প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০রাকাত তারাবি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য মাধ্যম

আমিন মুনশি : তারাবি আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের অনন্য এক ইবাদত। যে ইবাদতের মাধ্যমে মানুষ অন্য সময়ের তুলনায় আল্লাহর অধিক নৈকট্য অর্জনে সৌভাগ্যশীল হয়। কেননা তারাবির নামাজ ২০ রাকাত। যাতে সিজদার সংখ্যা চল্লিশটি। আর প্রতিটি সিজদাই আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠতম একটি স্তর। এরচেয়ে শ্রেষ্ঠতম স্তর আর হতে পারে না। মানুষ যখন আল্লাহ তায়ালার সামনে সিজদায় পড়ে যায়, নিজের মর্যাদাময় কপাল মাটিতে ঠুকে দেয়, মুখে তার জারি থাকে ‘আমার প্রভু শ্রেষ্ঠতম’ তখন এই অবস্থাটি আল্লাহর নৈকট্যের শ্রেষ্ঠতম স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরো রমজান মাসে তারাবির নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন একবার খতম করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

কোনো কোনো মানুষ বলে বেড়ায়, আমরা তারাবির নামাজ আট রাকাত পড়ব, বিশ রাকাত নয়। এক্ষেত্রে প্রকৃত সত্য হলো, এসব লোক নৈকট্য অর্জনের স্তরগুলোর মূল্যায়ন করতে এবং এগুলোকে চিনতেই সক্ষম হয়নি। (পরবর্তী কোনো লেখায় তারাবির রাকাত নিয়ে লেখার ইচ্ছে আছে।) না বুঝে তারা এসব মন্তব্য করে। কথাটা বললাম এ কারণে যে, নবী করিম (সা.)-এর ওফাত হওয়া পর্যন্ত তারাবি উৎসাহ প্রদানের পর্যায়ে ছিল। হজরত সিদ্দীকে আকবর (রা.)-এর খেলাফতকালেও তারাবির জন্য বিশেষ কোনো নিয়ম প্রবর্তিত হয়নি। হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালের প্রাথমিক অবস্থায় লোকেরা বিচ্ছিন্নভাবে রমজানের রাতের নামাজ আদায় করতেন। অতঃপর হজরত ওমর (রা.) বিশিষ্ট সাহাবিদের পরামর্শক্রমে তারাবির বর্তমান পদ্ধতি চালু করেন। (মুসলিম শরিফ)

নাসায়ী ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমদের বর্ণনায় তারাবি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা প্রমাণিত হয়েছে। মুসলিম শরিফের ব্যাখ্যা গ্রন্থে ইমাম নববী (রহ.) লিখেছেন, জেনে রাখো, তারাবি আলেমদের ঐকমত্যেই সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ এবং এর রাকাত সংখ্যা বিশ। (কিতাবুল-আযকার : পৃ. ৮৩) হজরত আলী (রা.)-এর প্রস্তাবক্রমেই হজরত ওমর (রা.) মসজিদে নিয়মিত তারাবির জামাত কায়েম করার নিয়ম প্রবর্তন করছেন। (মুসতাদরাক হাকেম : ১ম খণ্ড, ৪৪০ পৃ.) ইমাম ইবনে তাইমিয়া (র.) লিখেন, হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) কর্তৃক নিয়োজিত হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বিশ রাকাত তারাবিহ ও তিন রাকাত বেতর পড়তেন। (ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া : ২২তম খণ্ড, পৃ. ১২০)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ