প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

রোজায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন
এক হাতে ইফতার, অন্য হাতে সংকেত

সুজন কৈরী : রমজান মাসে সারাদিন রোজা রেখে প্রচন্ড খরতাপ মাথায় নিয়ে রাজধানীর প্রতিটি রাস্তার মোড়ে রোদ-বৃষ্টি, ঝড়, ধুলো-ধোঁয়া ও শব্দ উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। রাস্তায়ই ডিউটি, রাস্তায়ই ইফতার করছেন তারা।

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রাস্তার ট্রাফিক জ্যামও। সন্ধ্যা নামার আগেই ঘরমুখো মানুষের বাসায় ফেরার পালা শুরু হয়।এ সময় ট্রাফিক জ্যাম সামলাতে হিমশিম খেতে হয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। এরপরও ঘরমুখো মানুষ যেন ইফতারের আগেই গন্তবে পৌঁছাতে পারেন, এজন্য নিরবে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন তারা। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের চেষ্টায় সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করতে পারছেন। কিন্তু পারছেন না ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। দায়িত্ব পালন তরতে গিয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে ইফতার করা হয়না তাদের। ইফতারের সময়ও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এর ফাঁকেই কোনভাবে রাস্তাতেই সেরে নিতে হয় তাদের ইফতার। গাড়ির চাপে সৃষ্ট যানজটের কারণে অনেক সময় বসারও সুযোগ থাকেনা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ইফতারি করতে হয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। ইফতারির ফাঁকেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে হয়ে তাদের। শুধুই ইফতারই নয়, ঈদের জামাতেও নামাজ পড়তে পারেনা অনেক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। কোনো একটি ঈদ জামাতের পাশেই রাস্তার মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাদের। একজন মানুষ হয়েও তার শরীরে ঈদের দিনেও থাকেনা নতুন কোনো জামা, জড়ানো থাকে সেই দায়িত্বরত ইউনিফর্ম।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীরর কয়েকটি রাস্তার মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা এক হাতে ইফতারি খাচ্ছেন, আর এক হাতে যানবাহনকে সংকেত দিচ্ছেন।

একটি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্বরত একজন পুলিশ সদস্য জানান, ইফতার দাঁড়িয়ে বা বসে থাওয়াটা নির্ভর করে গাড়ির উপর। যানবাহণের চাপ কম থাকলে বসে সহকর্মীদের সঙ্গে করা যায়। আর চাপ বেশি থাকলে সবাই রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থাতেই ইফতার করেন।

তিনি বলেন, রাস্তায় ইফতারি করতে কষ্ট লাগে। ওই সময় পরিবারের সদস্যদের চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠে। তাদের সঙ্গে ইফতার করতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু আগে দায়িত্ব পরে অন্য সব।
তিনি আরো বলেন, দেশ সেবায় চাকরিতে যোগদানের শুরু থেকে ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভ‚তিকে বাদ দিয়েছি। জাতীয় সকল উৎসবে সবাই যখন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দ করে, আমরা তখন সবকিছু ভুলে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।

ইফতার প্রসঙ্গে এ ট্রাফিক সদস্য বলেন, পুলিশের ইফতারিতে তেমন কোনো সুস্বাদু খাবার থাকে না। খাবারের তালিকায় থাকে সামান্য ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি ও পানি।

এদিকে রোজা রেখে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আবার অনেকে রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে যান। কেউ কেউ মারাও যান। গত সোমবার দুপুরে ডিউটিরত অবস্থায় ট্রাফিক কনস্টেবল আজিজুল ইসলাম প্রচন্ড রোদে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত