প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিষেধাজ্ঞা মেনে উপকূলে ফিরছেন জেলেরা

ইমরান হোসাইন : মা ইলিশ যাতে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে এ জন্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা মেনে জেলেরা তাদের ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরে আসছেন। ইলিশের এই প্রজনন মৌসুমে সমুদ্রসীমায় ভারতীয় ট্রলার যাতে ইলিশ ধরতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞার জারি করা হয়। প্রতিবছর মৌসুমের শুরুতে জেলেরা ফিশিং বোট ও জাল মেরামত করে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতির ঠিক সময়ে এবছর প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয় এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধের ঘোষণায় উপকূলীয় এলাকা বরগুনার পাথরঘাটার জেলে সম্প্রদায়ের মধ্য হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করেছে।

প্রতিবছর আশ্বিন মাসে (৭-২৮ অক্টোবর) সময় গভীর সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মা ইলিশ উপকূলের দিকে এসে ডিম ছাড়ে। ইলিশের ডিম থেকে জাটকা এবং পরে জাটকা বড় ইলিশে পরিণত হয়। কয়েক বছর ধরে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকায় ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। এর সুফল জেলে থেকে ইলিশ ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই পাচ্ছে। দেশে আমিষের ঘাটতি মেটাতে ইলিশ সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
গতকাল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস অবতরণ কেন্দ্র (বিএফডিসি) বরগুনার পাথরঘাটায় দেখা যায়, সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া উপজেলার প্রায় সব এলাকার জেলেদের ট্রলার ঘাটে অবস্থান করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছু জেলেরা সাগরে থাকলে তারাও সাগর থেকে ঘাটের উদ্দেশ্যে ফিরছেন বলে জানাগেছে। এ সময় জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর বছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ বছর ৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় উপজেলার ২০ হাজার জেলেদের না খেয়ে জীবনযাপন করতে হবে বলে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

সরকারের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে উপকূলীয় মৎস্যজীবি ও জেলে মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েক হাজার শ্রমিক অংশ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েকটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিলেও প্বার্শবর্তী দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমানায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা না মেনে বঙ্গোপসাগরসহ উপকূলীয় এলাকায় এসে ছোট-ছোট মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। এমন অভিযোগ তুলে সরকারের কাছে এ গুলো বন্ধের আহব্বান জানান জেলেরা।
মৎস বিভাগ জানায়, ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে নিষেধ। সাগর ও মোহনায় মাছ ধরায় নিয়োজিত সব নৌযান ও জেলেকে নিজ নিজ ঘাটে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আগে তেমন ইলিশ ধরা না পড়লেও নিষেধাজ্ঞার পরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে এমনটা আশা করছেন মৎস বিভাগ।

এ বিষয় পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির বলেন, এই আইন বাস্তবায়নে মৎস অধিদপ্তর, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস দপ্তরের উদ্যোগে ব্যাপকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চলবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মৎস সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষে ও জেলেদের উপকারের স্বার্থেই সরকারের এ আইন, এ আইন বাস্তবায়নের লক্ষেই জেলেদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ