প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকায় অষ্টাদশ শতকের আর্মেনিয়ান গির্জা ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী

মুসবা তিন্নি : পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার গেট হাউজটি পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়বে অষ্টাদশ শতকে নির্মিত ‘চার্চ অব হলি রিজারেকেশন’। ঢাকায় ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যে কয়টি স্থাপনা সগৌরবে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে তার মধ্যে ১৭৮১ সালে আর্মেনিয়ানদের নির্মিত এই চার্চটিও অন্যতম। স্থানীয়দের কাছে যেটি ‘আর্মেনিয়ান চার্চ’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে ঢাকায় আর কোন আর্মেনিয়ান না থাকায় গির্জাটির দেখাশুনা এবং পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশি হিন্দু ও মুসলমানদের হাতে। সাউথ এশিয়া মনিটর

প্রায় ষাট বছর বয়সী শংকর ঘোষ ৩২ বছরে ধরে যুক্ত আছেন চার্চটির পরিচর্যার সঙ্গে। গত পাঁচ বছর ধরে গির্জা পালকের (ওয়ার্ডেন) অনুপস্থিতিতে তিনিই এখন চার্চটির দেখাশুনার দায়িত্বপালন করছেন। ঢাকায় আর্মেনিয়ানদের আগমনের সঠিক সময়টি না জানা গেলেও বাংলায় বিশেষ করে কলকাতায় তাদের আগমন ঘটে ১৬৪৫ সালে। কিন্তু তাদের শক্ত ঘাঁটি ছিল ঢাকায়। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে , ১৮৭৪-৭৫ সালে ঢাকা পৌরসভার নয়জন কমিশনারের মধ্যে দুইজনই ছিলেন আর্মেনীয়। তারা হলেন জে জি এন পোগজ এবং এন পি পোগজ। আর শহরের যে এলাকাটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আর্মেনিয়ানদের বসবাস ছিল সেটি পরিচিতি পায় ‘আর্মানিটোলা’ হিসেবে। যার পূর্ব নাম ছিল ‘মহল্লা আলে আবু সাঈদ’। ঐ এলাকাতেই গীর্জা নির্মাণ এবং তাদের কবরস্থানের জন্য জমি দান করেন আগা মিনাস ক্যাটচিক নামের এক আর্মেনীয়। ১৭৮১ সালে আর্মেনিয়ান এপোস্টলিক চার্চেও অধীনে নির্মিত এই গির্জাটি দৈর্ঘে সাড়ে সাতশো ফুট। ইতিহাস বিবেচনায় গির্জাটির গুরুত্ব বাড়ছে দেশি-বিদেশি নানা পেশার লোকদের কাছে। প্রতিনিয়ত তারা ভীড় করছেন গির্জার প্রাঙ্গণ, বারান্দা ও হল ঘরে। কিন্তু কালের পরিক্রমায় গির্জাটির প্রার্থনা কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম হয়েছে। চলতি ২০১৯ সালে সর্বশেষ প্রার্থনা হয়েছে জানুয়ারি মাসে এবং দীর্ঘ ৫৫ বছর পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এক ক্যাথলিক দম্পতির বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে সর্বশেষ ১৯৬৪ সালে আর্মেনিয়ান চার্চে বিবাহ অনুষ্ঠান হয়েছিলো। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত