প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাবধান, রাইড শেয়ারে ছিনতাইকারী!

নিউজ ডেস্ক : রাইড শেয়ারিং সার্ভিসে ঢুকে পড়েছে ছিনতাইকারী চক্র। এরা উবার, পাঠাও, সহজের মতো প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন করলেও অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহন করছে না। যাত্রীকে প্রলুব্ধ করতে অনেক সময় অ্যাপসের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকা রাখছে। পথে সুযোগ বুঝে যাত্রীর সবকিছু হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। অ্যাপস চালু না করায় চালক বা যাত্রী সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকছে না রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। ফলে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। বাংলাদেশ প্রতিদিন।

অনেক সময় প্রমাণ না থাকায় পুলিশের কাছে অভিযোগও নিয়ে যাচ্ছেন না ভুক্তভোগী। এমনই এক ভুক্তভোগী ফরিদ হাসান গত ১৪ মে সন্ধ্যায় রাজধানীতে ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি বলেন, শাহজাদপুরে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে মতিঝিল এজিবি কলোনি যাওয়ার জন্য পাঠাও অ্যাপসে মোটরবাইক অনুসন্ধান করছিলাম। অ্যাপসে কাছাকাছি কয়েকজন পাঠাও রাইডারকে দেখা গেলেও কেউ সাড়া দেয়নি। নতুন বাজার মোড়ে এসে অনেকগুলো মোটরবাইক দেখতে পাই। কিছুক্ষণ দাঁড়ালে একজন এসে ‘পাঠাও’ খুঁজছি কিনা জানতে চান। গন্তব্যের কথা বললে রাজি হন। অ্যাপসের কথায় মোবাইল নষ্ট বলে জানান। বলেন, ‘আপনার মোবাইলে ভাড়া যা আসে তাই দিয়েন।’ শেষে ১৩৫ টাকা চুক্তিতে বাইকে উঠি। চালক যানজট এড়ানোর কথা বলে বনশ্রীর পাশ দিয়ে মেরাদিয়া অভিমুখের সড়কে ঢোকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর ফাঁকা জায়গায় প্রস্রাবের কথা বলে হঠাৎ বাইক ব্রেক করেন। মুহূর্তে আরেকটি বাইকে তিনজন এসে দাঁড়ায়। তারা চালককে থাপ্পড় দিয়ে চলে যেতে বলে। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমার দুটি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও ঘড়ি নিয়ে যায়। ফরিদ বলেন, ‘আমার ধারণা ওই চালকের সঙ্গে ছিনতাইকারীদের সম্পর্ক আছে। এজন্যই সে অ্যাপসের মাধ্যমে যেতে চায়নি এবং মূল সড়ক রেখে নিরিবিলি সড়কে বাইক নিয়ে গেছে। ছিনতাইকারীরা তো বাইকটিও নিতে পারত।’
তিনি বলেন, নিয়মিত রাইড শেয়ারে চলাচল করি। ইদানীং বেশির ভাগ বাইকচালক অ্যাপসের মাধ্যমে যেতে চান না। অ্যাপসের মাধ্যমে রিকোয়েস্ট পাঠালে একসেপ্ট করেন না। এর আগেও দু-তিনবার এভাবে গেছি। তখন অবশ্য বিপদে পড়িনি। এভাবে যাওয়া তো নিরাপদ নয়। ওই চালককেও চিনি না। এখন প্রতিটা জনবহুল মোড়ে একসঙ্গে অনেক চালককে অ্যাপস ছাড়া ভাড়া খুঁজতে দেখা যায়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে উবার অফিসে গেলে তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার মতো কোনো কর্মকর্তা বাংলাদেশে থাকেন না। প্রশ্ন রেখে গেলে পরে উত্তর জানাবেন।

পাঠাও-এর বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা ওসমান সালেহ বলেন, অফলাইন রাইড (অ্যাপস ছাড়া) যাত্রী ও চালক উভয়ের জন্য অনিরাপদ। কোনো ধরনের ছিনতাই বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে যাত্রী বা চালক কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। এজন্য যাত্রীকেই সচেতন হতে হবে। তিনি অ্যাপস ছাড়া যাবেন না। এ ছাড়া চালকের যানবাহনটিও ছিনতাই হতে পারে। এ ব্যাপারে আমরা চালকদের নির্দেশনা দেই। তবে চাপ প্রয়োগ করতে পারি না। এখন গ্রাম থেকে অনেক চালক ঢাকায় এসেছেন যারা কোনো প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন ছাড়াই রাইড শেয়ার করছেন।

সূত্রমতে, রাজধানীতে এখন ৬ লাখের ওপরে বাইকার রাইড শেয়ার করছেন। গত বছরেই শুধু ঢাকায় নিবন্ধিত হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৪টি মোটরসাইকেল। বাইরে থেকেও ঢুকছে অনেক মোটরসাইকেল। পাঠাওয়ের হিসাবে সারা দেশে তাদের আড়াই লাখের মতো বাইকার আছে যার বড় অংশ ঢাকায়। এ ছাড়া উবার, পাঠাও, ওভাই, ও-বোন, সহজ, স্যাম, চলো, ইজিয়ার, পিকমি, আমার বাইক, বাহন, ঢাকা রাইডার্স, ঢাকা মটোসহ অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রাইড শেয়ারের সুবিধা দিচ্ছে।
এগুলোর অধিকাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক। সহজে কাজের সুযোগ মেলায় প্রতিদিন রাইড শেয়ার করতে রাজধানীতে পাড়ি জমাচ্ছে অসংখ্য নতুন মুখ। এসব চালকের অধিকাংশেরই রাজধানীর ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালানোর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরা প্রায়ই উল্টো দিক দিয়ে বাইক ঢুকিয়ে বিভিন্ন সড়ক, অলি-গলি বন্ধ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যেখানে সেখানে পার্ক করে সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

এসবের সঙ্গে রাইড শেয়ারিংয়ে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা অপরাধের অভিযোগ। ২০১৭ সালে ঢাকার রাস্তায় চলমান গাড়িতে নারী যাত্রীর সামনে উবার চালকের ‘হস্তমৈথুন’, চট্টগ্রামে উবারচালিত গাড়িতে তরুণী ধর্ষণ, উবার চালকের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু, মাদক বহনের অভিযোগে পাঠাও চালক আটক থেকে ছিনতাইয়ের অভিযোগ প্রশ্নের মুখে ফেলেছে রাইড শেয়ারকে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ