প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিশুকে স্কুল থেকে হঠাৎ বিদায় করে দেয়া

ইকবাল আনোয়ার : মনে করি, জানুয়ারি মাসে কোনো ছাত্রকে একটি সরকারি স্কুলে, যেখানে ভর্তি করা রীতিমতো এক যুদ্ধ, পিতা-মাতার যেন লংকা জয়, সেখানে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করাতে পেরে মা-বাবা ধন্য হলো। শিশুটি ‘আমি সক্ষম’ এ আনন্দে বিভোর হলো। তিন মাস যেতে না যেতে স্কুলে একটি মডেল টেস্ট নেয়া হলো। সেখানে শিশুটির পারফরেমন্স হলো ছয়টি বিষয়ে পঁয়তাল্লিশ তেতাল্লিশ, দু’একটাতে তেত্রিশ। এমতাবস্থায় শিশুটিকে তিরস্কার করে জানিয়ে দেয়া হলো তুমি খারাপ, তুমি চলে যাও, অন্য স্কুলে। মা-বাবাকে সাফ জানিয়ে দেয়া হলো… নিয়ে যান। শিশুটির চোখের মনি ঘোলা হয়ে গেলো, তার কোমল মন ভেঙে চুরমার। মা-বাবাও তাকে ধিক্কার দিলো। সংসারে এক বজ্রপাত হলো এ রমজানে।

পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের সময় নাকি এখনই। তাই এ ব্যবস্থা। আরো সাত-আট মাস বাকি। এর মধ্যে তাকে উন্নত করানোর যথেষ্ট সময় ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এ কাজ বাদ দিয়ে ছাঁটাইয়ের নিয়ম যদি বৈধ করা হয়, তবে তা অবশ্যই অবিবেচনা প্রসূত। জানা গেলো আরো আটজনের বিষয়েও এ সিদ্ধান্ত। এ শিশু মানসিক অসুস্থতায় আমার শরণাপন্ন হলে কেস হিস্ট্রিতে আমি এসব জানতে পারি। এখন আমার বক্তব্য : সরকারি স্কুলে এভাবে চলে যেতে বলা বৈধ কিনা! এমনকি ভর্তির তিন মাসের মধ্যে। যার কোনো সামাজিক অপরাধ নেই এবং তার নিয়ম-নীতি কি?

জানা যায়, স্কুলগুলো যাতে দেখাতে পারে যে, তাদের ছাত্র-ছাত্রীরা ষোলো আনা ভালো ফল করেছে, এটা একটা মডেল স্কুল, দু আঙুলের ভিক্টরি চিহ্ন দেখানো হাস্যময় ছবি ছাপা হবে কাগজে, এজন্য এ ছাঁটাই। অথবা এদের সরিয়ে অন্যদের নেয়ার দুরভিসন্ধি। (এমন ধারণা হতেই পারে)। আর তাহলে আরেকটা সংযুক্ত প্রশ্ন, এ মূল্যায়ন করেছে কে, কীভাবে! যদিও ধরে নিচ্ছি, এটা সঠিক মূল্যায়ন।

স্কুলগুলোর উদ্দেশ্য হবে ছাত্র-ছাত্রীদের বিকাশ ঘটানো। একটা শ্রেণিতে নানা রকম শিশু থাকে। তাদের কেউ কেউ অনন্য প্রতিভাধর, তাদের কেউ কেউ আবার সাধারণ স্কুল রীতিতে ধাতস্থ নয়। বিশ্বের অনেক বিশিষ্ট নামি-গুণী মানুষের স্কুল জীবন এমন ছিলো দেখা যায়। যে ছাত্র ভর্তি হলো যোগ্যতায়, এখন তিন মাসের মধ্যে খারাপ হয়ে গেলো, তার দায় স্কুলকে কি বহন করতে হবে না একদম? এসব পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের মনোবল বাড়িয়ে তাদের আলাদাভাবে নার্সিং করে জাগিয়ে তোলা কি স্কুলের কর্তব্য নয়? নিশ্চয়ই এ শিশুদের হয়তো চমকে দেয়ার মতো প্রতিভা রয়েছে। তাদের ছাঁটাই করে নিজেদের সুনাম (তথা কথিত) বাড়ানো বা রক্ষা করা কি স্কুলের মহান (!) উদ্দেশ্য?

আর যারা এভাবে স্কুলের মহান হওয়ার প্রক্রিয়ার বলী হবে, তারা তো রসাতলে যাবে! হীনমন্যতায় ভুগবে! অথবা একটু বড় হয়ে বা এখনই ‘ঈগল’ গ্রুপ বানাবে! (খোদা নাখাস্তা), এটাই কি জাতির কাম্য? যৌবনে তারা যদি উচ্ছন্নে যায়, তার দায়িত্ব কার? এভাবে সরকারি স্কুল থেকে সরিয়ে দেয়ার নিশ্চয়ই জাতীয় নীতিমালা রয়েছে। এমন কোনো নীতি আছে কিনা? থাকলে সেটা কি? এ বিবরণ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বার থেকে যৌক্তিক কারণে পেশ করা হলো।

এ বিষয়ে যারা জানেন, বুঝেন, চর্চা করেন, বা সংশ্লিষ্টজন, কিংবা সমাজ সচেতন ব্যক্তি বা ভুক্তভোগীদের মতামত চাইছি। আমার লেখায় বা ধারণায় কোনো ভুল থাকলেও তা জানাতে ইতস্তত করবেন না যেন। নিশ্চয়ই বিষয়টি, শিশু শিক্ষা, তার শারীরিক, মানসিকতা স্বাস্থ্য সম্পর্কযুক্ত এবং আইনানুগভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত