প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে চিংড়ি রেনু শিকার, বিলুপ্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ

কেএম নাহিদ : নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে চলছে বাগদা-গলদা চিংড়ি রেণু শিকারের মহোৎসব। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার রেণু শিকার ও বেচাকেনা হলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা স্থানীয় প্রশাসন। মেঘনা নদীর কুলঘেঁষে প্রতিদিন জোয়ার ভাটায় মশারিজাল দিয়ে চিংড়ি রেণু শিকার করছে হাজার হাজার মানুষ। স্রোতের প্রতিক‚লে টানা এ সব জালে আটকা পড়ে বিভিন্ন মাছের পোণা, ডিম ও ভাসমান খাবারসহ নানা জলজপ্রাণি। শত শত পোণার মধ্য থেকে শিকারিরা বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণুগুলো রেখে অন্য ছোট মাছগুলো তীরে ফেলে দেয়। এতে ধংস হচ্ছে বিভিন্ন মাছ ও জলজপ্রাণি। আর দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব চিংড়ি রেণু চলে যাচ্ছে খুলনা, যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। এদিকে রেণু শিকারের নামে অপরিকল্পিতভাবে জলজ প্রাণি ধংসের পাশাপাশি পরিবেশকে সংকটের মুখে ফেললেও সরকারি কোন সংস্থাই এদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। তবে নদীতে মাছের আকাল থাকায় আইন অমান্য করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানান রেণু শিকারিরা। রেণু শিকারি বলেন, নদীতে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় না। অন্য মাছও পাওয়া যায় না। সেজন্য বাধ্য হয়ে রেণু ধরছি। সময় টিভি অনলাইন

একটি চিংড়ি রেণু ধরতে গিয়ে অন্যান্য মাছের অসখ্য রেণু ও ডিম নষ্ট করছে উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, অপরিকল্পিত আহরণের কারণে জীববৈচিত্র ও পরিবেশ ধংস হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ফিস বাংলাদেশের ইকোফিশ প্রকল্প গবেষণা সহযোগী অংকুর ইমতিয়াজ বলেন, তারা শুধু বাগদা পোনা ধরছে তা নয়। সেই সময়ে তারা ৯০ থেকে ১০০ অন্যান্য প্রজাপতির মাছ তারা নষ্ট করেছে। এতে প্রকৃতিতে দীর্ঘ মেয়াদী প্রভার পড়তে পারে। তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিকারিদের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি রেণু ধরা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানালেন।

ভোলা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সহায়তা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব রেণু শিকারিদের কাছ থেকে বেপারিরা প্রতি হাজার ৩শ’ টাকা দরে কিনে সাড়ে ৩০০ টাকা দামে আড়তে বিক্রি করে। আড়ৎ মালিকরা খুলনা-যশোর নিয়ে প্রতি হাজার ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সম্পাদনায়: কায়কোবাদ মিলন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত