প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিপিবি নেতা সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ মারা গেছেন

মহসীন কবির : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ঢাকায় ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির রোগে ভুগছিলেন তিনি। এর আগে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কিডনির রোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে মৌলভীবাজারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুরের কৃতি সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আবু জাফর আহমেদের মরদেহ বুধবার সকাল ১০টায় মুক্তিভবনে সিপিবি কার্যালয়ে নেয়া হবে। দলীয় কার্যালয়ে নিহতের মরদেহ এক ঘণ্টা রাখা হবে। পরে সেখান থেকে তাকে জন্মস্থান মৌলভীবাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ সিপিবির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মনুবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

১৯৫৪ সালের ১১ জুলাই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জন্ম হয় তার। ১৯৬৯ সালে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে ঢাকা সিটি ল কলেজে ভর্তি হন সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ। এরপর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য ১৯৭৯ সালে জার্মানি যান।

ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন আবু জাফর আহমেদ। ছাত্রজীবনেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় কয়েকবার কারাবরণ করেন। ১৯৭২ সালে সিলেটে চা শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি প্রথম কারাবরণ করেন। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফের গ্রেফতার হন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় ফের গ্রেফতার হন এবং বিনাবিচারে এক বছর জেলজীবন কাটাতে হয় তাকে।

তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী আন্দোলনেও শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন। ক্ষেতমজুর আন্দোলনে তার অগ্রণী ভূমিকার কারণে ক্ষেতমজুর সমিতির সাংগঠনিক রাজনীতির শুরুর দিকেই তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনেও তার ছিল সমান বিচরণ। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। গণমানুষের মুক্তি ও চেতনাগত পরিবর্তনে তিনি সশরীরে রাজপথে যেমন সক্রিয়, তেমনই সক্রিয় তার কলম। বৃত্তবন্দি অপরাজনীতির ধারাভাষ্যসহ আর্থ-সামাজিক ইস্যুতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলম চালিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত