প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডাক্তারের ফেসবুকিং অথবা ফেসবুকে ডাক্তার

আমেনা বেগম ছোটন : প্রায় ৯ বছর প্রবাসে থাকার সুবাদে ডাক্তার থেকে আমপাবলিক হয়ে গেছি বলা যায়। ফেসবুকে বলিষ্ঠ মতামত দেয়া শুরু হয়েছে খুব বেশিদিন কি হয়েছে? এখনো অনেকে বাংলা লিখতে পারে না, ফেসবুকে ঘ্যানঘ্যান করার মতো সময় খুব বেশি লোকের নেই। দেশের সবারই সবার ব্যাপারে বিবিধ অভিযোগ আছে। তবে বেশিরভাগ ডাক্তাররা ফেসবুক ইউজ করতে পারেন বলে তর্কাতর্কি তাদের সঙ্গেই বেশি।

২০১২ সাল থেকে ফেসবুকে ডাক্তারের প্রতি অস্বাভাবিক ঘৃণা দেখতে দেখতে গা-সহা হয়ে গেছে। আগে ভারি আঁতে ঘা লাগতো, নিজের মেডিসিন-হেলথ অ্যাডমিন-বাংলা ব্যাকরণ-সব জ্ঞান নিয়ে মানুষের সঙ্গে তর্ক করতাম, এরপর বুঝিয়ে বলতে চেষ্টা করতাম, কিছুকাল হয় বুঝলাম এর চেয়ে বনে গিয়ে কান্নাকাটি করলে পশুপাখির কিছু মায়া হতে পারে, মানুষের দয়া হবে না। তারা চাইবেন ডাক্তার হাসিমুখ, ফুসমন্তর দিয়ে রোগী ভালো করবেন, অন্যদের কাছ থেকে ভিজিট নিলেও তাকে মুফতে দেখবে, ডাক্তার খাবে কি, তার বাচ্চা দেখবে কে, তার শাশুড়ি কি ওল্ডহোমে থাকবে নাকি এগুলো কি তার দেখার বিষয় নাকি। তাই ফেসবুকে যতোটা লিখি ততোটাই সময় নষ্ট।

আজকেও মেলা সময় নষ্ট করেছি, কেউ আমার কথা বুঝবে বলে মনে হয় না। তো ডাক্তারদের একটা কথা জিজ্ঞেস করি, এই যে আপনারা জনগণের উপর রাগ অভিমান করে তাদের বোঝাতে চান, যে আপনার উপর রোগীর ওভারলোড, ইসিজি মেশিন, ডিফিব্রেলেটর, মনিটর আরও নানাবিধ যন্ত্রপাতি বা অ্যালাইড হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট ইত্যাদি চিকিৎসা সামগ্রীর কিছু নোই (ক্ষেত্র বিশেষে ডাক্তার জানেনই না এসব তার অধীনে থাকা দরকার, তিনিও তার মাথা আর কাগজ-কলম ছাড়া অন্য উপকরণ চান না) যতো সময় ফেসবুকে থেকেছেন, কজন মানুষকে এটা বোঝাতে পেরেছেন? যেহেতু কেউ আপনার সীমাবদ্ধতা বুঝতে সক্ষম নন, আপনিই বা কেন তাদের বোঝাতে যাচ্ছেন?

ফেসবুকে নানা রকম মজার জিনিস আছে, সেগুলো দেখেন, কেন স্ট্রেস বাড়াচ্ছেন? লোকজন ডাক্তারকে বকে শান্তি পায়, বাকিরাও তাদের নেতিবাচক স্মৃতিরোমন্থন করে আরও লাইক পায়-আপনি নিতান্ত বেরসিকের মতো সেখানে কেন হানা দেন? তাদের আশা, তারা আপনার কাছে যাবে, বিশ-পঞ্চাশ টাকায় সব মুশকিল আসান হয়ে যাবে। সেই অসম্ভব সার্ভিস না দিয়ে আপনি কেবল সহানুভূতি চান কেন? বুঝলাম আপনি জীবনে বিশ-ত্রিশবার রক্ত দিয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন রোগী বাঁচাতে, এর বিনিময়ে ফেসবুকে কেউ আরেক ডাক্তারকে গালি দিলে আপনি রক্তের দাম চান কেন? আপনার রক্ত কি সেই ফেসবুকার নিয়েছে যে, সে সব ডাক্তারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে? বিশ ব্যাগ রক্ত দিয়ে এত্তো লোভ তো ভালো না ভাই।

ডাক্তাররা ফেসবুকে যতো রাগ গোস্বা দেখান, বাস্তবে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তার বিধানে কোনো রকম ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যার যখন খুশি দু’ঘা দিয়ে যাচ্ছে, নাইট ডিউটিতে যাবার সময় পুলিশ মুখে টর্চ ফেলে ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দিচ্ছে, কিছুই করতে পারছেন না। বরং নিরীহ নন- মেডিকেল ফেসবুকারের সঙ্গে ঝগড়া করছেন। মাশরাফির উপর রাগ করে লাভ নেই। তার বাপ-মা তাকে খেলার মাঠ থেকে উঠিয়ে পড়ার টেবিলে বসিয়ে ডাক্তার বানালে তাকেও শুনতে হতো, ফাইজলামি করেন, কি করবো আপনাকে বলেন। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দিতেন, বেলা ৪টায় ডিউটি শেষে আমি বাসায় ছিলাম, তখন এমপি এসে আমাকে গালাগাল করেছে। সিনেমার একটা ডায়লগ মনে পড়ে, ‘লোকটা কি পাগল? কে পাগল, তা নির্ভর করে সে গরাদের কোন পাশে আছে তার উপর’। আপনি যদি নন-মেডিকেল হতেন, মাথায় তুলে রাখতেন ডাক্তারদের? বলুন? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত