প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফরিদপুরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব, দেখার কেউ নেই!

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলী থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ড্রেজারে ফসলের জমির বালু মাটি উত্তোলণ করে দৈনিক মোটা অংকের কালো টাকার নেশায় জড়িয়ে পড়েছেন অনেকেই। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় গ্রাম্য মাতুব্বররা ফসলের জমি থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রমরমা বালু মাটির ব্যবসা করে চলেছেন। এতে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উপজেলার আবাদি ফসলের মাঠ।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা সদর ইউনিয়নের আলম নগর গ্রামের উর্বর ফসলের জমির মধ্যে মোশারফ প্রামানিক ও পার্শ্ববর্তী কারিকর ডাঙ্গী গ্রামের ফসলে মাঠে ইউসুফ হোসেন দু’টি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে ধ্বংস করে চলেছে ফসলের জমি পরিমাণ।

এ ব্যপারে গত শুক্রবার উপজেলা সদর ইউনিয়নের কেএম ডাঙ্গী গ্রামে ড্রেজার মালিক মো. মোশারফ প্রামানিক বলেন, “উপজেলা চেয়ারম্যান আমার আত্মীয়, তার সাথে আলাপ করেই ড্রেজার দিয়ে ফসলের জমি হতে বালু মাটি উত্তোলণ করছি”।

পার্শ্ববতী কারিকর ডাঙ্গী গ্রামের ফসলের জমিতে বালু উত্তোলনকারী আরেক ড্রেজার মেশিন মালিক ইউসুফ হোসনে জানায়, “আমরা স্থানীয় এমপি’র নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করেই ফসলের জমির মাটির ব্যবসা করে চলেছি”।

তবে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন মোশা বলেন, “ওই গ্রামে ড্রেজার মেশিন মালিক ও বালু মাটি ব্যবসায়ী মোশারফ প্রামানিক আমার আত্মীয় ঠিকই। সে অনেক দিন আগে মসজিদের কাজে ড্রেজারে কিছু মাটি কাটার কথা বলছিল। তাই বলে আমি তাকে ফসলের জমি ধ্বংস করার কথা বলিনি”।

একই সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সি.এ জামাল হোসেন জানান, “ ফসলের জমিতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা বহুবার নিষেধ করার পর উপজেলা চেয়ারম্যান আমাকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে চলমান ড্রেজারের ব্যাপারে বেশী মাতামাতি করতে নিষেধ করেছেন, বিধায় আমরা চুপ হয়ে গেছি”।

তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, “আমি পনের দিন বিদেশ ট্যুরে ছিলাম বিধায় ড্রেজারের বিষয়টি অবগত ছিলাম না। উপজেলার সবক’টি অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নেবো”।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত