শিরোনাম
◈ তনু হত্যা মামলায় ২ সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি ◈ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমল কেন, ব্যাখ্যা দিল আদানি পাওয়ার ◈ চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ বন্যার পর কেন চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইছে নেপাল? ◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে শেয়ারবাজারে বড় পতন, বাড়ছে সরকারি বন্ড বিক্রি ◈ ইং‌লিশ লিগের ক্লাবগুলোর ট্রান্সফার ফি, সবার উপ‌রে ম‌্যানচেস্টার সি‌টি ◈ পোশাক রপ্তানির সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রপতির আশ্বাস ◈ কওমি মাদরাসার জন্য ৬ শিক্ষা বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত জানালেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি : সংসদে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস ◈ সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশিত : ২৩ মে, ২০১৯, ১২:১৪ দুপুর
আপডেট : ২৩ মে, ২০১৯, ১২:১৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাট ও হোগলা দিয়ে তৈরি পণ্য রফতানি হচ্ছে ২৬ দেশে

ডেস্ক রিপোর্ট : স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় পাট, কুমিল্লা থেকে আসে হোগলা। এ দুই কাঁচামালের মিশেলে তৈরি হচ্ছে ম্যাট, পাপোশ, টুপি, ফুলের টব, ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্য। পরিবেশবান্ধব কারখানায় তৈরি এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে বিশ্বের ২৬টি দেশে। বনিক বার্তা

২০১৪ সালে রাজবাড়ী শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে বরাট ইউনিয়নের ভবদিয়া এলাকায় নিজের তিন একর জমি, জমানো কিছু টাকা এবং ইসলামী ব্যাংকের সহযোগিতায় ‘গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডেরকারখানাটি গড়ে তোলেন প্রকৌশলী মো. হাকিম আলী সরদার। লক্ষ্য ছিল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে নিজ এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সেই স্বপ্ন পূরণে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটিতে এখন নিয়মিত কাজ করছেন ৩০০ শ্রমিক। চুক্তি ভিত্তিতে কাজ করছেন আরো ৭০০ জন, যাদের বেশির ভাগই পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন।

পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. হাকিম আলী সরদার বলেন, রাজবাড়ী জেলাটি অনেক অবহেলিত। এখানে তেমন কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। যদিও এ জেলার অনেক ব্যক্তি আছেন, যারা ঢাকায় বড় বড় শিল্প-কারখানা গড়ে তুলেছেন। নিজের জেলার মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ক্ষুদ্র এ উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমি। জেলার মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ ডলার টার্নওভারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের পণ্য বিশ্বের ২৬টি দেশে রফতানি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় ইউরোপে। জার্মানির নানু-নানা, স্পেনের নিহাউ, যুক্তরাজ্যের ডিজাইনিং কালার ও গ্রিন পাইওনিয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য বিক্রি করে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেড।
কারখানাটির ব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কারখানার বিশেষত্ব হচ্ছে সব কাঁচামালই দেশীয় উৎস থেকে আসে।
রাজবাড়ীতে প্রচুর পাট চাষ হয়, তাই এ জেলা থেকে পাট কেনা হয়। আর হোগলা কিনে আনা হয় কুমিল্লা থেকে। পাট ও হোগলা দিয়ে তৈরি করা এসব পণ্য রফতানি হচ্ছে জাপান, কানাডা, আমেরিকা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরবসহ অনেক দেশে।

পরিবেশবান্ধব কারখানাটির সম্ভাবনার পাশাপাশি বেশকিছু সমস্যার কথাও জানিয়েছেন এর উদ্যোক্তা হাকিম আলী সরদার। তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদিত পণ্য দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে দেশের বাইরে যায়। অনেক সময় ঘাটেই তিন-চারদিন ট্রাক আটকে থাকে। বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে, ঘন ঘন লোডশেডিং হয়। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া ব্যাংক সুদের হার অনেক বেশি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো বড় আকারে কারখানাটি করতে চান বলেও জানান তিনি।

এসব সমস্যা নিয়ে কথা হলে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্রাফট লিমিটেডের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের কথা আমি শুনেছি। কথা বলেছি ওই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সঙ্গে। তাদের ওখানে বিদ্যুতের সমস্যাটা বেশি। আমি তাদের বলেছি একটি আবেদন নিয়ে আসতে। ওনাদের কারখানায় যাতে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

  • সর্বশেষ