প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পারকিনসন্সের বিশেষ চিকিৎসা উদ্ভাবন করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রফেসর ড. টিপু আজিজ

মঈন মোশাররফ : পারকিনসন্স রোগ গোটা বিশ্বে বড় সমস্যা। বাংলাদেশে প্রতিবছর ষোলশ’র মতো মানুষ এতে প্রাণ হারান। এর চিকিৎসায় নব্বইয়ের দশকে ডিপ ব্রেইন স্টিম্যুলেশন’ পন্থা ব্যবহারের উপায় আবিষ্কার করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রফেসর ড. টিপু আজিজ। ডয়চে ভেলে

ব্রিটেনের ‘অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট-এর নিউরোসার্জারির প্রফেসর টিপু আজিজ । ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এই চিকিৎসক পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসায় এক বিশেষ পন্থা উদ্ভাবন করেছেন। ব্রিটেনে এই রোগ যাদের আছে, তাদের কাছে এক পরিচিত মুখ প্রফেসর আজিজ। ইতোমধ্যে দু’হাজারের বেশি রোগীর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

পারকিনসন্স চিকিৎসায় বাংলাদেশি গবেষকের সাফল্য
পারকিনসন্স রোগীর হাত-পায়ের কাঁপুনি ও জড়তা রোধে তার মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ইলেক্ট্রোড প্রবেশ করানো হয়। আর সেই ‘ইলেক্ট্রোড’ ব্রেইন পেসমেকারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, যা সাধারণত রোগীর বুকে স্থাপন করা হয়। পেসমেকারটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাত্রায় মস্তিষ্কে ‘ইলেক্ট্রিক্যাল ইমপালস পাঠানো হয়, যা রোগীর শরীরের কাঁপুনি এবং জড়তা পুরো দ‚র করতে সক্ষম । তবে পুরো সার্জারির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং সেটি সম্পন্ন করতে কয়েকঘণ্টা সময় লাগে । শতকরা সত্তরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন সফল হয় ।

ব্রিটেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ কয়েকটি দেশে পারকিনসন্স রোগের এই চিকিৎসাপদ্ধতি চালু করেছেন প্রফেসর টিপু আজিজ । গোটা বিশ্বে অন্তত আড়াই লাখ রোগী এভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন । তবে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশে এই চিকিৎসা চালু করা তার পক্ষে এখনো সম্ভব হয়নি । প্রফেসর আজিজ বলেন, গত বিশ বছর ধরেই চেষ্টা করছি । হঠাৎ করে এই বছর থেকে একটু আঞ্চলিক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আগে তো ওঠেনি।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ স¤প্রতি নিউরোসার্জারিতে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ সম্মাননা সোসাইটি অব ব্রিটিশ নিউরোলজিক্যাল সার্জন্স’ মেডেল পেয়েছেন ড. টিপু আজিজ । অদ‚র ভবিষ্যতে নিজের মাতৃভূমিতেও পারকিনসন্স রোগের আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে চান তিনি। সম্পাদনায় : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত