প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ম দিয়ে রাজনীতি, রাজনীতি দিয়ে ধর্ম একবিংশ শতাব্দীর বড় মার্কেট

অনির্বাণ আরিফ : আমেরিকা ফার্স্ট, সবার আগে ভারতমাতা এবং গোমাতা! মুসলমানরাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি, ইসরায়েল মানে ইয়াহুদীবাদ! উনারা কী বোঝাতে চাইলো আপনি বুঝলেন তো? ধর্ম দিয়ে রাজনীতি আর রাজনীতি দিয়ে ধর্ম এটা এখন একবিংশ শতাব্দীর বড় মার্কেট। এ মার্কেটে আপনি শুধু ধর্মের প্রোডাক্ট দিয়ে সাধারণ জনগণের মন নিতে পারবেন না। আপনাকে ধর্মের মোড়কে রাজনীতি ঢুকাতে হবে। জনসাধারণের সস্তা অনুভূতিতে হালকা সুড়সুড়ি দিতে হবে। তাহলেই আপনার মার্কেট ঝমঝমাট হয়ে যাবে। আপনার প্রোডাক্ট পাবলিক গ্রোগাসে গেলবে।

মোদী বলেন, সবার আগে ভারত মাতা আর গো মাতা; এরজন্য মানুষ মারতেও দ্বিধা নেই। ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা ফার্স্ট; তার জন্য যুদ্ধ করাও জায়েজ। এরদোয়ান বলেন, মুসলমানরাই শ্রেষ্ঠ; তা আইএস-আল কায়দা টাইপ মুসলমান বা পাকিস্তান-সৌদির মতো গণহত্যাকারী মুসলিম রাষ্ট্র হলেও। ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রবক্তারা বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র মানে ইয়াহুদীবাদ প্রতিষ্ঠা রাখা; তা প্রতিবেশী রাষ্ট্রে নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে হলেও। এভাবেই মৌলবাদী, ঘৃণাবাদী, বিভাজনবাদী রাজনীতিবিদরা সারা বিশ্বকেই ‘তারা’ এবং ‘আমরা’ বলে বিভক্ত করে ফেলে ঘৃণার চাষ বহুগুণে বাড়িয়েছে। আর এই ঘৃণাই তাদের পপুলিজমের মার্কেটকে চাঙা করেছে।

মনে হচ্ছে ক্রুসেড আবার ফিরে আসছে। মনে হচ্ছে শান্তি এবং পারস্পরিক সহানুভূতি মানুষের আর ভালো লাগছে না। মনে হচ্ছে মানুষ সহিংসতা চায়। তাই দেশে দেশে মানুষ জাতীয়তাবাদী, বিভাজনবাদী নেতৃত্বকে সিলেক্ট করে যাচ্ছে। কিন্তু মজার বিষয় হলো, মোদীভক্ত একজন হিন্দু মুসলিমপ্রীতি দেখানো একজন এরদোয়ানকে সাম্প্রদায়িক বলে উপহাস করে। আবার এরদোয়ান ভক্ত একজন মুসলিম ক্রিশ্চানবাদী একজন ট্রাম্পকে সাম্প্রদায়িক বলে নিজকে পবিত্র ঘোষণা করে। তবে চিরসত্য কথা হলো সাম্প্রদায়িকতা মনষ্ক সবাই কমবেশি ব্লাইন্ড। কমবেশি সাইকো। কেননা যে সাম্প্রদায়িকতা লালন করে সে সবসময় দ্বিচারিতা, ডাবল স্ট্যান্ডার্ড রোল আর হিপোক্রেসিতে আক্রান্ত থাকে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ