প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাকিস্তানের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ,অগ্নি সংযোগ

কেএম নাহিদ : বুধবার বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক হিন্দু পশু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমি আইনের অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। ঐ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইসলাম ধর্মের বাণী সম্বলিত একটি কাগজে মুড়িয়ে রোগীর কাছে ওষুধ বিক্রি করেছিলেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ঐ চিকিৎসকের ক্লিনিক এবং স্থানীয় হিন্দুদের দোকানে আগুন দেয়া এবং লুট করা হয়।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি যে কাগজটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটি স্কুলের ইসলাম শিক্ষা বইয়ের একটি কাগজ ছিল। ওষুধ মোড়ানোর কাজে কাগজটি ব্যবহার করা তার ভুল হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তি দেয়া হতে পারে। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা বা ব্লাসফেমি আইন অনুযায়ী, ইসলাম ধর্মকে অবমানকারী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেয়া হয়ে থাকে।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, স্কুলের ইসলামী শিক্ষা বইয়ের একটি পাতা দিয়ে মুড়িয়ে চিকিৎসক একজন গ্রাহককে তার গবাদি পশুর জন্য ওষুধ দেন । কিন্তু গ্রাহক ধর্মীয় লেখা দেখে সে প্যাকেটটি নিয়ে স্থানীয় ধর্মীয় নেতার কাছে গেলে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
রাজনৈতিক দল জামিয়াত উলেমা-এ-ইসলামী’র একজন স্থানীয় নেতা নেতা হাফিজ-উর- রেহমান বলেন, চিকিৎসক এই কাজটি ইচ্ছা করে করেছে। তবে পুলিশ বলেছে, ঐ চিকিৎসক এই কাজ ভুলবশত করেছে বলে তাদের জানিয়েছে।
ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত করা এবং কোরাআন অবমাননার দায় সে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা প্রমাণিত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, এ ঘটনার পর চিকিৎসকের ক্লিনিকসহ চারটি স্থানীয় দোকান লুট করার পর সেখানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। মিরপুর খাস এলাকার পুলিশ কর্মকর্তা জাভেদ ইকবাল বিবিসিকে বলেছেন, যারা দোকানে আগুন দেয়া এবং লুটের সাথে জড়িত ছিলেন তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননাকারীদের কঠিন শাস্তির পক্ষপাতী মানুষের সংখ্যা অনেক। ইসলাম পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম এবং সেখানকার জনগণের মধ্যে কঠোর ব্লাসফেমি আইনের সমর্থন ব্যাপক। সম্পাদনায়: কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত