প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাসা-বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার চুরি চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৫

সুজন কৈরী : অভিনব কায়দায় ফাঁদে ফেলে বাসা-বাড়ি থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ হাতিয়ে নেয়া চক্রের মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উত্তর বিভাগের গুলশান জোনাল টিম। রোববার রাতে রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- তানিয়া আক্তার ওরফে তানি ওরফে এ্যানি ওরফে নদী ওরফে সাদিয়া ওরফে ডা. নওশীন, গাড়িচালক কালাম, সহযোগী আসিফ, দুলারী ওরফে আফসানা ও রায়হান। এর মধ্যে রায়হান উত্তরার একটি শপিং মলের স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রায় ৬ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার সাড়ে ৫ ভরি গলিত স্বর্ণ, চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রি করা দেড়লাখ টাকা ও চুরি করার কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন পার্টি সেন্টারে অভিনব কায়দায় বিত্তশালীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাদের বাসা পর্যন্ত যাওয়ার ব্যবস্থা করতেন তানিয়া। এরপর সুযোগ বুঝে চুরি করে সরে পড়তেন। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার সম্প্রতি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বাসায় স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় করা মামলা নিয়ে কাজ শুরু করেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পেরেছে, সম্প্রতি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুইটি বাসায় স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ চুরি হয়। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও কাজ শুরু করে। দুটি বাসাতেই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে চুরি করা হয়। প্রথম বাসার বাড়িওয়ালার ছেলের বন্ধুর মাধ্যমে আগে একবার ওই বাসায় যান তানিয়া। ওই সময়েই টাগের্ট করে। এরপর সময় সুযোগ বুঝে বিশেষ কৌশলে বাসায় প্রবেশ করেন। প্রথমেই ওই বাসার বিভিন্ন সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। বাসায় প্রবেশের সময় দারোয়ানকে ডাক্তার এবং বাড়িওয়ালার মেয়ের বান্ধবি বলে পরিচয় দেয়। ইন্টারকমে পরিচয় জেনে বাড়িওয়ালা বাসায় প্রবেশের অনুমতি দেন তানিয়াকে। বাসায় ঢুকেই তানিয়া বাড়িওয়ালার কাছে আরেক অভিনব কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বলেন, তিনি ওমান থেকে এসেছেন। তার কাছে থাকা বেশ কিছু ডলার রাখার মত নিরাপদ জায়গা না থাকায় এখানে এসেছেন। প্রথমে রাজি না হলেও একপর্যায়ে বাড়িওয়ালা রাজি হয়ে আলমারি খুলে দেন। তখন সুযোগ বুঝে তানিয়া নিয়ে নেন নগদ টাকাসগ বাড়িওয়ালার মেয়ের রাখা স্বর্নালংকার। দ্বিতীয় বাসাতেও প্রবেশের সময় তানিয়া আশ্রয় নেন ভিন্ন কৌশলের। এবার যোগাযোগ স্থাপন করে হোটেল রেডিসনের কোনো এক পার্টিতে। সাধারনত চুরি করতে যাওয়ার সময় তানিয়া তার বিশ্বস্ত উবার ড্রাইভার কামালকে ফোন দিয়ে আগে থেকেই জানান। এরপর আরেক সহযোগী আসিফ ড্রাইভার কামালকে নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। তানিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত অনুচর হলো দুলারী ওরফে আফসানা। সে সার্বক্ষণিক ছায়া সঙ্গি হিসেবে থাকে তানিয়ার সঙ্গে। চুরি করা স্বর্ণগুলো বিক্রির ক্ষেত্রে আফসানাকে কাজে লাগাতো তানিয়া।

গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের এডিসি গোলাম সাকলাইন জানান, রোববার রাতে তানিয়াকে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার ব্যাগ থেকে প্রায় ৬ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার এবং চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রির প্রায় দেড়লাখ টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত উবারে চালিত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। পরে মাসকট প্লাজার এক স্বর্ণের দোকানের কর্মচারি রায়হানকে চোরাই স্বর্ণ কেনার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় প্রায় সাড়ে ৫ ভরি গলিত স্বর্ণ। চক্রটি মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে সর্বস্ব হাতিয়ে নিতো। চক্রের প্রধান তানিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত