প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মমতার প্রায় পরাজয় ও আনন্দবাজার

মৌরী সিদ্দিকা : পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের প্রায় পরাজয়ের পর অনেকেই আনন্দবাজার পত্রিকায় অভিমত ও সম্পাদকীয় পড়ার জন্য উদগ্রীব। আনন্দবাজার সম্পাদকীয় শিরোনাম দিয়েছে পরাজিত। সাধু ভাষায় লিখিত সেই সম্পাদকীয় চুম্বক অংশ চলিতভাষায় পত্রস্থ হল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারলেন। পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলকে এই একটি বাক্যে প্রকাশ করা সম্ভব। নির্বাচনের এই ফল একটি বৃহৎ শিক্ষা। এবং, কোথায় ভুল হয়েছে, এখনও না বুঝলে আর সেই সুযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাবেন বলে ভরসা করা কঠিন। বস্তুত, আদৌ আর পাবেন কি? দেশের বহু অঞ্চলের ভোট যদি নরেন্দ্র মোদীর পক্ষে-বিপক্ষে গণভোটের চেহারা নিয়ে থাকে, অন্তত পশ্চিমবঙ্গের ভোটে তবে বড় প্রশ্ন ছিল রাজ্যের শাসকদের (অপ)শাসন। পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও তার কুক্ষিগত প্রশাসন রাজ্যে যে অনাচার করেছিল, দৃশ্যত বহু ভোটদাতা এই নির্বাচনে তার জবাব দিয়েছেন। জবরদস্তি ও সন্ত্রাসের রাজনীতিকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। অনুমান করা চলে, বিজেপির পক্ষে জনসমর্থনের ঢেউ এখানেই থামবে না। এই সত্য তৃণমূল কংগ্রেস তথা তাহার সর্বময়ী নেত্রী কি, এখনও, বুঝেছেন? কোনও দিন বুঝবেন? বুঝতে চাইবেন? – আনন্দবাজার

অপশাসনের পেছনে রয়েছে গভীরতর ব্যাধি। শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং ঔদ্ধত্য ও তজ্জনিত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। দুর্ভাগ্যের কথা, গত আট বছরে দলের আগাছা সাফাইয়ের কাজ কোনও গুরুত্ব পায়নি। সিন্ডিকেট হতে গরু পাচার, অবৈধ বালির ব্যবসা হতে মাটির চোরাকারবার, বিবিধ অনাচারের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম জড়ায়ে আছে। মানুষ দেখে আসছে। দেখছে, প্রশাসন কী ভাবে দলের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, পুলিশের নিরপেক্ষতা ভেসে গেছে খালবিলে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে ‘সংখ্যালঘু তোষণ’-এর দায়। সংখ্যালঘু সমাজের সাধারণ মানুষ সত্যই কতটুকু সুযোগ পাচ্ছেন, তা বলা শক্ত, কিন্তু ইমাম ভাতা হইতে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শাসক দলের নীতি ও আচরণ পাচ্ছেন অহেতুক ওই তোষণের ধারণাকে প্রশ্রয় দিয়েছে। এটাও সুশাসনের লক্ষণ নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত