প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

কি হতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে, জিতবে কোন দল

মৌরী সিদ্দিকা ও শেখ নাঈমা জাবীন : বিভিন্ন সংস্থার জরিপ যে বিভিন্ন, এটাই প্রমাণ করে যে সব সমীক্ষা সঠিক পদ্ধতি মেনে করা হয় নি। তবে ভারত জুড়ে মোদী গং এগিয়ে আছে এমনটা আভাস পাওয়া গেলেও তার মধ্যে ভ্যারিয়েন্স (ভেদমান) যথেষ্ট বেশি। বর্তমান

ভারতজুড়ে নির্বাচন হলেও, এবার সবথেকে বেশি আকর্ষণীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। তার কারণ বিজেপি খুব ভালো ফল করার চেষ্টা করছে এই রাজ্যে। স্বভাবতই পঞ্চাশের দশকের পর রাজ্যে এই প্রথম নির্বাচনের মূল ইস্যু ধর্ম এবং জাতপাত।
বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নের সংখ্যারাশির চেয়ে। মনে রাখতে হবে উন্নয়নের কথা সর্বদা ভোটে জেতায় না।

পশ্চিমবঙ্গের গত কয়েকটি নির্বাচনের ভোটের ভাগ অবশ্যই ভবিষ্যতবাণীর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে বামফ্রন্টের ভোট কমা অবশ্যই সেই প্রমাণ দেয়। ২০১১ তে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বড় নির্বাচন বলতে ২০১৪-র লোকসভা এবং ২০১৬-র বিধানসভা। দশমিক ভুলে (অর্থাৎ পূর্ণসংখ্যায় লিখলে) ২০১৪/২০১৬-তে ভোটের ভাগ মোটামুটি তৃণমূল ৩৯%/৪৫%, বামফ্রন্ট ৩০%/২৬%, কংগ্রেস ১০%/১২% এবং বিজেপি ১৭%/১০%। তাই যে সহজ ভোটবিন্যাস থেকে আলোচনা শুরু করা যায় তা আলগাভাবে বলতে গেলে তৃণমূল ৪৫%, বামফ্রন্ট ২৫%, বিজেপি ১৫%, কংগ্রেস ১০%।

তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, ২০১৬-র পর থেকে বেশিরভাগ ছোট-বড় নির্বাচনে বাম কিংবা কংগ্রেসকে সরিয়ে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। তবে এটা স্পষ্ট পশ্চিমবঙ্গে মূল লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপির এবং বিজেপির ভোট খানিকটা বাড়বে। ধরা যাক কিছুটা কমলেও তৃণমূল তাদের ভোট মোটামুটি ধরে রাখতে পারলো, অর্থাৎ সেই ভোট নেমে হল ৪০% এর আশেপাশে। এই ৫% ভোটটা দিয়ে দিন বিজেপিকে। বামেদের ভোট ২৫% থেকে কমিয়ে ১৫% করুন। সেই ১০% ভোটও হাতবদল করুন বিজেপিকে। সেক্ষেত্রে বিজেপি পনেরো থেকে বেড়ে হবে ৩০%। এই রকমের পরিস্থিতিতেও তাদের সঙ্গে তৃণমূলের পার্থক্য থাকবে ১০% জনমতের। সেই হিসেবে তৃণমূলকে ৩২ থেকে ৩৬টি আসন দেওয়াই যায়। বাকিটুকুর বেশিরভাগই যাবে বিজেপির দিকে, অর্থাৎ ৪ থেকে ৮। এক আধটা পেতে পারে কংগ্রেস বা বামেরা। আর তৃণমূল যদি শেষ বিধানসভার মত নিজেদের ৪৫% ভোট ধরে রাখে, সেক্ষেত্রে কিন্তু তৃণমূলের ৩৯ বা তার বেশি আসনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বুথফেরত সমীক্ষা যদিও এই কথা বলছে না।

বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, তৃণমূল, বাম আর কংগ্রেসের আরও কিছু ভোট বাগিয়ে নিয়ে বিজেপি পৌঁছবে ৩৫% থেকে ৪০% এর আশেপাশে। তাদের কথামতো তৃণমূল আর বিজেপির পার্থক্য যদি পাঁচ শতাংশের মধ্যে চলে আসে, তখন কিন্তু বিজেপির আসন বেশ কিছুটা বেড়ে যেতেই পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে আসনের ভবিষ্যদ্বাণী করা একেবারেই ঠিক নয়, কারণ দু দলের ভোট কাছাকাছি এলে আসনের হিসেবে বিপুল ওলটপালট হয়। সেক্ষেত্রে এটা বুঝতে হবে যে এই ভোটে তৃণমূল বিরোধী একটা হাওয়া উঠেছে। সেরকম ঘটনা ঘটলে যেখানে বিজেপি দুর্বল, সেখানে তৃণমূল বিরোধী ভোট পৌঁছে যেতে পারে বাম বা কংগ্রেসে, যদিও সেই ভবিষ্যদ্বাণী সংবাদমাধ্যমের খাতায় অনুপস্থিত। তারাও যদি খান কয়েক আসন জুটিয়ে নেয় তাহলে তৃণমূলের নম্বর বেশ কমবে। সব মিলিয়ে বুথফেরত সমীক্ষার হিসেব বলছে, তৃণমূল নেমে যাবে ৩০-এর নীচে আর বিজেপি দুই অঙ্কে পৌঁছবে। সঙ্গে এটাও মনে রাখা জরুরি যে অল্প কয়েকটি আলোচিত সম্ভাবনা ছাড়াও অনেকরকম ফল লুকিয়ে থাকতে পারে ভোটবাক্সে। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত