প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পদ্মা সেতুর জন্য ‘ছেলেধরার মাথা কেটে নিয়ে যাওয়ার’ গুজব

ডেস্ক রিপোর্ট  : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছেলে ধরা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার সর্বত্র।

ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের শিশু ও অভিভাবকরা। ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্কে গ্রামের শিশুরা বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। অনেক গৃহিনীরা ভয়ে রোজা রাখার জন্য রাতে রান্না করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

অপরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়েছে ভিক্ষুকরা। অপরিচিত কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে গৃহস্থরা ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

উপজেলার কোথাও না কোথাও শিশু ধরে নিয়ে গলা কাটছে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মাঝে। আবার কোথাও কোথাও ‘ছেলে ধরা’ চক্র ধরতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

প্রতিদিনই গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ‘ছেলে ধরা’র খবর আসছে। তবে ঘটনা অনুসন্ধান করতে গেলে তার সুনির্দিষ্ট কোনো সত্যতা মিলছে না।

উপজেলার রাতইল, ঘোনাপাড়া, সাজাইল, বুতপাশা, চরভাটপাড়া, খায়েরহাট, পিংগলিয়া, বরাশুর, পোনা, মাজড়া, বাট্টাইধোপা, ভাটিয়াপাড়া, রাজপাট, ফুকরা, পারুলিয়া ও ধানকোড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ গত দু’সপ্তাহ ধরে ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্কে ভুগছেন।

উপজেলার পরানপুর গ্রামের শিরিনা বেগম বলেন, ‘শুনেছি পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে মানুষের মাথা লাগবে। তাই রোহিঙ্গারা বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সুযোগ বুঝে শিশুদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে।’

উপজেলার সাফলীডাঙ্গা গ্রামের বিজয় মল্লিক বলেন, ছেলে ধরার কথা শুনে আমার স্ত্রী সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে দরজা-জানালা আটকে ঘরে বসে থাকেন। ভয়ে রাতের বেলায় ঘরের বাইরে বের হয় না।

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ছেলে ধরার কোনো সত্যতা পাইনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব। তবে গুজবে কান না দেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি।’

গোপালগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন, ছেলে ধরা এসব সম্পূর্ণ গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। কোথাও এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। তবে কিছু রোহিঙ্গা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। কোথাও রোহিঙ্গাদের দেখা গেলে পুলিশ জানাতে বলেছেন তিনি।

যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত