প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন
ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্যের পেছনে ছুঁটতে গিয়ে বৈদেশিক নীতিকে অগ্রাহ্য করেন থেরেসা

লিহান লিমা: ব্রেক্সিট বিড়ম্বনার জেরে কনজারভেটিভ দলের দ্বিতীয় নেতা হিসেবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন থেরেসা মে। তবে পূর্বসূরীদের তুলনায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বৃহত্তর মাঠে যুক্তরাজ্যের নেতা হিসেবে খুব কমই প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছেন তিনি।

থেরেসা মে’র সরকার পুরোপুরিই ব্রেক্সিট নিয়ে ব্যতিব্যস্ত ছিলো। তবে সবচাইতে বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে ‘বৈশ্বিক ব্রিটেন’ এর ধারণা নিয়ে ইউকে ইউরোপিয় ইউনিয়ন ত্যাগ করতে ভোট দিয়েছিলো, সেটিই থেরেসার বৈদেশিক নীতিতে প্রাধান্য পায় নি। আন্তর্জাতিকতাবাদ নয়, থেরেসার সরকার ব্যস্ত ছিলো ব্রিটেন কি চায় তা নিয়ে। টোরি পার্টির রাজনীতি করার সময় থেরেসা একবার বলেছিলেন ‘যদি আপনি নিজকে বিশ্বনাগরিক ভাবেন, তবে আপনি কোন দেশেরই নাগরিক নন’। থেরেসার এই মন্তব্যই তাকে দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে মূল ভূমিকা রাখে। থেরেসার পূর্বে ব্রিটেন আরো কিছু প্রধানমন্ত্রী পেয়েছিলো তারা অনেক বেশি দেশাত্মবোধে বিশ্বাসী ছিলেন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার। থেরেসা নিজকে যার সঙ্গে তুলনা করতে ভালবাসেন। থ্যাচার একটি শক্তিশালী বৈদেশিক নীতি বাস্তবায়ন করেছিলেন। কিন্তু মে’র সরকার নিজকে ব্রেক্সিটের পর বাণিজ্য চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছিলো। যা স্বৈরাচারি রাষ্ট্র ও শাসকদের বিরোধীদের ভীষণভাবে উদ্বেগে ফেলে। আর এ কারণেই নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান ব্রিটেন সফর করেন। থেরেসার সরকারের তুরস্কের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও সামরিক অভ্যুত্থানের পর গণহারে হাজারো মানুষকে আটক নিয়ে কিছু বলার মতো অবস্থা ছিলো না। উপরুন্তু এরদোগান সংবাদ সম্মেলনে ব্রেক্সিটের পর প্রতিটি খাতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করা রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে অবস্থান স্পষ্ট না করার এররকম অনেক উদাহরণ থেরেসা মে সরকারের রয়েছে। থেরেসা ব্রিটেনের আন্তর্জাতিকতাবাদের সম্প্রসারণ তো করেন-ই নি উপরুন্তু তার অধীনে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে অনেক মন্ত্রীদের পদত্যাগের হিড়িক দেখা গেছে, যারা কি না বৈশ্বিক ইস্যুগুলো নিয়ে আওয়াজ তুলেছিলেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন যখন সৌদিদআরবের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ‘প্রক্সি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’র অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অফিস তখন তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য সৌদিআরবে ও ওই অঞ্চলে ব্রিটিশ সরকারের নীতিকে প্রতিফলিত করে না। জনসনকে থেরেসা দায়িত্বহীন মন্তব্য দেয়ার দায়েও অভিযুক্ত করেছিলেন। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিভেন উইলিয়ামসন যখন বির্তকিত দক্ষিণ চীন সাগরে এয়ারক্রাফট পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, ডাউনিং স্ট্রিট তখন সাংবাদিকদের বলে, উইলিয়ামসন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাকে খর্ব করছেন। তাকে পরে হুয়াইকে যুক্তরাজ্যে সুবিধা করে দেয়ার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়, যা তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানায়, হয়তো থেরেসার ক্ষমতায় থাকা ইইউর সঙ্গে সফল ও স্থিতিশীল সমাঝোতায় সহায়ক হতো, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার হতো, তিনি হয়তো আরো দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতি দিতে পারতেন। কিন্তু এটি ঘটে নি। বলতে গেলে, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে থেরেসা বিক্রয়কর্মীর মতো দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কোন অবস্থান তৈরি করতে পারেন নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত