প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদক চায় করদাতার সব তথ্য জানা ও জব্দ করার ক্ষমতা, নেতিবাচক প্রভাবের আশংকা বিশ্লেষকদের

নুর নাহার : দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে যেকোনো ব্যক্তির তথ্য নিতে পারবেন। এমনকি চাইলে সেগুলো জব্দও করতে পারবেন। এমন সব সুবিধা রেখে দুদক আইনের সংশোধন প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। তবে, বিশ্লেষকরা এটিকে নেতিবাচক হিসেবেই দেখেছেন। তাদের মতে, এতে সৎ ও সাধারণ করদাতারা হয়রানির শিকার হতে পারেন। এমনকি কর আদায়েও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা রয়েছে। চ্যানেল ২৪

সক্ষম করদাতারা আয় অনুযায়ী কর দেবেন, এটাই নিয়ম। এর ব্যত্যয় হলে কর ফাঁকির দায়ে ওই করদাতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে কর বিভাগ। সারা বিশ্বে এটাই রীতি।

করদাতার সম্পদ ও আয়ের তথ্য কর বিভাগে জমা থাকে। বলা যায়, কর বিভাগ হচ্ছে করদাতার সংবেদনশীল তথ্যের জিম্মাদার। প্রয়োজনের বাইরে ওই তথ্যের ব্যবহার বা অন্য কারও হাতে দেয়ারও সুযোগ নেই।

তবে, এবার কর বিভাগের এ এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ পড়তে যাচ্ছে দুদকের। দুদক আইনে একটি সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
যার ফলে দুদক কর্মকর্তারা কোনো গ্রহণযোগ্য অভিযোগ ছাড়াই যে কারও আয়কর নথি তলব করতে পারবেন। এমনকি যে কারও আয়কর সংক্রান্ত নথিপত্র জব্দও করতে পারবেন। যা আয়কর আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। এ প্রস্তাবনা এখন ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে।

পিআরআই নিবার্হী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আন্তর্জাতিক বেজ প্রাকটিসের সাথে এটি খুবই সাংঘষিক একটি ব্যাপার। যদি কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয় তাদেরকে এটি প্রমাণ করতে হবে কেনো এই বিশেষ তথ্যের প্রয়োজন বিশেষ ব্যক্তির ক্ষেত্রে। যদি তারা বলতে পারে এই সন্দেহজনক কারণে আমরা তার এই তথ্য চাচ্ছি সেই ক্ষেত্রে বিচারকের তত্ত¡াবধানে তাদের কাছে এটি দেয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি বাস্তবায়ন হলে হয়রানির সম্মুখীন হতে পারেন অনেকেই। এনবিআর-দুদক সমনম্বয়ের পাশাপাশি জবাবদিহীতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ তাদের।

সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান যদি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে নিজস্ব সক্ষমতা নিয়ে তাহলে এসব প্রশ্ন উঠে না। তবে অবশ্যই নাগরিক হিসেবে আমাদের যে অধিকার রয়েছে সংবিধান প্রদত্ত সেসব জায়গাগুলোতে যাতে নাগরিককে হয়রানি না করা হয় বিভিন্ন কারণে। সেটি নিশ্চিত করাটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এনবিআরের কর কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের আইন অনুমোদন হলে, কর আদায়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে। করদাতারা আতংকিত হয়ে কর দেয়ায় নিরুৎসাহিতও হতে পারেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত