প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

adv 468x65

দেড় মাসে বজ্রপাতে মৃত্যু ৩৬

মহসীন কবির : বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। গতকাল একদিনে বজ্রপাতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। গত দেড় মাসে বজ্রপাতে মারা গেছে ৩৬ জন। গত বছর দেশে বজ্রপাতে প্রায় ২০০ মানুষ মারা যায়। বেশির ভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে হাওর অঞ্চলের নয়টি জেলায়। বজ্রপাতে প্রচুর গবাদিপশুরও মৃত্যু হয়েছে।

বুয়েটের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। পৃথিবীতে যত মানুষ মারা যান তার এক-চতুর্থাংশ মারা যান এ দেশে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এবং প্রকৃতিকে ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই এ দুর্যোগে মৃত্যু হার কমানো সম্ভব।

১৭ মে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে আরিফ (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় মুক্তার নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। নিহত আরিফ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক এলাকার আমির হোসেনের ছেলে। নওগাঁর পোরশা উপজেলার গানোইর বিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হাসান (৩০) ও শফিনূর (২৮) নামে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান সরকার (৬৫) ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রীরামপুর এলাকায় ঝড়ের মধ্যে বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের হজরত আলীর ছেলে রেজাউল হোসেন (৪০) ও মোতালেব হোসেনের ছেলে মো. মুসা (৩৫)।

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ঝড়বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে দুইজন নিহত হয়েছেন; আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতরা হলেন- উপজেলার গানইর গ্রামের আহাদ আলীর ছেলে শফিনুর ইসলাম (৩২) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঠালিপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে হাসান আলী (৩৫)।

১৫ মে ভেড়ামারায় আম কুড়াতে গিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- রুমি খাতুন (৩৬) ও রাতুল (১৫)। ৪ মে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতের সময় বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কিশোরগঞ্জ জেলাতেই প্রাণহানি ঘটেছে ছয়জনের। এছাড় মিঠামইন উপজেলায় দুজন, পাকুন্দিয়ায় তিনজন ও ইটনায় একজন মারা গেছেন।
নিহতরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কুশাকান্দা গ্রামের আয়েছ আলীর ছেলে আসাদ মিয়া (৪৫), চর আলগি গ্রামের এন্তাজ আলির ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৫), আলতাবউদ্দিনের মেয়ে নুরুন্নাহার (৩২), মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের কুড়ারকান্দি গ্রামের এবাদ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৭), বৈরাটি ইউনিয়নের বিরামচর গ্রামের মো. গোলাপ মিয়ার ছেলে মহিউদ্দিন (২২) ও ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কাঠুইর গ্রামের রাকেশ দাসের ছেলে রুবেল দাস (২৬)।

এদিকে পাকুন্দিয়ার কুশাকান্দার নুরুন্নাহার চাল ছাঁটাই করে বাড়ি ফেরার সময় বৃষ্টি শুরু হলে গাছতলায় দাঁড়ান। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের কুড়ারকান্দি গ্রামের হাওড়ে বৃষ্টিপাতের মধ্যে গরু আনতে গিয়ে সুমন মিয়া বজ্রপাতে মৃত্যু হয়। উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কাঠুইর গ্রামের হাওড়ে ধান কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে মৃত্যূ হয়েছে। নেত্রকোনায় জেলার মদন উপজেলায় হাওড়ে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল বারেক (৩৫) নামের এক কৃষক মারা যান। ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বজ্রপাতে আপেল মিয়া (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

১১ এপ্রিল দশমিনার বাশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ এলাকায় বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত আস্তেসা বিবি মজিবর মৃধার স্ত্রী। নাটোরের নলডাঙ্গায় মঙ্গলবার বজ্রপাতে শাহিন মন্ডল (২০) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মাধনগরে শাহিন মন্ডল বাড়ির পার্শ্ববর্তী মাঠে পাটের বীজ বপণ করতে গেলে বজপাতে মারা যায়। ১০ এপ্রিল বাগেরহাটে স্কুলে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে রেশমা আক্তার (১২) নামের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। কচুয়া উপজেলার উত্তর কাকারবিল এলাকার রাস্তায় মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

০৯ এপ্রিল দুইদিনের মাথায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফেন্সুগঞ্জ উপজেলার কটালপুরে বজ্রপাতে ৩ জন ও সুনামগঞ্জে অপর দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন ফেন্সুগঞ্জ উপজেলার তেরাকুড়ি এলাকার জিতু মিয়া (৩৮), গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা এলাকার রাজন মিয়া (২৮) ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা এলাকার আনোয়ার হোসেন (৪২)।

এদিকে সুনামগঞ্জ সদর ও ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বেগুন ক্ষেতে কাজ করার সময় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল আউয়াল (৭৫) নামের এক কৃষক ও হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ধর্মপাশা উপজেলার ফজল মিয়া ৩২) নামে অপর এক কৃষকের মৃত্যু হয়। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠরই ইউনিয়নের কলাইয়া গ্রামে সোমবার বিকেল ৩ টার দিকে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে ফজল মিয়া (৩২) বজ্রপাতে নিহত হন। তিনি জয়শ্রী ইউনিয়নের সোনারতাল হাওরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন।

০৮ এপ্রিল বজ্রপাতে সারাদেশে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে বজ্রপাতে আনারুল (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে বিল্লাল মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বজ্রপাতে আনোয়ার (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ভোলার চরফ্যাশনে বজ্রপাতে মো. জসিম (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রঞ্জন নদীতে বৃষ্টির মধ্যে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে রঞ্জন জল দাস (১৯) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার আবু সিদ্দিক ও ফজল হক নামে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- জালাল মিয়া ও ফজল। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বজ্রপাতে আব্দুল আওয়াল (৭০) নামে এক বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কাঠরই ইউনিয়নের কলাইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত