প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কয়েকটি জেনারেশন বিকলাঙ্গ  হয়ে গেলো, অতঃপর টনক নড়লো!

ডা. জাকির হোসেন : অতি সম্প্রতি উচ্চ আদালত বাজার থেকে অর্ধশতকের উপরে ভেজাল ভোগ্যপণ্য সামগ্রী প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে।  হিসাবটা যতোই হোক সেটা আলোচ্য বিষয় নয়। আলোচ্য বিষয় হলো এই ভেজাল নিয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পত্র-পত্রিকায়, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু কখনই এর বিরুদ্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। কিংবা অপরাধীদের বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো শাস্তি সাধারণ জনগণের চোখে পড়েনি। ভেজাল খাদ্যের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে অতীতে চিকিৎসকেরা তাদের মতামত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতকর্তামূলক বিজ্ঞাপন দিয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। আর এই অবিচারের ফলাফল সবচেয়ে বেশি ভোগ করেছে আমাদের দেশের সাধারণ জনগণ। খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে দেশের আপামর জনসাধারণ সবাই। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা গেলো না।

প্রতিবছর রমজান মাসের আগে কিছু ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে পুরো জাতিকে সান্ত¡না দেয়া হয়। আর বিচারহীনতার প্রবণতায় খাদ্যে ভেজাল আজ মহামারী আকার ধারণ করেছে। মেগাসিটি ঢাকাতে প্রায় তিন থেকে চার কোটি মানুষের বসবাস। প্রতিদিন সমগ্র দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ তাদের নানা রকম অফিসিয়াল, ব্যবসায়িক কিংবা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আগমন করতে হয়। এসব মানুষ এখানে প্রতিদিন যা আহার করছে তার প্রায় শতভাগ খাবারে পরীক্ষা করলে কোনো না কোনোভাবে ভেজালের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে। আজকাল হরহামেশাই বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার ও ফলমূল আকর্ষণীয় করে ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য ক্ষতিকর কার্বাইড, ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং, ফরমালিন, প্যারাথিয়ন ব্যবহার করা হয়। বাজারে এমন কোনো ভোগ্যপণ্য পাওয়া যাবে না যাতে ভেজালের অস্তিত্ব নেই। যেমন মুড়িতে ইউরিয়া, সরিষা তেলে বিষাক্ত সায়ানাইড, আম পাকাতে বিষাক্ত কার্বাইড, ফলমূল ও শাকসবজিতে ফরমালিন, মসলায় রং কিংবা ইট ও কাঠের গুঁড়া, চালে পাথর দানা, দুধে পানি মিশিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে।

আর এসব বিষাক্ত খাবার খেয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমাদের শিশুরা এবং গভবর্তী নারীরা। এসব খাবার গ্রহণের ফলে আজকাল মানুষের মধ্যে অ্যালার্জি, অ্যাজমা, চর্মরোগ, বমি, মাথাব্যথা, খাদ্য বিষক্রিয়া, অরুচি, উচ্চরক্তচাপ, ব্রেন স্ট্রোক, কিডনি ফেলিউর, হার্ট অ্যাটাক, লিভার সিরোসিস প্রভৃতি শারীরিক সমস্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। গভবর্তী নারীর ভ্রƒণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বিকলাঙ্গ সন্তান প্রসব করছে, অল্প বয়সে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জরায়ু ডিম্বানুর কার্যক্ষমতা। আজকাল ঢাকার বড় বড় হাসপাতালগুলোর শিশু ওর্য়াডে যে পরিমাণ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় তার হিসাব শুধু চিকিৎসকেরাই বলতে পারবেন। দেশের অন্য কোনো সংস্থা এই হিসাব রাখে না বা রাখার প্রয়োজন অনুভব করেনি। কতো শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জম্মগ্রহণ করে একটি পরিবারের আজীবনের বোবাকান্না হয়ে জীবনধারণ করছে তার খবর কেউ রাখে না। এভাবে কতোগুলো বিকলাঙ্গ জেনারেশন এই বাংলাদেশের বোঝা হয়ে বড় হয়ে উঠছে তারও সঠিক পরিসংখ্যান কোনো সংস্থার খাতায় বা রাষ্ট্রীয় হিসাবে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এতো বড় ক্ষতির পর অবশেষে উচ্চ আদালত কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে সাধারণ ভোক্তাদের মনে। তবে এই আশা কতোদিন জীবিত থাকবে নাকি পথিমধ্যে নিরাশার অন্ধকারে হারিয়ে যাবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত