প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির ৬৫ সদস্য আটক

সুজন কৈরী : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টির ৬৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের চারটি টিম। চক্রের সদস্যরা কৌশল বদলে প্রতারণা করছে। আটককৃতদের কাছ থেকে চেতনা নাশক বিভিন্ন ট্যাবলেট, ওষুধ মিশ্রিত জুস, খেজুর, ৭টি চোরাই মোবাইল ফোনসেট ও প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১২টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টর অভিযানে ৬৫ জন অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে ৩৮ জন, গোয়েন্দা পূর্ব বিভাগ ওয়ারীর জয় কালী মন্দির এলাকা থেকে ৪ জন, গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগ গুলিস্তান এলাকা থেকে ৭ জন, গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ কুড়িল বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৮ জন ও গোয়েন্দা পশ্চিম বিভাগ উত্তরা এলাকা থেকে ৫ জন অজ্ঞান পার্টির সদস্যকে আটক করে।

ডিবির এই যুগ্ম কমিশনার আটককৃতদের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল, বাসস্ট্যান্ড, সদরঘাট রেলস্টেশন এলাকায় আগত ব্যক্তিদের টার্গেট করে সখ্যতা স্থাপন করে। এরপর তাদের অপর সদস্যরা টার্গেটকৃত ব্যক্তি ও তাদের সদস্যকে ট্যাবলেট মিশ্রিত খাবার খেতে আমন্ত্রণ জানায়। টার্গেটকৃত ব্যক্তি রাজি হলে চেতনাশাক ওষুধ মেশানো খাবার খাওয়ায় এবং নিজেরা সাধারণ খাবার খায়। খাবার খাওয়ার পর অচেতন হয়ে গেলে টার্গেটকৃত ব্যক্তির মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে দ্রুত চলে যায়। এক্ষেত্রে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খাদ্যদ্রব্য হিসেবে চা, কফি, জুস, ডাবের পানি, পান, ক্রিম জাতীয় বিস্কুট ইত্যাদি ব্যবহার করে। এছাড়াও তারা অভিনব কৌশল হিসেবে সাধারণ মানুষকে অজ্ঞান করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে নিকট আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফোন করে বলে, সে আমাদের কাছে আটক আছে। তাকে মুক্ত করতে বিকাশ বা অন্যকোন মাধ্যমে টাকা পাঠাতে হবে। আত্মীয়-স্বজন ভিকটিমকে মুক্ত করতে টাকা পাঠালে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা টাকা নিয়ে মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যায়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আলম বলেন, আটককৃতদের বেশিরভাগই আদালত থেকে এমন কোনো মামলায় জামিন বা খালাসপ্রাপ্ত। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ই ভুক্তভোগী ছাড়া মামলা করতে হয় পুলিশের। ফলে আইনি দুর্বলতার কারণে আসামি জামিন বা খালাস পেয়ে থাকে। জেল থেকে বের হয়ে কৌশল বদলে আবার এসব কাজ করছে। ডিবির যুগ্ম কমিশনার ভ্রমণে থাকা অবস্থায় অপরিচিত কোনো ব্যক্তির দেয়া খাবার না খাওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে সচেতন হতে জনসাধারণকে আহ্বান জানিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত