প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কড়াইল বস্তিতে প্যালিয়েটিভ সেবার আওতায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ২৮ শিশু ও ৫ শতাধিক বয়স্ক রোগীকে, জানালেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য

স্বপ্না চক্রবর্তী : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর খামার বাড়ি কড়াইল বস্তিতে কমিউনিটি প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টারের (মমতাময় কড়াইল) চলমান প্যালিয়েটিভ সেবা কার্যক্রম পরিদর্শনে যান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড হসপিস প্যালিয়েটিভ কেয়ার এ্যালায়েন্স (ডব্লিউএইচপিসিএ) এর যৌথ উদ্যোগে ২০১৫ সালে ২ লক্ষাধিক মানুষের বসবাসকারী কড়াইল বস্তিতে বয়স্কদের মাঝে এই মহতী সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। এপর্যন্ত ৫ শতাধিক বয়স্ক রোগীর মাঝে এই চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে বলে জানান বিএসএমএমইউ উপাচার্য।

তিনি বলেন, এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড চাইল্ড ক্যান্সার-এর যৌথ উদ্যোগে ওই বস্তিতে ২০১৭ সাল থেকে শিশুদের জন্যও এই সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ পর্যন্ত ২৮ জন শিশুকে এই সেবা প্রদান করা হয়েছে, যাদের বয়স ৩ থেকে ১০ বছর।

তিনি বলেন, প্যালিয়েটিভ সেবা হলো নিরাময় অযোগ্য রোগীদের আমৃত্যু চিকিৎসাসেবা দানের মাধ্যমে রোগীদেরকে যতটা সম্ভব যন্ত্রণামুক্ত বা  ব্যাথামুক্ত রাখা এবং রোগী যাতে স্বস্তি বা আরামবোধ করেন তা নিশ্চিত করা। এই সেবার আওতায় চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে রোগীদের যতটা সম্ভব কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবের অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়।

প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কড়াইল বস্তিতে কমিউনিটি প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড হসপিস প্যালিয়েটিভ কেয়ার এ্যালায়েন্স-এর অর্থায়নের সহযোগিতার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারপরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সহায়তায় এই মহতী সেবা কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

ক্যান্সার, স্ট্রোক ও প্যারালাইসিস, স্নায়ুরোগ, দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট, কিডনির অকার্যকারিতা, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও শয্যাশায়ী রোগীদের প্যালিয়াটিভ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। মমতাময় কড়াইল এর সেবা সমূহ হলো-প্রত্যেক শনিবার বহির্বিভাগে চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা প্রদান, শয্যাশায়ী রোগীদের গৃহ সেবা প্রদান ও পারিবারিক সেবাশিক্ষা প্রদান, গরীব, অসহায় ও একাকী রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান, অসহায় একাকী রোগীদের মাসে একবার প্রয়োজনীয় খাবার সামগ্রী বিতরণ, মাসে একবার চক্ষু পরীক্ষা সেবা প্রদান এবং স্বল্পমূল্যে প্রেসার (রক্তচাপ), ডায়াবেটিস, ওজন মাপা ও নেবুলাইজেশন করা  ইত্যাদি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত