প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের জন্য শুভ কামনা

অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন : মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের মন্ত্রণালয় বদলে ডাক্তারদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ খুব খুশি হয়েছেন, আবার কেউ অনেক মন খারাপ করেছেন। যে কোনো ঘটনায় ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া থাকতেই পারে। তবে একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, কে কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হবেন এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনিই ভালো জানবেন, কোন মন্ত্রণালয়ে তিনি কাকে বসাবেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডা. মুরাদ হাসান কেমন ছিলেন, এটা মূল্যায়ন করার মতো সময় আমরা পাইনি।

তাই এ ব্যাপারে কিছু বলার নেই। আমরা যেন আমাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হই। বর্তমানে সমগ্র স্বাস্থ্য খাতে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে সমগ্র খাত জুড়ে তীব্র ব্যবস্থাপনা সংকট, অন্যদিকে কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতা। স্বাস্থ্য খাতকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় নিয়ে একে যদি কয়েকটি ভাগে ভাগ করি, যেমন সরকারি খাত, বেসরকারি খাত, মেডিকেল শিক্ষা, সুশাসন, তারপর প্রতিটি খাতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আমরা সমাধানের পথ খুঁজি, তাহলে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটা বিপ্লবী পরিবর্তন আনা সম্ভব। আমরা স্বাস্থ্য খাতের সরকারি অংশটুকু নিয়ে তাও কিছু আলোচনা করি, কিন্তু বেসরকারি খাতটা একেবারেই উপেক্ষিত। বাংলাদেশে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকেরও যেখানে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত আছে, সেখানে অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে বা ক্লিনিকে মালিকপক্ষ একজন ডাক্তারকে নামমাত্র বেতন দিচ্ছে। যে যেখানে পারছে ডাক্তারদের ঠকাচ্ছে।

আমাদের এই সমস্যাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে উঠে আসছে ঠিকই, কিন্তু আমরা পদ্ধতিগতভাবে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি না। অথচ আমাদের যারা নীতি-নির্ধারক এবং পেশাজীবী নেতা আছেন, এগুলো তো তাদেরই কাজ। রাতারাতি কোনো কিছু বদলে ফেলতে না পারলেও সবাই মিলে একটা অর্থবহ পরিবর্তনের সূচনা তো এখন করতে হবে।

আমার পক্ষ থেকে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, অনুজসম ডা. মুরাদের জন্য শুভ কামনা রইলো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তার প্রস্থানে আমি ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত। মান-অভিমান যাই হোক, দিনের শেষে যে কোনো বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে অন্তত কথা তো বলা যেতো। দোয়া করি যেন নতুন দায়িত্বে তিনি সফল হন।

লেখক : চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস

সর্বাধিক পঠিত