প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

কুয়েত প্রবাসী মমতাজের জীবনে একের পর এক পরীক্ষা দিয়েও সুখের দেখা মেলেনি

ফাতেমা ইসলাম : সংগ্রামী এক নারী মমতাজ বেগম স্বামীর সংসারে সুখের দেখা না পেয়ে ১৯৯৪ সালে তিনি পাড়ি জমান কুয়েতে। গৃহকর্মীর ভিসায় সুখের দেখা না মেলায় বোরখা ও কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মীর কাজ নেন তিনি। দ্রুততম সময়ে নিজেকে পরিবর্তন করে দক্ষ করে নিলেও দীর্ঘ ২৪ বছরেও কিন্তু সুখের দেখা পাননি তিনি। এটিএন বাংলা

মমতাজের জন্ম ঢাকার দোহারে শিলেকোঠা গ্রামে। মকসুদ আলির মেয়ে তিনি। মাত্র ৮ মাস বয়সে মায়ের মৃত্যুতে বেড়ে ওঠেন নানীর কোলে বিয়ে হয় অল্প বয়সে। বাল্য বিবাহের পর সইতে হয় স্বামীর নির্যাতন। এরপর দুই শিশু নিয়ে শুরু হয় লড়াই। সোনার হরিণ দেখতে কুয়েতে এলে প্রথমবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান রুপসী বাংলায়। অভাব অনটন, স্বামীর সংসার, দেশ ও বিদেশে কোথাও যখন তার ঠাই হয়নি, তখন আত্মহত্যা করতে চেয়েও দুই সন্তানের কথা ভেবে সে পথ থেকে ফিরে আসেন তিনি।

মমতাজ বেগম বলেন, ছোট সময়ে মা মারা যাওয়ায় নানীর কাছে বড় হয়েছি, এমনকি আমার সন্তানরাও আমার নানীর কাছে বড় হচ্ছে। আমি বাসায় বাসায় কাজ করতাম। কাঁথা, বালিশ, চাদর সেলাই করতাম। খুব কষ্ট করেছি। তারপর জীবন যুদ্ধের শেষ দেখার প্রত্যয়ে আবারও কুয়েতে যাই, বাসার কাজ করি ৮ বছর। তারপর রিলিজ নিয়ে বাংলাদেশের এক বোরখা ও কাপড়ের দোকানে বিক্রয়কর্মীর কাজ নেন। পরে বড় অংকের অর্থ দিয়ে স্থান পরিবর্তন করে একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মী হিসাবে নিজেকে মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত করেছি।

এদিকে আগের থেকে কিছুটা সুখে দিন পার করলেও অভাব পিছু ছাড়েনি মমতাজের। ২০০৪ সালে ফেণীর সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা কুয়েত প্রবাসি ওসমানকে বিয়ে করেন তিনি। শুরু হয় আবার সংগ্রাম। সেই লড়াইয়ে আসে প্রেম। শুরু হয় নতুন জীবন।

বর্তমানে অল্প বেতনের চাকরি করায় কুয়েতের লেখাপড়ার খরচ খুব বেশি হওয়ায় মেয়েকে ৫ম শ্রেণিতে এবং ছেলেকে ৪থ শ্রেণিতে টাকার অভাবে ভর্তি করতে পারছেন না। দেশে ও প্রবাসে দানশীল ব্যক্তিদের সাহায্য কামনা করছেন তিনি। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত