প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কার ভয়ে নাম প্রকাশ করেনি, প্রশ্ন ছাত্রলীগের অনশনকারীদের

মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন : ২৮মে রাতে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিত ১৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এই ১৯ জন কারা তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে বিতর্কিতদের বহিষ্কার, যোগ্যদের মূল্যায়ন এবং হামলার বিচার দাবিতে অনশনে অনড় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা।

১৯ জনকে বহিষ্কার করায় পদবঞ্চিতরা সন্তুষ্ট কিনা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনকারীদের মধ্যে সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, ‘আমারা ছাত্রলীগের বিতর্কিত ৯৯ জনের নাম প্রকাশ করেছি। আমাদের কাছে ১০৭ জনের বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে যাদের কার্যক্রম ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী। আমাদের অভিযোগ শুধুমাত্র ১৯ জনের বিরুদ্ধে নয়। আর ১৯ জনকে যে বহিষ্কার করা হয়েছে তাও নাম প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া আমাদের উপর ১৩ মে এবং ১৮ মে হামলা করা হয়েছে তার বিচার আমরা পাইনি।’

তিনি আরো বলেন, এই ১৯ জন তো ছাত্রলীগের মধ্যের সবাই হতে পারে। যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ নেই তারাও হতে পারে আবার যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী পদ না পেয়ে অনশন করছে তারাও হতে পারে। তবে একটি বিষয় ক্লিয়ার হল, এতদিন আমাদের কে বলা হয়েছে যে আমরা কারো ইন্দনে অযোগ্য এবং বিতর্কিতদের বহিষ্কারের দাবিতে অনশন কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ মিছিল করছি কিন্তু এখন এটি অন্তত প্রমাণিত হল যে আমাদের অভিযোগ মিথ্যা নয়।’

১৯ জনের নাম প্রকাশ করলে আপনারা আপনাদের অনশন কর্মসূচি বর্জন করবেন কিনা জানতে চাইলে সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ বলেন, ‘১৯ জনের বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে কিন্তু কেন তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি? কাদের ভয়তে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ করেননি? কত টাকা খেয়েছেন তারা? আমাদের অভিযোগ ৯৯জনের বিরুদ্ধে। আমরা ১৬মে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে তাদের নাম প্রকাশ করেছি। তার মধ্যে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তারপরও কেন ১৯ জনকে বহিষ্কার করা হল এবং কাদের বহিষ্কার করা হল? আর বহিষ্কৃতদের এ পদগুলোতে কাদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে তাও আমাদের জানানো হয়নি। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সবার একটিই দাবী বিতর্কিত এবং ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের সাথে জড়িতদের বহিষ্কার করে যোগ্যদের মূল্যায়ন এবং আমাদের উপর হামলাকারীদের বিচার করতে হবে।’

১৩ মে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা। এসময়ে তাদের উপরে হামলা হয়। এই ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং ২০ মে পাঁচ জনকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ১৮ মে রাতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পদবঞ্চিতদের উপর হামলার অভিযোগ এনে হামলার শিকার ব্যক্তিরা অনশনে বসেন। পরে আওয়ামীলীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এবং সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে ২২ ঘন্টা পর তারা অনশন ভাঙলেও ২৭মে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর ঘটনায় সোমবার ভোররাত থেকে ফের অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ