প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানব পাচারে তিন ধাপ অতিক্রম করে চক্ররা

আহমেদ শাহেদ : বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে পাঠানোর জন্য তিনটি ধাপ অতিক্রম করে মানব পাচারকারী চক্ররা। প্রধম ধাপে, কারা অবৈধভাবে বিদেশে যেতে আগ্রহী, তাদের বাছাই করা হয়। তারপর তাদের বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পাঠানো হয়। পরে লিবিয়া থেকে আরেকটি চক্রের মাধ্যমে পাঠানো হয় ইউরোপে। শুক্রবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।  বণিক বার্তা। 

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির শিকার বাংলাদেশীরা যে মানব পাচার চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন, তার তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব। তাদের বিষয়ে জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইউরোপে মানব পাচারে যুক্ত শরিয়তপুরের মো. আক্কাস মাতুব্বর (৩৯), সিলেটের এনামুল হক তালুকদার (৪৬) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়াকে (৩৪) আটক করে র‌্যাব।

তিনজনকে আটকের পর আজ সংবাদ সম্মেলনে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সিলেটের জিন্দাবাজারে ইয়াহিয়া ওভারসিজ নামে একটি এজেন্সি আছে এনামুলের। তিনি ১০/১২ বছর ধরে মানবপাচারে জড়িত। আর আব্দুর রাজ্জাক গত চার-পাঁচ বছর ধরে এনামুলের দালাল হিসেবে কাজ করছিলেন। আক্কাসও দুই-তিন বছর ধরে মানব পাচার চক্রের দালাল হিসেবে কাজ করছেন বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

মুফতি মাহমুদ বলেন, তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ এই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত আছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি বিদেশী চক্রের যোগসাজশে অবৈধভাবে ইউরোপে লোক পাঠিয়ে আসছে। চক্রের দেশীয় এজেন্টরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অনেকেই তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়।

পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকেট কেনাসহ যাবতীয় সব কাজ এই চক্রের মাধ্যমে হয় উল্লেখ করে মুফতি মাহমুদ জানান, এ জন্য এক একজনের কাছ থেকে সাত থেকে আট লাখ টাকা তারা নিয়ে থাকে। এর মধ্যে সাড়ে চার বা পাঁচ লাখ টাকা লিবিয়া যাওয়ার আগেই দিতে হয়। লিবিয়া যাওয়ার পর বাকি টাকা আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া হয়।

এছাড়া ইউরোপে মানবপাচারে জড়িত এই চক্রটি বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনটি রুট ব্যবহার করে থাকে বলে জানানো হয় র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে।

র‌্যাব জানায়, চক্রটি বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া, বাংলাদেশ থেকে ভারত, শ্রীলংকা হয়ে ট্রানজিট ব্যবহার করে ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া এবং বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও জর্ডান হয়ে লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইউরোপে লোক পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ত্রিপলিতে কথিত ‘গুডলাক ভাই’ নামে এক বাংলাদেশী তাদের দায়িত্ব নেয়। সেখানে তাদের কয়েক দিন থাকার ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় দেশে পরিবারের কাছ থেকে চুক্তির বাকি টাকা আদায় করা হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ত্রিপলির বন্দর এলাকায় একটি সিন্ডিকেটের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয় ইউরোপে পাচারের জন্য। সেখানেও টাকা লেনদেন হয়। ওই সিন্ডিকেট সমুদ্রপথে নৌযান চালনা, সমুদ্রে দিক নির্ণয় যন্ত্র ব্যবহারসহ কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে নৌকায় তুলে দেয় পাচারের শিকার মানুষগুলোকে। তিউনিশিয়া চ্যানেল হয়ে ইউরোপের দিকে রওনা দেয় তারা। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

এর আগে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন জানান, ভূমধ্যসাগর হয়ে ইতালিতে মানবপাচারের ঘটনায় যারা জড়িত তার হোতাসহ পাঁচজনের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, অবৈধভাবে লিবিয়ার জুয়ারা থেকে ইতালিতে যাওয়ার পথে গত ১০ মে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৩৯ বাংলাদেশীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে সরকার। এছাড়া এই ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হয়েছে আরও ১৪ জন।

 

##

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত