প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

নিম্নমানের ৫২টি পণ্যের বিরুদ্ধে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত

স্বপ্না চক্রবর্তী : বিভিন্ন কোম্পানির নিম্নমানের ৫২টি পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআই। একই সাথে অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও। নিম্নমানের এসব পণ্য বাজারে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করারও ঘোষণা দিয়েছে বিএসটিআই। যদিও বেশির ভাগ কোম্পানিই নিজেদের নিষিদ্ধ হওয়া পণ্য বাজার থেকে নিজেরাই তুলে নিয়েছে তবুও এগুলো নতুন নামে বাজারে আসার আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা। তাই এসব পণ্য জনসম্মুখে ধ্বংস করার দাবি জানান তারা।

তবে মঙ্গলবারও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এসিআই কোম্পানির লবণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা। যেহেতু এটি একটি চলমান অভিযান সেহেতু পুরো অভিযান শেষে ৫২টি পণ্যের মধ্যে যেসব পণ্য বাজারে পাওয়া যাবে সেটা শুধু ঢাকায় নয় দেশের অন্যান্য জায়গায়ও সবগুলো মিলিয়ে ওইসব কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএসটিআইয়ের সহকারি পরিচালক মন্তোষ কুমার দাস।

তিনি বলেন, এখন বিচ্ছিন্নভাবে আমরা বিভিন্ন জায়গায় নিষিদ্ধ হওয়া পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। বেশিরভাগ পণ্যই বাজার থেকে কোম্পানি নিজেই উঠিয়ে নিয়েছ। কিন্তু এখনো কয়েকটি পণ্য আমাদের অভিযানে পাওয়া গেছে। সারাদেশের অভিযান শেষে একসাথে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী নিম্নমানের ৫২টি পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে বিএসটিআই ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসব পণ্য বাজার থেকে তুলে নিতে বিএসটিআই এর বেধে দেওয়া সময় শেষে গত রোববার সকাল থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, পুরান ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বাজার ও দোকানে অভিযান চালানো হয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আলাদা আলাদা ভাবে অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। কতদিন পর্যন্ত এ অভিযান চলবে জানতে চাইলে মন্তোষ কুমার দাস বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আমাদের এ অভিযান চলবে।
শুধু ৫২টি পণ্য নয় বাজারে মানহীন খোলা হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন গুড়া মসলাও জব্দ করেছে বিএসটিআই। বিএসটিআই এর অনুমোদনহীন কোন পণ্য বাজারে আছে কিনা তা দেখতেও এই অভিযান চলবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

এদিকে, আদালতের আদেশের পর এ পর্যন্ত ৯টি পণ্যের লাইসেন্স বাতিল এবং ২৫টি পণ্য উৎপাদনের অনুমোদন স্থগিত করেছে বিএসটিআই। ১১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সাথে নিষিদ্ধ হওয়া ৫২টি পণ্য বাজারে কেনা-বেচা চলছে কিনা তা দেখতে অভিযান চালাচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও দোকানে অভিযান পরিচালনা করছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৭টি দল। এগুলোর মধ্যে অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে মূল দলটি অভিযান চালাচ্ছে কারওয়ান বাজার, ধানমন্ডি এবং নিউমার্কেট এলাকায়।

অভিযানে বেশিরভাগ দোকানেই নিষিদ্ধ ঘোষিত ৫২টি পণ্যের কোনটিই পায়নি বাজার মনিটরিং টিম। তবে কারওয়ান বাজার ও নিউমার্কেটের কয়েকটি দোকানে নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা কয়েকটি পণ্য বিক্রির জন্য মজুত অবস্থায় পায় মনিটরিং দল। এগুলোর মধ্যে মোল্লা সল্ট এবং ডুডল ব্র্যান্ডের নুডলস অন্যতম। এ সময় নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মানায় কারওয়ান বাজারের নাসির স্টোরকে ১০ হাজার টাকা এবং নিউমার্কেটে জব্বার স্টোর ও বিসমিল্লাহ স্টোরকে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, বিক্রি নিষিদ্ধ পণ্যের বেশিরভাগ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ফেরত নিয়ে গেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে এসব পণ্য বিক্রি করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে।

অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, আমরা বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করে এসব পণ্য বিক্রির জন্য নিষেধ করতে বলেছি। এরপরে ব্যবসায়ীদের আর এসব পণ্য বিক্রির পেছনে কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। তারপরেও যদি এসব পণ্য বিক্রি হয় তাহলে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব পণ্য বাজার থেকে ফেরত নিচ্ছে সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সামনে নষ্ট করতে হবে। যেসব পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো যেন আবার অন্য নামে বা অন্য কোনো উপায়ে বাজারে আসতে না পারে সেদিকে আমরা নজর রাখছি। এ জন্য আমাদের উপস্থিতিতেই সেসব পণ্য নষ্ট করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত