রোজা রেখে ৩০টি পূর্ণ করবে। তবে ওই জায়গায় যদি ২৯ রোজার পরই ঈদের চাঁদ দেখা গিয়ে থাকে তাহলে ২৯টি পুরো করলেই চলবে। আর যে ব্যক্তির রোজা ৩০টি পুরো হয়ে যাওয়ার পরও ওই দেশের মুসলমানদের রমজান মাস পূর্ণ হয় না সে ওই দেশের লোকজনের সঙ্গে রমজান শেষ হওয়া পর্যন্ত রোজা রেখে যাবে। যাতে রমজানের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ না হয়। অতপর সকলের সঙ্গে একত্রে ঈদ করবে।

মুসাফির ব্যক্তির জন্য নামাজ আদায়ে যেমন পৃথক বিধান রয়েছে, তেমনি সফর অবস্থায় রোজা সংক্রান্তও আলাদা বিধান রয়েছে: (১) মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায় রোজা না রাখারও সুযোগ রয়েছে। তবে বেশি কষ্ট না হলে রোজা রাখাই উত্তম। আর অস্বাভাবিক কষ্ট হলে রোজা রাখা মাকরুহ। এ অবস্থায় রোজা না রেখে পরে কাজা করে নেবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩)

(২) সফর অবস্থায় নিয়ত করে রোজা রাখা শুরু করলে তা ভাঙা জায়েজ নয়। কেউ ভেঙে ফেললে গোনাহগার হবে। তবে কাফফারা দিতে হবে না। শুধু কাজা করবে। (রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১)

(৩) যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় সেহরি খেয়ে সফর শুরু করেছে তার জন্য সফরের অজুহাতে রোজা ভাঙা জায়েজ নয়। ভাঙলে গোনাহগার হবে এবং শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৬)

(৪) মুসাফির সফরের কারণে রোজা রাখেনি, কিন্তু দিন শেষ হওয়ার আগেই মুকিম হয়ে গেছে। সেদিনের অবশিষ্ট সময় রমজানের মর্যাদা রক্ষার্থে পানাহার থেকে বিরত থাকবে। আর পরে এ রোজার কাজা করে নেবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/২২১, হাদিস : ৯৪৩৬-৯৪৩৮)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত