প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

পাবনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের অজুহাতে শতবর্ষী গাছ উজার

কাজী বাবলা, পাবনা প্রতিনিধি: সবুজ বৃক্ষশোভিত পাবনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ চত্ত¡র কয়েকদিন আগেও পাখির কলরবে মুখরিত ছিল। তা আজ যেন বিরানভূমি। লোভের আগুনে একের পর এক আম, মেহগনি, কৃষ্ণচুড়াসহ অন্যান্য গাছ কেটে উজার করা হয়েছে। এসব উজার করা গাছের মধ্যে শতবর্ষী ২টি আম ও অর্ধশতবর্ষী মেহগনি গাছ  রয়েছে।

কলেজ অধ্যক্ষ বলছেন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ ও সিঙ্গাপুরের মতো ক্যাম্পাস তৈরির জন্য গাছ কাটা হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ’র বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের জন্য গাছ কাটার দাবি মোটেও যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি। এলাকাবাসি কলেজ চত্ত¡রের বিভিন্ন জায়গার গাছ নামমাত্র নিলাম দেখিয়ে উজাড় করার এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের জায়গার প্রয়োজণে গাছ কাটতে হলে কোন আপত্তি নেই কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে কলেজ চত্ত¡রের বিভিন্ন জায়গার পুরনো গাছগুলো কেটে উজার করার কোন যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। তারা গাছ হত্যাকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্য একটি সূত্র দাবি করছে কলেজটিতে  ঘিরে কেনা বেচায় বিপুল অঙ্কের ব্যবসা রয়েছে। তাই একটি মহলকে খুশি করতেই গাছ উজাড় করে ক্যাম্পাস বিরানভুমিতে পরিণত করা হয়েছে।

পাবনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ পদে মো: জমিদার হোসেন গেল ৩০ এপ্রিল যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ক্যাম্পাসের আবাসিক এলাকার ৫টি লিচু, ২টি কড়াই, ১টি কাঠবাদাম, ১টি বকুল ও ১টি নিম গাছ কোন কারণ ছাড়াই কেটে ফেলেন। এরপর কলেজের ১৯টি গাছ নিলাম করেন। এ গাছের মধ্যে ৫টি আম ও ১৪টি মেহগনি। এর মধ্যে শতবর্ষাধিক পুরাতন ২টি আমগাছ ও অর্ধশতবর্ষী বেশ কয়েকটি মেহগনি রয়েছে। আর ১৯টি গাছ নিলামে বিক্রি করা হলেও ২৩টি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কেটে নেয়া ৪টি গাছের মধ্যে ক্যাম্পাসের শোভাবর্ধণকারি ২টি কৃষ্ণচুড়া, ১টি ঝাউ ও ১টি পাকড় গাছ রয়েছে।

গাছ কাটা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাবনা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: জমিদার হোসেন জানান, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল করার জন্যই গাছ কাটা হয়েছে। সারা ক্যাম্পাস জুড়েই কী ম্যুরাল করবেন যে আবাসিক এলাকার শতবর্ষাধিক আম গাছও কাটলেন? এর জবাবে তিনি বলেন, আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছি। অধ্যক্ষ’র সাথে কথা বলার পর কলেজের একমুখপত্র ল্যান্ডফোনে কলেজে আসার জন্য অনুরোধ করেন। বার বার অনুরোধের পর চড়া গলায় ঘুষ দিযে মুখ বন্ধ করবেন নাকি বললে ফোন কেটে দেওয়া হয়। পরে কলেজ অধ্যক্ষ নিজেই ফোন দিয়ে আবার অন্য শুরে কথা বলেন। তিনি বললেন, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের জন্য অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছেন। তিনি আরো জানান, সিঙ্গাপুরে গিয়ে যেরকম সাজানো গুছানো ক্যাম্পাস দেখেছেন সেই রকম ক্যাম্পাস তিনি করতে চান। তাই সে লক্ষেই তিনি গাছ কেটে পরিস্কার করছেন। সিঙ্গাপুরের মতো ক্যাম্পাস করতে নির্বিচারে গাছ কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধংস করা ঠিক কিনা এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি সংবাদ না ছাপানোর জন্য প্রস্তাব দেন।

শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায় যেখানে বেশি গাছ কাটা হয়েছে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। এ সাইনবোর্ডের অনেক দূরে ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কসপের সামনে ও ফার্মসপের পিছনে আবাসিক এলাকায় এবং মেইনগেট সংলগ্ন যে ৪ টি আম গাছ বিক্রি করা হয়েছে সেখানে কোন কনস্ট্রাকশন করার মতো কোন জায়গা নেই। তাহলে এ গাছগুলো বিক্রির কারণ কি তা কর্তৃপক্ষ সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

এছাড়াও ছাত্রদের এসএসসি শিক্ষাক্রম, এইচএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রদের কাছ থেকে বৃত্তি ও ইন্ড্রাট্রিয়াল এটাসমেন্টের জন্য প্রত্যেকের নিকট থেকে ৯০ টাকা করে কেটে নিয়ে ৫ বারে ৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়। মোবাইল ব্যাংকিং উপবৃত্তির টাকা না দিয়ে নগদে দেওয়ার সময় এ ৯০ টাকা কর্তণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে কলেজ স্টাফদের ডিজিটাল হাজিরাতে কেউ কেউ অনুপস্থিত থাকলেও স্ক্যান করে উপস্থিত দেখিয়ে তা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়। ধর্ম শিক্ষক ৬৩ দিন উপস্থিত না থাকলেও অধিদপ্তরে তথ্য প্রেরণ করা হয়নি। তিনি নিজেই কলেজের কেনাকাটা করে বিভাগীয় প্রধানদের সাক্ষর আদায় করেণ বলে অভিযোগ রয়েছে। দিনদিন প্রতিষ্ঠানটির ক্লাস নিয়েও অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যদিও অধ্যক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির দাবির বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক রওনক আহমেদের সাথে দু ’দিন চেষ্টার পরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পিএস জানান, স্যার মিটিংয়ে ব্যাস্ত থাকার জন্য বক্তব্য পাওয়া সম্ভব না।

 

 

 

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত