প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নয় মাসে ৬৮ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি

বিডিনিউজ: চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ৬৮ হাজার ২৫৮ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। ফলে এই অঙ্ক গত বছরের চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ দশমিক ৫২ বেশি। এই সময়ে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে নিট বিক্রি ছিল ৩৬ হাজার ৭০৯ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ।

আর এর ফলে বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ ধার করার লক্ষ্য ধরেছিল, তার চেয়েও ৫২ শতাংশ বেশি নিয়ে ফেলেছে নয় মাসেই। নিট বিক্রির অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

সে হিসাবে জুলাই-মার্চ সময়ে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩৯ হাজার ৭৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ বা ধার করার লক্ষ্য ছিল সরকারের। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কিছুটা বাড়িয়েছে। কিন্তু মানুষ ব্যাংকের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। নিরাপদ বিনিয়োগ ভেবে সঞ্চয়পত্রই কিনছে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দার কারণেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে বলে মনে করেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।
বিক্রির লাগাম টেনে ধরতে ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। কিন্তু বিক্রি কমেনি।

এর পরেও দুই দফা সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমানো হয়নি। জায়েদ বখত বলেন, ‘এভাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়তে থাকলে সরকারের ভবিষ্যৎ ঋণের বোঝা বেড়ে যাবে। সেই বোঝা কমাতেই এর সুদের হার কমানো উচিৎ বলে আমি মনে করি।’
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ‘পেনশনার সঞ্চয়পত্র’ এবং নারীদের জন্য ‘পরিবার সঞ্চয়পত্র’ ছাড়া অন্য সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরামর্শও দেন এই অর্থনীতিবিদ। সম্পাদনা: অশোকেশ রায়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ