প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দালাই লামা-শি জিনপিংয়ের বৈঠকে ভারতের বাধা নিয়ে বিস্ফোরক বই

মৌরী সিদ্দিকা : ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার মধ্যে বৈঠকের ব্যাপারে নয়াদিল্লীর অনুমোদন না দেয়ায় দুই নেতার মধ্যে আলোচনার বিষয়টি ভেস্তে গেছে। দালাই লামা এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন বলে সদ্য প্রকাশিত এক বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। – সাউথ এশিয়ান মনিটর
২০১৮ সালের নভেম্বরে এনডিটিভির সাংবাদিক সোনিয়া সিংয়ের সাথে এক আনুনাষ্ঠিক সাক্ষাতকারে দালাই লামা বলেন যে ‘২০১৪ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে আলোচনার জন্য দিল্লী সফর করেছিলেন, তখন তার সাথে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ করেছিলাম আমি, কিন্তু ভারত সরকার ওই বৈঠক নিয়ে সন্দেহপ্রবণ ছিল, তাই এটা হতে পারেনি’। সিং তার এক বইতে এ কথা উল্লেখ করেছেন। সিংয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিশ্চিত করেন যে, অন রেকর্ড এই কথা বলেছিলেন দালাই লামা। তিনি এটাও বলেন যে, ভারত সরকার বা চীন সরকার কেউই এখন পর্যন্ত দাবিটি নাকচ করেনি। লেখক বলেছেন, দালাই লামার অফিস থেকে দেয়া ওই সাক্ষাতকারের একটি লিখিত কপিও তার কাছে রয়েছে।

দালাই লামার দাবির ব্যাপারে সত্যতা উল্লেখ করার জন্য যোগাযোগ করা হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন জবাব দেয়নি। তবে, যে সব সিনিয়র সরকারী কর্মকর্তারা শি-এর সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এ ধরনের কোন প্রস্তাবের কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘দালাই লামার বক্তব্য সঠিক বলে মনে হচ্ছে না। তারা যদি বৈঠকের আগ্রহ জানাতেন, তাহলে তাদের অনুমতি দেয়া হতো’।

আরেক কর্মকর্তা যিনি প্রেসিডেন্ট শি-এর অফিস থেকে সম্ভাব্য বৈঠকের কোন ধারণা দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন, তিনি বলেন যে, দালাই লামার প্রতিনিধিরা হংকং-ভিত্তিক এক চীনা ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতো, চীন সরকারের উপর যার প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হয়, কিন্তু ওই বৈঠকের ব্যাপারে কখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই কর্মকর্তাই তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

এক সাক্ষাতকারে দালাই লামা আরও বলেছেন যে চীনের সাথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টা করেছেন বলে মোদির সাথে তার সাম্প্রতিক সম্পর্কটা ‘অস্বাভাবিক’ হয়ে উঠেছে।

দালাই লামা বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক, বোধগম্য। চীন-ভারত সম্পর্ক এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ’।
দালাই লামার এই দাবির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কারণ গত বছর উহানে মোদি ও শি-এর বৈঠকের পর চলতি বছরের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পরবর্তী সম্মেলনের জন্য ভারত আসার কথা রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত