প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

‘নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ছবি আমদানি হচ্ছে ব্যক্তিগত শত্রুতা’

মহিব আল হাসান : ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, পূজা ও পয়লা বৈশাখের সময় যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ছাড়া ভারতীয় বাংলা, হিন্দি, পাকিস্তানিসহ বাইরের কোনো সিনেমা দেশে আমদানি, প্রদর্শন ও বিতরণ করা যাবে বলে গেলো বছর হাইকোর্ট আদেশ দেন। নীপা এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধীকারী সেলিনা বেগমের এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে গত বছর ১০ মে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। কিন্তু হাইকোর্টের দেওয়া বিদেশি ছবির ওপর স্থগিতাদেশ থাকার পরও ঈদের জন্য আমদানি করা হচ্ছে কলকাতার একটি সিনেমা।

এফডিসি পাড়া থেকে কাকরাইল পাড়া পর্যন্ত যখন ঈদের ছবি নিয়ে হিসেব নিকাশ শুরু হয়েছে, ঠিক তখন শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান কলকাতার সিনেমা আসন্ন ঈদে আমদানি করছেন। শুরু থেকে ঈদে মুক্তির তালিকায় শাকিব খান অভিনীত ‘পাসওয়ার্ড’ ও ‘নোলক’ এবং তারিখ আনাম খান ও স্পর্শিয়া অভিনীত ‘আবার বসন্ত’ সিনেমাগুলো মুক্তির তালিকায় ছিলো। তবে বিদেশী এই ছবিটি আমদানি করায় যুক্ত হতে যাচ্ছে কলকাতার নায়ক জিতের অভীনিত ‘শেষ থেকে শুরু’ সিনেমাটি শোনা যাচ্ছে কলকাতার জিতের ছবিটি আমদানি করতে ইতোমধ্যে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন সেলিম খান। সেলিম খান-জিতের মধ্যে বৈঠক শেষ করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার।

তবে বিদেশি ছবির আমদানির বিষয়ে চলচ্চিত্রপাড়ায় চলছে গুঞ্জন। সিনেমার সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেলিম খানের সাথে শাকিব খানের দ্বন্দের কারণে ঈদে শাকিব খানের ছবির ধ্বস নামাতে কলকাতার সিনেমা আমদানি করছেন তিনি। শাকিব খানকে ঠেকাতেই নাকি কলকাতার সিনেমা নিয়ে আসছেন তিনি। তবে এ বিষয়টি মানতে নারাজ সেলিম খান। তিনি বলেন, দেশের প্রেক্ষাগৃহ বাঁচাতে ভালো সিনেমা হলে চালানো দরকার তাই আমদানি করছি। ’

হাইকোর্টের বিদেশি ছবির ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে গেলো বছর, এমন অবস্থায় কীভাবে মুক্তি পাবে কলকাতার ছবি জানতে চাইলে শাপলা মিডিয়ার ম্যানেজার বাদল বলেন, ‘নিপা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে প্রযোজক সেলিনা বেগম হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। তিনি আমাদের পরিচিত কাছের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে আমরা তাঁর সঙ্গে কথা বলব, রিট আবেদন তুলে ফেলার ব্যবস্থা করব।’

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বর্তমানে চলচ্চিত্রের যে অবস্থা তার তাতে করে বিদেশি সিনেমা প্রদর্শন করা মানে বোকামি। আমাদের চলচ্চিত্র বাঁচাতে হলে দেশিয় প্রযোজককে আগে বাঁচাতে হবে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ছবি আমদানি হচ্ছে ব্যক্তিগত শত্রুতা। কারণ বিদেশি ছবি দেশের একটি না একটি হল পাবে। আর যদি ছবিটা না আসে তাহলে সেই হলে দেশি ছবিটা চলবে। দেশিয় শিল্পকে বাঁচাতে দেশের ছবিকে ভালোবাসতে হবে। তাহলেই আমাদের চলচ্চিত্রের সংকট কাটবে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে এখন দেখার অপেক্ষা ইদুল ফিতরে দেশিয় ছবিগুলোর সাথে কলকাতার ছবিটি মুক্তি পায় কি না। বিদেশী ছবির রিট আবেদ তুলে দেশের প্রেক্ষাগৃহে কী চলবে কলকাতার বাংলা সিনেমা? বিষয়টি পরিস্কার জানা যাবে কিছুদিনের মধ্যেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত