প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিআরটিসি’তে চলছে অনিয়ম, দুর্নীতি

মৌরী সিদ্দিকা : নামে সরকারি প্রতিষ্ঠান অথচ বেসরকারি জনবল দিয়ে চলছে বিআরটিসি। নেই প্রয়োজনের অর্ধেক জনবলও, বাইরের জনগণ দিয়ে চালাতে হয় বলে প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের আয়ের টাকা নিয়ে চলছে নয় ছয়। আর্থিক সংকটের কারণে একদিকে বেতন বকেয়া থাকছে। অন্যদিকে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না নতুন জনবল।
বিআরটিসি’র সব কার্যক্রম সরকারি হলেও প্রতিদিন রাস্তায় যে গাড়িগুলো বের হয় সেগুলো পরিচালনা করা হয় অলিখিত লিস্ট পার্টি দিয়ে। বাসের চালক বিআরটিসি’র হলেও কন্টাক্টর, হেল্পার সবই যোগাড় করা হয় বেসরকারিভাবে। – সময় টিভি

বিআরটিসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘হেল্পার, কন্টাক্টর কিছুই নেই তাদের। গাড়ি শুধু চালালেই হবে, টাকা তো দিতে হবে ! এর জন্য ইজারা দেয়। কারণ তাদের টাকা আদায় করতে হবে, গাড়িটা চালাতে হবে তো ! এমনকি তার কাছে তেলের পয়সাও নেই। তেলের টাকার জন্য একজনকে বলে সারাদিন তেল, টিকিট দিয়ে আপনি আমাকে কত দিবেন ? এভাবেই চলছে কার্যক্রম।’

প্রতিদিন গাড়ি চালিয়ে যে আয় হয় তা ঠিক মতো জমা হয় না বিআরটিসির ফান্ডে। কার পকেটে যায় টাকা এটা নিয়ে পরস্পরকে দায়ি করেন চালক, সহযোগি এবং ডিপো ম্যানেজাররা।

একজন বলেন, ‘পাঁচ লাখ, সাত লাখ টাকা দিয়ে চাকরি নিয়েছে। তারা জানে সরকারি চাকরি। কিন্তু এখানে এসে যে অবস্থার মধ্যে পড়ছে তাতে না পারছে কাঁদতে বা চাকরি ছেড়ে চলে যেতে।’

একজন চালক বলেন, ‘লিজ পার্টি যাদের দেয় তারা গাড়িতে ওঠে।

লিজ পার্টির একজন বললেন, ‘রোড, ড্রাইভার সব খরচ আমাদের। সারাদিন গাড়িতে আর কত টাকা আয় হয় ! ’
যে গাড়ি গুলো আছে সেগুলোই চলে। কিন্তু টাকাগুলো যায় কোথায় ? বর্তমানে সচল ২৩৮ টি গাড়ির জন্য নেই প্রয়োজনীয় চালক। সেই সঙ্গে ভারত থেকে আসছে আরও ছ’শ নতুন গাড়ি।

বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘গাড়ির চালক বিআরটিসি’র। সার্পোটিং স্ট্যাফ হিসেবে, পার্টনার হিসেবে থাকেন এবং গাড়িটা পরিচালনা করেন চালক। রাজস্ব ডিপো ম্যানেজার সবার সাথে বসে নির্দিষ্ট করে।’

প্রতিমাসে বেতন ও মজুরি দিতে প্রয়োজন হয় ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেখানে আয় হয় ৬ কোটি টাকার কম। বিআরটিসি’র মাঠ পর্যায়ের সব ধরনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করা হয় ডিপো থেকে। প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম ও দুর্নীতি রুখতে সারাদেশে ২২ টি ডিপো ম্যানেজারকে একযোগে গণবদলী করা হয়েছিলো। কিন্তু সমাধান আসেনি। কারণ অজুহাত হিসেবে সমস্যার লম্বা তালিকা ডিপো ম্যানেজারদের হাতে। তাই দিনের পর দিন অব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠানটি এমন এক পর্যায়ে নেমে এসেছে যেখান থেকে সহজে উত্তরণের উপায় জানা নেই কারো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত