প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

পশ্চিমবঙ্গে প্রেসিডেন্টের শাসন জারির অজুহাত তৈরি করছে বিজেপি!

হ্যাপি আক্তার : একটি টেলিভিশন সাক্ষাতকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন পশ্চিম বঙ্গের চেয়ে বেশি শান্তিপ‚র্ণ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বেশ কয়েকজন মানুষ নিহত হয়েছে; ইত্যাদি। সাওথ এশিয়া মনিটর।

এক সপ্তাহ পরেই, আরেকটি টিভি নেটওয়ার্ক ‘চমক লাগানো’ খবর নিয়ে আবির্ভ‚ত হয়। সেখানে স‚ত্র হিসেবে পশ্চিম বঙ্গের কোমলভাষী গভর্নর কে এন ত্রিপাঠিকে ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয় অমিত শাহের রোড শো’র সময় এবং বিদ্যাসাগরের ম‚র্তি ভাঙ্গার বিষয়ে ব্রিফ করতে অস্বীকার করেছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব।

টিভি অ্যাঙ্কার পশ্চিম বঙ্গে ‘সুশাসন নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ’ প্রকাশ করে এজন্য পশ্চিম বঙ্গে প্রশাসনকে দোষারোপ করেন, যেটার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি এবং যিনি সমস্ত নিয়ম নীতিকে ছুড়ে ফেলেছেন। কারণ হাজার হলেও মোদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্বীকার করতে রাজি হননি মমতা।

কলেজ স্ট্রিটের মারামারির ঠিক আগ দিয়ে একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী যিনি এখন স্বঘোষিত বিজেপি’র ‘চৌকিদার’, তিনি একটি ভুয়া খবর ছড়ান যে, পশ্চিম বঙ্গের প্রশাসন গুজরাটিদের বহিস্কারের হুমকি দিয়েছে।

আরেকটি টিভি নেটওয়ার্কে বিশেষ প্রোগ্রাম স¤প্রচার করা হয়, যার শিরোনাম ছিল “ইস দিস দ্য নিউ ইস্ট পাকিস্তান!”
মমতা মোদিকে বারবার ‘মেয়াদোত্তীর্ণ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উলে­খ করেছেন, যেখানে মোদি তাকে বারবার ‘স্পিডব্রেকার দিদি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

একটি হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পশ্চিম বঙ্গে প্রেসিডেন্টের শাসন দাবি করছেন। শেষ পর্যন্ত বিড়াল বেরিয়ে এলো ব্যাগ থেকে।

পশ্চিম বঙ্গে নিশ্চিতভাবে কিছু সহিংসতা হয়েছে, কিন্তু কিভাবে একজন ব্যক্তি এটাকে কাশ্মীরের সাথে তুলনা করতে পারে! এই তুলনাটা ইচ্ছা করে করা হয়েছে এবং একটা পরিকল্পনার অংশ এটা।

সহিংসতাকে সমর্থন করার কিছু নেই। ১৯৭২ সালে রাজ্যের নির্বাচনে কংগ্রেস কারচুপি করার পর থেকে বাংলার রাজনীতিতে দুঃখজনকভাবে এটা চলে আসছে (ওই নির্বাচনে নিজের আসনে ৪০,০০০ ভোটে হেরে গিয়েছিলেন জ্যোতি বসু)। ক্ষমতাসিন দলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর চ্যালেঞ্জ যতটা বড় হয়, ততই সহিংসতা বাড়ে এখানে।

এখন বিজেপি যদি প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করে এবং অমিত শাহ অর্ধেকের বেশি সিট পাবেন বলে যে গর্ব করে আসছেন, তার কাছাকাছি যদি চলে আসে, তাহলে তাদের কথাবার্তা পুরো পাল্টে যাবে এবং বলা হবে যে, ‘দিদির গুন্ডাগিরির সাহসী জবাব দিয়েছে বাংলার মানুষ’। কিন্তু বিজেপির আসন সংখ্যা যদি দুই অঙ্কের বেশি না হয়, তাহলে দোষ পড়বে পশ্চিম বঙ্গে ‘দুর্বল আইন শৃঙ্খলা’ পরিস্থিতির উপর এবং সে পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের শাসনের বিষয়টি আবার উত্থাপন করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত