প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে দেশে রাষ্ট্রসমূহ কৃষককে কতোটা সহযোগিতা করে?

সৈয়দ ফয়েজ আহমেদ : কৃষকের সঙ্গে অকৃষকের অনুপাত উন্নত দেশে দিন দিন কমে। পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে কৃষকের হার এখন দুই শতাংশেরও কম। ঐতিহাসিকভাবেই কৃষককে সাপ্রেস করে, শ্রমিক পুল তৈরি করেই শিল্প বিপ্লব হয়। আবার সেই শ্রমিকদের সস্তা খাবার জোগাড়ের জন্য কৃষিপণ্যের মূল্যও সবসময় কমিয়ে রাখতে হয়। এগুলো খুব বেসিক কথা। অর্থনীতি ১০১। মুশকিল হচ্ছে এই অতি বেসিক আলাপও বাংলাদেশের মতো দেশে লোকে মাথায় রাখে না।

কৃষি থেকে ম্যানুফ্যাকচারিং পার হয়ে শহুরে সভ্যতা এখন সার্ভিস নির্ভর। এই একমুখী যাত্রা রোধ করার খুব সুযোগ বা প্রয়োজনও খুব একটা নেই। ফলে এদেশের বেশিরভাগ লোক কৃষক থাকবে এই ধরনের ধারণা নেহায়েত রোমান্টিক। কৃষি কোনোকালেই লাভজনক পেশা ছিলো না, কোনোমতে টিকে থাকার জন্য একটা সেফ অপশন ছিলো। তাহলে খাবারের জোগান হবে কীভাবে? কৃষক চাষ না করলে খাবার জোগাবে কে? খাবার না হলে তো মানবজাতিই টিকবে না। এর সমাধান পশ্চিমারা ঠিকই করে নিয়েছে। কৃষি ব্যাপারটা সেখানে ভর্তুকিনির্ভর। মাত্র যে দুই শতাংশ লোক কৃষির সঙ্গে জড়িত থাকে তাদের দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এদের পণ্যের ভর্তুকি এবং বীমার দায়িত্ব সরকারের। যে কারণে দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা চাষি ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি পান। ইউরোপে কৃষিতে বিপুল পরিমাণ ইনপুট সাবসিডি দেয়া হয়। এতে খাবারের দাম যেমন আয়ত্তে থাকে, ফলে অন্যন্য সেক্টরের গ্রোথে সমস্যা হয় না, অন্যদিকে কৃষকেরও ক্ষতি হয় না। রাষ্ট্রের এই ভর্তুকি সত্যিকারের প্রোগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।

মুশকিল হচ্ছে বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফের মতো পশ্চিমা সংগঠনগুলোই তথাকথিত মুক্তবাজারের নামে কৃষকের ভর্তুকি ঠেকানোর আলাপ দেয়। এই আলাপ ঠেকানোই জরুরি। ধানকাটার মতো কাজে জড়িত থাকা অনেকটাই ভিক্ষুককে দুই-এক টাকা দান করার মতো। যিনি দান করেন তার মোরাল এবং সোশ্যাল কারেন্সি গেইন হলেও এই প্রক্রিয়ায় মূল সমস্যা কখনোই সমাধান হবে না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত