প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মা ও শাশুড়ি মা

আলফা আরজু : ক’দিন আগের শাশুড়ী মা বিষয়ক আমার একটা পোস্ট পড়ে আমার এক আত্মীয় রাগ হয়ে বলছেন, ‘টের পাবা... পোলাপাইন বিয়া করুক’ (মনে মনে বলছি... অভিশাপ দিয়েন না, প্লিজ)...আমি বললাম, ‘আমি নিজে যদি মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্বকে স্ত্রীর (পার্টনার-প্রেমিকা/প্রেমিক) প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ব এক করে ফেলি... তাহলে কষ্ট পাবো। সারাজীবন পাবো। আর যদি আমি একটা সহজ হিসাব কষতে জানি যে ‘মা ও স্ত্রী’র প্রতি ভালোবাসা এক নয়। তার প্রকাশও এক হবে না। একটু ত্যানা পেঁচিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি... জৈবিক বিষয়গুলো অস্বীকার করে আপনি সন্তানকে আপনার আঁচলের নিচে রাখতে চাওয়াটা অসুস্থতা। সব জীবেরই জৈবিক চাহিদা আছে। আর বেশি ‘খুল্লাম-খোলা’ কিছু কওয়নের নাই। বাকিটুকু বুঝে নিয়েন। তাই সন্তান তাদের সঙ্গীর দিকে যেই আবেগ-অনুভূতি-ভালোবাসা নিয়ে তাকাবে বা তেলাবে... তা মাকে করবে না। ওকে। এই হিসেব কষতে আপনার বিরাট কোনো প-িত হওয়নের দরকার নাই। এখন আসি... সামাজিক পরিম-লে। সন্তান তার সঙ্গীকে নিয়ে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেবে। সেটা পরে আপনাকে জানাতে এলে... আপনি যদি মুখের উপর বলে দেন ‘বউই তোর সব। ওর কথায় উঠস-বসস ইত্যাদি প্যান প্যান করেন... সেই সন্তান আপনার কাছে আর স্বাভাবিক হবে না।’ সঙ্গীকে নিয়ে ঘুরবে-ফিরবে-শপিং-টপিং-এইটা-ওইটা বহুত কিছু করবে। আপনি তাদের সেসব উচ্ছলতা ও পাশাপাশি চলা দেখে ‘মা’রে পাত্তা দেয় না। বউটা খারাপ ও উচ্ছৃঙ্খল ও বেয়াদব ও বেশি বুঝে ইত্যাদি বহু প্রকার বিশেষণ দিয়ে ‘ফুপায়-ফুপায়’ এরে তারে বিচার দিবেন। তাহলে... জীবনে সেই বউ আপনাকে নিজের মা’র আসনে বসাবে না। আপনি সন্তানের হৃদয়ে আপনার জায়গা ও সঙ্গীর জায়গা এক ভেবে বসলে সমস্যা। জীবনেও শান্তি পাবেন না। সারাক্ষণ ছেলের বউ ভালো না ভালো না কইরা ‘ফচফচ কইরা কাইনদা কাটাইবেন’... কোনো সমাধান পাইবেন না। একটা সমাধান হতে পারে (সন্তান যদি গাটস্ ছাড়া হয়)... তাহলে সঙ্গী ছেড়ে আপনার আঁচলের নিচে ফিরতে পারে। মানে হলো ‘আপনি মা হয়ে একটা সংসার ভাঙার কারণ হতে পারেন।

বাংলাদেশ ও ভারতীয় পারিবারিক ও সামাজিক পরিম-লে মোটামুটি সব নারী একটা সুখের ও শান্তির পরিবার চায়। স্বামীর বাড়ির সবাইকে নিয়েই থাকতে চায় (ব্যতিক্রম আলোচ্য নয়)। আপন করতে চায়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সহজ ও সাবলীল তখনই হয়... যখন ছেলের পরিবারের মানুষগুলো আন্তরিক হয়। আমাদের আম্মা-আব্বা শ্বশুর-শাশুড়ি থেকে কিভাবে... আমার ভাবির জন্য ‘বাবা-মা’ হয়ে উঠেছিলেন... সেই কথা একবার বলেছিলাম। আবার বলি ‘অন্য এক পরিবার, আলাদা সংস্কৃতি থেকে আসা মেয়ে (বউ) ও ছেলে (মেয়ে জামাই)কে সময় দিন ও আপনার পরিবারে ‘ইন্টিগ্রেট’ হতে সহযোগিতা-সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আগান। বিয়ের রাত বা বিয়ের আগে থেকেই যদি ধইরা নেন ‘এইডা খারাপ’... তাহলে সমস্যা বাড়বে... ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলোর ভালোবাসার সংসারে ভাঙচুর আসবে। মা হিসেবে বা মুরব্বি হিসেবে একটু সহানুভূতি-ভালোবাসা দেখান। দেখবেন...ওরা আপনার জন্য জীবন দিয়ে করবে। পাদটীকা : চলেন সন্তানদের সঙ্গীদেরও বুকে টেনে নেই। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত