প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাঞ্জাবে পাশাপাশি মসজিদ এবং মন্দির, সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত

মোহাম্মদ মাসুদ : ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের সংরুর জেলা। এখানকার মালেরকোটলা একদিকে মুসলিম অধ্যুষিত একটি শহর, অন্যদিকে এ শহরের সমসন্স কলোনিতে মূলত সব হিন্দু স¤প্রদায়ের বাস। তারপরও বছরের পর বছর ধরে শহরটির ধর্মীয় স¤প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের পরিচায়ক। পাশাপাশি অবস্থান আকসা মসজিদ এবং লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির। মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি আর প্রার্থনার গুঞ্জন শেষ হওয়ার পরই শুনতে পাওয়া যায় মসজিদ থেকে আসা আজানের সুর। চ্যানেল আই

মসজিদ প্রধান রোজই প্রতিবেশী মন্দিরের পুরোহিতকে ভুরে ‘রাম রাম’ বলে অভিবাদন জানান। অন্যদিকে পন্ডিত মহাশয় সতর্ক নজর রাখেন যেন পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে আসা মুসল্লিদের কোনো অসুবিধা না হয়। দীপাবলি আর ঈদে এই দুই ধর্মীয় উপাসনালয়ে মিষ্টি আর ফলমূল উপহার হিসেবে আদান-প্রদান হয়ে থাকে।

সমসন্স কলোনির অধিবাসীদের মতে, শুধু মসজিদ আর মন্দিরের মধ্যকার একটি নয় ইঞ্চি পুরু দেয়ালটিই নয় এর চেয়েও বড় অংশিদারিত্ব আছে তাদের মধ্যে। সেটি হল ‘প্রতিবেশীর জন্য ভালোবাসা, এমন এক বন্ধন যা কোনো ‘রাজনীতিক বা নির্বাচন’ আলাদা করতে পারবে না।

মসজিদ প্রধানের সঙ্গে একমত পোষণ করে পন্ডিত শর্মা বলেন, নেতাদের তো কাজই যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়া। তারা মাঝখান দিয়ে শুধু স্বার্থ হাসিল করে নেয়। এখানেও আশপাশে ধর্মীয় নিদর্শন ভাঙচুর এবং কারফিউ জারির মতো ঘটনা ঘটে। কিন্তু সেজন্য আমরা কখনো নিজেদের মধ্যে কথা বন্ধ করি না।

শর্মা বলেন, এই শান্তি যেন কখনোই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য মসজিদ ও মন্দির কর্তৃপক্ষ নিজ নিজ প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছে। বাইরের লোক ঝামেলা করবে আর তখন দোষ যাবে মসজিদের ওপর। বলা হয়ে থাকে, আকসা মসজিদটি অন্তত অর্ধশতাব্দী পুরনো। তখন এই সমসন্স কলোনির জন্মও হয়নি। তবে লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল অনেক পরে।সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত